দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োলের আটকের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছেন রাজধানী সিউলের পশ্চিম জেলা আদালত। গত শনিবার প্রথমবারের মতো আদালতে উপস্থিত হয়ে শুনানিতে অংশ নেন ইয়োল। এ সময় তদন্তকারীরা তার আটকের মেয়াদ বৃদ্ধি চেয়ে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
শুনানিতে ক্ষুব্ধ হয়ে বাইরে ইয়োলের সমর্থনে জড়ো হওয়া হাজার হাজার সমর্থক আদালতে হামলা চালান।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনের বরাতে এ খবর জানা গেছে।
অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইয়োল এই সপ্তাহে শুরুর দিকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দেশে সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তার আটকের মেয়াদ বৃদ্ধি করার পর রাত ৩টার দিকে প্রেসিডেন্টের সমর্থকরা ভবনের ভেতরে ছুটে যাওয়ার সময় জানালা এবং দরজা ভেঙে ফেলে।
এএফপির সাংবাদিকরা শত শত পুলিশ অফিসারকে আদালতে ঢুকতে দেখেন, পুলিশ বাহিনী কয়েক ডজনকে গ্রেপ্তার করে।
ইয়োল তার অভিশংসনের বিষয়ে সাংবিধানিক আদালতের রায় এবং বিদ্রোহের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্তের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত লড়াই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তদন্তকারীরা তাকে আরও ২০ দিনের জন্য আটক রাখতে পারবে বলে ঘোষণা করেন সিউল আদালত।
এএফপিকে আদালত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি মুক্তি পেলে প্রমাণ নষ্ট করতে পারেন বলে উদ্বেগ রয়েছে।
গত বছরের ৩ ডিসেম্বর ইয়োল দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক আইন ঘোষণা জারির প্রচেষ্টা করেন। পার্লামেন্টে সৈন্য মোতায়েনের পর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সংকটের সর্বশেষ ঘটনা এটি। তার সামরিক শাসন মাত্র মাত্র ৬ ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল। আইনপ্রণেতারা তার প্রচেষ্টাকে ভোটে বাতিল করে দেন। পরে তারা ইয়োলের প্রেসিডেন্সিকে অভিশংসন করেন এবং তাকে দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করেন।
সিউলের আদালতে ঘটনার পর ভারপ্রাপ্ত পুলিশপ্রধান লি হো-ইয়ং বলেন, এই সহিংসতার সঙ্গে যদি ডানপন্থি ইউটিউবাররা জড়িত থাকেন তবে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হবে। ইয়োলের আইনজীবী সিওক ডং-হিয়োন আদালতের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের সমর্থকদের পরিস্থিতি আরও খারাপ না করার জন্য সতর্ক করেছেন। সূত্র: এএফপি