তিব্বতে এভারেস্ট পর্বতের পাশে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৮৮ জন। ভূমিকম্পে এক হাজারের বেশি বাড়িঘর বিধ্বস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশের নেপাল, ভুটান, ভারতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল চীনের প্রত্যন্ত অঞ্চল টিংরি। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে ভূমিকম্প হয়।
চীনের ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক কেন্দ্রের দেওয়া তথ্যানুসারে, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১।
তবে যুক্তরাষ্টের ভূতাত্ত্বিক জরিপ বলছে, ভূমিকম্পটি ৭ দশমিক ১ মাত্রার ছিল।
ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে প্রায়ই দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের কিছু অংশ, নেপাল ও উত্তর ভারতে ভূমিকম্প হয়। এর আগে ২০১৫ সালে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। সে ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছিল ৯ হাজার মানুষের। আহত হয়েছিলেন হাজার হাজার। সে সময় মাউন্ট এভারেস্টের বেসক্যাম্পে থাকা ১৮ জন পর্বতারোহীও প্রাণ হারিয়েছিলেন। ভূমিকম্প থেকে তুষারধস হওয়ায় মারা যান তারা।
তবে এবারের ভূমিকম্পে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বেসক্যাম্প থেকে কোনো মৃত্যুর খবর আসেনি। শীতে এমনিতেও নেপালে পর্বতারোহীদের ভিড় কম থাকে। নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, একজন জার্মান পর্বতারোহী ছিলেন বেসক্যাম্পে। তবে তিনি ভূমিকম্পের আগেই ওই এলাকা ছেড়ে গেছেন।
নেপালের দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, তিব্বতের সীমান্তবর্তী সাতটি পর্বতাঞ্চলে কম্পন অনুভূত হয়েছে।
এনডিআরআরএমএর মুখপাত্র দিজান ভট্টারাই জানান, ‘আমরা এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণ বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাইনি। আমরা পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছি এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছি।’
এদিকে নেপালের সীমান্তবর্তী অনেক গ্রামই বেশ প্রত্যন্ত ও জনবহুল। সেসব স্থানে শুধু হেঁটে যাওয়া যায়।
ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে ভুটানের রাজধানী থিম্পু এবং ভারতের উত্তরের রাজ্য বিহারেও। ওই দুই দেশ থেকেও কোনো হতাহতের খবর আসেনি।
চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতে গতকাল ভূমিকম্পকবলিত স্থানগুলোতে উদ্ধার অভিযান শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। টিংরি অঞ্চলের গ্রামগুলো ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪-৫ হাজার মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। সেখানে দৃঢ় কম্পন অনুভূতি হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার বেশ কয়েকটি আফটারশকও হয়েছে।
সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিভিন্ন দোকানের সামনে ও সড়কে ভেঙে পড়া অংশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারকারী সিসিটিভিতে তিব্বতের সিগাতসে এলাকার বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে উদ্ধার কর্মীরা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তীব্র শীতের কারণে তাদের কাজে বিঘ্ন ঘটছে।
গতকাল দিনে তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে রাতে সেটা নেমে মাইনাস ১৬ ডিগ্রি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি, কাঠমান্ডু পোস্ট