পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে যাত্রীবাহী গাড়িবহরে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৮ জন।
নিহতদের মধ্যে সাত নারী এবং ৯ বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে কুররাম জেলার মানদোরি চারখেল অঞ্চলে হামলার ঘটনা ঘটে।
এই অঞ্চলে আগেও ধর্মভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
জেলা প্রশাসক জাভেদুল্লাহ মেহসুদ বলেছেন, ২০০টি গাড়ি পারাচিনার থেকে পেশোয়ার যাওয়ার পথে রাস্তার দুপাশ থেকে নির্বিচারে গুলি করতে থাকে দুর্বৃত্তরা।
মূলত শিয়া যাত্রী বহনকারী দুটি গাড়িই তাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে গুলি করা হয়।
বেঁচে ফেরার পর আজমির হোসেন নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমার পাশের দুজন যাত্রী সঙ্গে সঙ্গে মারা গেছেন। আমি এখনো বুঝে উঠতে পারছি না কীভাবে কী হয়ে গেল।’
স্থানীয়দের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আহতরা হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন।
হামলার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট হওয়া না গেলেও ধর্মভিত্তিক বিভাজনের কারণে এই আক্রমণ হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
এর আগে ১২ অক্টোবর এ ধরনের আরেকটি হামলায় ১৫ জন প্রাণ হারান।
নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান এই আক্রমণের সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে আঞ্চলিক জমির বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
এ ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, বর্বরতার চরম উদাহরণ দেখিয়েছে হামলাকারীরা।
খাইবার অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন খান গান্দাপুর একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ছাড়া এই অঞ্চলে যানবাহনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা নিন্দা প্রকাশ করেছেন।
মজলিস ওয়াহদাত-ই-মুসলিমীন নামের সংগঠন দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।
তাদের দাবি, প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় উভয় সরকারের ব্যর্থতার কারণেই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে অঞ্চলটির বাসিন্দাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে সহিংসতা বন্ধের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী কুররাম জেলা জমির দখল ও ধর্মবিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটা সহিংসতার জন্য কুখ্যাত। স্থানীয় সরকার সমাধানের উদ্দেশ্যে ল্যান্ড কমিশন গঠন করলেও সহিংসতা কমেনি। সূত্র: দ্য ডন
নাইমুর/পপি/