দক্ষিণ লেবাননের প্রধান শহর নাবাতিয়েহের নগর ভবনে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত ওই শহরের মেয়রসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে গাজায়ও নির্বিচারে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে সেখানে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
লেবাননের শহরে হামলায় মেয়রসহ ছয়জনের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে দুই নিরাপত্তা সূত্র। রয়টার্সের খবর বলছে, ইসরায়েলের হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। কিন্তু তারপরও হামলা কমাচ্ছে না তারা। গোটা বিষয়টির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
এসব হামলা বাদেও বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলীতে আঘাত হেনেছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র পরে জানিয়েছে, তারা লেবাননের রাজধানীতে আঘাত হানার বিরোধিতা করেছিল। রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীরা দুটি বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনেছে এবং পৃথক দুটি এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেছে।
বুধবার (১৬ অক্টোবর) প্রথমভাগে ইসরায়েল লেবাননের ওই অঞ্চলে জনসাধারণকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বলেও জানা যায়। তবে শুধু একটি ভবনে আঘাত হানা হবে বলে জানানো হয়েছিল।
বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলীতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, ওই এলাকাটি ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি। অনেক সময় তারা কোনো সতর্ক সংকেত দেওয়া ছাড়া হামলা চালিয়েছে। অনেক সময় এক এলাকায় সতর্ক সংকেত দিয়ে ভিন্ন এলাকায় আঘাত হানার ঘটনাও ঘটেছে।
সর্বশেষ হামলা প্রসঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বৈরুতের শহরতলী দাহিয়েহেতে হিজবুল্লাহর এক অস্ত্র মজুতে হামলা চালিয়েছে তারা। গাজা ও লেবাননে যাতে যুদ্ধবিরতি হয়, সে জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কিছু পশ্চিমা দেশ। গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সাম্প্রতিক হামলাগুলো নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ জানিয়েছে।
ইসরায়েলি হামলার কারণে ঝুঁকির মুখে রয়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে তা সব দেশেরই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। বৈশ্বিক বাণিজ্যেও চাপ তৈরি হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জর্ডান, মিসর ও তুরস্ক সফর করছেন। সেখানে তিনি কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করছেন। মূলত ওই দেশগুলোর সহায়তায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা নিরসন করতে চাইছে দেশটি। গতকাল বুধবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে।
গত এক বছরে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২ হাজার ৩৫০ জন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে প্রচুর নারী ও শিশু রয়েছে। অন্যদিকে আহত হয়েছেন প্রায় ১১ হাজার। এ ছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছে ১২ লাখ মানুষ। ওই একই সময়ে প্রায় ৫০ ইসরায়েলি মারা গেছেন, নিহতদের সামরিক ও বেসামরিক- দুই পক্ষই রয়েছে।
হিজবুল্লাহকে ধ্বংস করতে গিয়ে ইসরায়েল লেবাননে যে তাণ্ড চালাচ্ছে, তা মৃতের সংখ্যার মধ্য দিয়ে উঠে আসছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে রয়টার্স। সূত্র: রয়টার্স