পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্য বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রশাসন। রাজ্যটির স্বাধীনতার দাবিতে বেশ কয়েকটি আত্মঘাতী হামলা ইতোমধ্যে সংঘটিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেন।
তবে এ বিষয়ে শেহবাজ বিস্তারিত কিছু জানাননি। হামলা স্থলপথে হবে নাকি আকাশপথে, তাও খোলাসা করা হয়নি বিবৃতিতে।
এদিকে চীনের সীমান্তবর্তী হওয়ায় আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েকবার চীনের নাগরিকদের আক্রমণ করেছে। তাই পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে ‘জঙ্গিবাদ দমনে’ যৌথ সামরিক অভিযানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন।
বুধবার (২০ নভেম্বর) পাকিস্তানের পরিকল্পনায় চীন অংশগ্রহণ করবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রণালয় সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সহযোগিতা করার মাধ্যমে চলমান সংকট সমাধানে আগ্রহ আছে বলে জানিয়েছে তারা।
এদিকে ইরান-অধ্যুষিত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সিস্তান ও বেলুচিস্তানে ইতোমধ্যেই সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) বিরুদ্ধে হামলার কথা জানানো হলেও অভিযান কবে শুরু হতে পারে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়নি।
পাকিস্তান সরকারের অভিযোগ, ‘বেসামরিক জনগণ ও বিদেশি নাগরিকদের আক্রমণ করে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে স্থবির করার পাঁয়তারা করছে তারা।’
বিএলএ বেশ কিছুদিন যাবৎ ইসলামাবাদের কাছে স্বাধীনতা দাবি করে আসছে। তাদের দাবি, পাকিস্তান সরকার তাদের রাজ্যের প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজসম্পদ লুট করছে।
গত ৯ নভেম্বর এই সংগঠনের একজন কোয়েটা রেলওয়ে স্টেশনে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়েছে। এতে পুলিশ ও বেসামরিক নাগরিকসহ মোট ২৬ জন নিহত হয়েছে।
এর আগে স্বাধীনতাকামী এই সংগঠনটি বেলুচিস্তানে চীনা প্রতিষ্ঠানের প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের বিরোধিতা করে হামলা করেছে।
পাকিস্তানে চলমান অস্থিতিশীলতা নিরসনে এই পদক্ষেপ কতটুকু কার্যকর হবে- এ বিষয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে বিভক্তি দেখা গেছে। কেউ কেউ সামরিক অভিযানের পক্ষে মন্তব্য করলেও অনেকেই সহিংস দমনের বিপক্ষে মতপ্রকাশ করেছেন। সূত্র: আল-জাজিরা
নাইমুর/অমিয়/