ইসরায়েল কর্তৃক ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক অন্যত্র স্থানান্তর করার বিষয়টি জঘন্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, তারা বিভিন্ন স্যাটেলাইট চিত্র, ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জোরপূর্বক স্থানান্তরের আদেশ এবং বিভিন্ন সময়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করেছে। এসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তারা মনে করে, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃত ফিলিস্তিনিদের স্থানান্তর করছে এবং পরবর্তী সময়ে ফিলিস্তিনিরা যাতে গাজার বড় অঞ্চলজুড়ে পুনরায় বসবাস করতে না পারে, তার সব ব্যবস্থাই চালিয়ে যাচ্ছে।
এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনের লেখিকা নাদিয়া হারডম্যান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইসরায়েলি বাহিনী গাজার পানি, স্যানিটেশন, যোগাযোগ, তেল এবং পরিবহন অবকাঠামোসহ হাসপাতাল ও স্কুলগুলোর অধিকাংশ ধ্বংস করে দিয়েছে এবং ক্রমাগত বাগান, খেত এবং গাছপালা নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে।’
হারডম্যান আরও জানান, ‘তারা এতটাই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে যে, গাজার বেশিরভাগ এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ভেতরে তিনটি ‘বাফার জোন’ গড়ে তুলতে চলেছে। যেখানে শহরগুলোর বিশাল অংশ ধ্বংস করা হচ্ছে এবং সেখানে ইসরায়েলি সামরিক রাস্তা ও স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে। যা পরবর্তী সময়ে স্থায়ীভাবে ফিলিস্তিনি অঞ্চল হিসেবে রূপ নেবে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এই বাফার জোনগুলোকে গাজা এবং ইসরায়েলের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছেন।
তবে, মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এ ধরনের ব্যবস্থা ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক স্থানান্তরের একটি বড় উদাহরণ।
ইসরায়েলি সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে অর্থবিষয়ক মন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল বলেছিলেন, গাজায় হামলা শুধু শহরগুলো ধ্বংস করার নয়, বরং এটাকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।
এই রিপোর্টে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ উল্লেখ করেছে, গাজার একজন নাগরিককেও জোরপূর্বক স্থানান্তর করা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বক্তব্য সেই উদ্দেশ্যকে সমর্থন করে। সূত্র: আল-জাজিরা
তাওফিক/অমিয়/