রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের এক হাজারতম দিন পূর্ণ হলো। রাশিয়ার সঙ্গে লড়াইয়ে ক্লান্ত ইউক্রেনীয় সৈন্যরা। যুদ্ধক্ষেত্রে ক্লান্ত সৈন্যদের লড়াই এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জর্জরিত কিয়েভ। এরই মধ্যে দেশটির কর্মকর্তারা ২০২৪ সালে যুদ্ধ শেষ করার আশা করছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনকে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার অভ্যন্তরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অনুমতি দিয়েছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই পদক্ষেপ যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে যথেষ্ট নয় এবং জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের পর এই নীতি পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া স্থল, জল ও আকাশপথে ইউক্রেনে আক্রমণ চালায়। যা পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে বৃহত্তম সংঘাতে পরিণত হয়েছে। এই যুদ্ধে হাজার হাজার ইউক্রেনীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ শরণার্থী হয়ে দেশ ছেড়েছেন।
এই যুদ্ধে দেশটির জনসংখ্যা প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমে গেছে। সেনাবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক হলেও সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। পশ্চিমা গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, উভয়পক্ষের কয়েক লাখ সেনা হতাহত হয়েছেন।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও কীভাবে তা করবেন, তা স্পষ্ট করেননি। তার ক্ষমতা গ্রহণ ইউক্রেনে মার্কিন সামরিক সহায়তা ও পশ্চিমা ঐক্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। ইউক্রেন ও রুশ উভয়পক্ষই আলোচনার সম্ভাবনার আগে যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করছে।
ইরানের তৈরি ড্রোন এবং উত্তর কোরিয়ার গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের সহায়তায় রাশিয়া তাদের সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে। উত্তর কোরিয়ার ১১ হাজার সৈন্য রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে গেছে। যা এক লাখ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কিয়েভ।
অন্যদিকে, ইউক্রেন গত আগস্টে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলের একটি ছোট অংশ দখলে নিয়েছে। রাশিয়া সেই এলাকায় ৫০ হাজার সৈন্য মোতায়েন করেছে।
ভলোদিমির জেলেনস্কি আগামী বছরে কূটনৈতিক পথে যুদ্ধ শেষ করার কথা বললেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাকে তিনি নাকচ করে দিয়েছেন। রাশিয়া ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা বাদ দেওয়া এবং তাদের চারটি অঞ্চলের দাবি ছাড়ার শর্ত দিয়েছে। যা ইউক্রেনের কাছে আত্মসমর্পণের শামিল।
জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস সম্প্রতি পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে জেলেনস্কি নতুন কোনো মিনস্ক-স্টাইল আলোচনার বিরোধিতা করে বলেছেন, ‘‘আমাদের আসলে শান্তি প্রয়োজন, ‘মিনস্ক ৩’ নয়।’’ সূত্র: রয়টার্স
তাওফিক/অমিয়/