ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অসুস্থ মেসির বাবা, গুজব ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরিবার গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া অবশেষে কাটল ভিসা জটিলতা, কানাডায় খেলতে পারবেন ওয়াহি বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই: ডগলাস সান্তোস বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জন্য ভিন্ন নিয়ম পেনাল্টি গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি মেনে নাও, মেসি সেরা: রোনালদো নাজারিও কেইনের প্রেরণা এমবাপ্পে-হালান্ড কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাইতির বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিলকে সুখবর দিল ফিফা ওয়ালটন পিসিবিএ'র রপ্তানি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খেল আইভরি কোস্ট, কানাডার ভিসা পেলেন না ওয়াহি মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা পরীমনির প্রেমে জড়িয়ে চাকরি গেল সাকলায়েনের

যে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে ট্রাম্পের নতুন প্রশাসন

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:১৫ এএম
যে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে ট্রাম্পের নতুন প্রশাসন
ছবি: সংগৃহীত

নিজের প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অদ্ভুত এক কূটনীতি সামনে নিয়ে এসেছিলেন। প্রকাশ্যেই তিনি উষ্ণ হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার দিকে। অন্যদিকে পৃথকভাবে চাপ তৈরি করেছিলেন ইরান ও চীনের ওপর। 

কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে এসে ওই একই কূটনীতি অনুসরণ করা হয়তো সম্ভব হবে না ট্রাম্পের পক্ষে। এবার তার জন্য অপেক্ষা করছে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা রাষ্ট্রগুলো এখন আরও ঐক্যবদ্ধ। ২০২২ সালে শুরু হওয়া ইউক্রেন যুদ্ধ তাদেরকে এই পরিস্থিতিতে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। 

ট্রাম্প গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি নির্বাচনি প্রচারের সময় থেকেই ঘোষণা দিয়ে এসেছেন যে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান হবে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির লাগাম টানা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার সময়টিতে চীনকে জবাব দেওয়া হবে।  

কিন্তু গত কয়েক বছরে সম্পর্কের সমীকরণ অনেকটাই বদলে গেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গড়ে তুলেছেন ‘সীমাহীন অংশীদারত্ব’। রাশিয়াকে সরাসরি অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করছে চীন, যা দেশটির ইউক্রেন যুদ্ধে টিকে থাকার পেছনে ভূমিকা রাখছে।

ট্রাম্পের শপথ নেওয়ার পর গত মঙ্গলবারও পুতিন ও শি নিজেদের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করা নিয়ে দীর্ঘ ফোনালাপ করেছেন। এ ছাড়া উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ২০২৪ সালের জুনে কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে রাশিয়া। ইরানের সঙ্গেও গত শুক্রবার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বৈরী মনোভাব পোষণকারী এই চার দেশের এভাবে একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলাকে চীনে নিযুক্ত বাইডেন প্রশাসনের দূত সম্প্রতি ‘অপবিত্র জোট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশ্লেষণকারীরাও বলছেন, ওই চার দেশের একত্র হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও তার অংশীদারদের জন্য ক্ষতি ছাড়া আর কিছু বয়ে আনবে না।  

ওয়াশিংটনভিত্তিক এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ড্যানিয়েল রাসেল বলেন, ‘ট্রাম্পের মূল দ্বিধা হলো রাশিয়ার সঙ্গে তিনি তাল মেলাতে চান, আবার বাণিজ্যেও তিনি চীনকে চাপে ফেলতে চান। যেখানে মস্কো ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক রাশিয়াকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সেভাবে জড়াতে দেবে না। আবার চীনও মার্কিন চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না।’  

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর পশ্চিম যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, তা অনেকটাই তারা পাশ কাটাতে পেরেছে চীনের সহায়তায়। চীন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনেছে। এ ছাড়া মস্কোর প্রতিরক্ষা শক্তিকে বলিষ্ঠ করতে পারে এমন কিছু রসদ বেইজিং সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে চীন বরাবরই সে অভিযোগ অস্বীকার করেছে। 

উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধে সেনাসদস্য ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে। পাশাপাশি দ্রুতগতিতে নিজেদের পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আঞ্চলিকভাবে ইসরায়েলের হামলায় দুর্বল হয়ে গেলেও ইরান তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা পুনরায় শুরু করতে পারে। 
ট্রাম্প প্রশাসনের সদস্যরাও চ্যালেঞ্জের বিষয়টি জানেন এবং তারা এই বাস্তবতাকে এরই মধ্যে স্বীকারও করে নিয়েছেন। 
শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব নেবেন মাইক ওয়াল্টজ। তিনি নভেম্বরেই ফক্স নিউজকে বলেছেন, চীন ইরানের কাছ থেকে স্বল্পমূল্যে তেল কিনছে। ইরান তা ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পাঠাচ্ছে রাশিয়ায়। সেগুলো পরে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত হানতে ব্যবহার করা হচ্ছে।’

গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটাই হলো চীন। এ ছাড়া রুবিও ‘বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতার’ জন্য মস্কো, তেহরান ও পিয়ংইয়ংকে অভিযুক্ত করেন। 

আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের এশিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জ্যাক কুপার ধারণা করছেন, ট্রাম্পের টিম চীনের বলয় থেকে অন্যান্য দেশকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করবে।

কুপার বলেন, ‘তারা হয়তো রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া ও ইরানকে চীনের কাছ থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করবে।’

তিনি আরও বলেন, পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে একটি এবং মস্কোর সঙ্গে আরেকটি চুক্তির চেষ্টা করা যেতে পারে বলে মনে করি আমি। 

ওবামা প্রশাসনে বাণিজ্য প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মাইকেল ফ্রোম্যান মনে করছেন, উত্তর কোরিয়ার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জড়িত হওয়ার জন্য যথেষ্ট কারণ নেই।

তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবেন বলে মনে করলেও উত্তর কোরিয়া এখন তাদের সঙ্গে জড়াবে কি না, তা অস্পষ্ট। কারণ দেশটি এখন রাশিয়া ও চীনের ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছে।  

রয়টার্সের বিশ্লেষণ বলছে, দেশগুলোর সম্পর্কে কিছুটা ফাটল দেখা যাচ্ছে। বাইডেন প্রশাসনের আমলে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত রবার্ট উড প্রশ্ন রেখেছেন, তেহরান মস্কোর ওপর সহায়তার জন্য নির্ভর করতে পারবে কি না? রাশিয়া যে মিত্রদের সেভাবে সহায়তা দিতে পারে না, সে বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। এক্ষেত্রে সর্বশেষ উদাহরণ হলো সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার। রাশিয়া সেভাবে শেষ মুহূর্তে তাকে সমর্থন দিতে পারেনি।

এ প্রসঙ্গে উড বলেন, আমি যদি ইরান হতাম, তা হলে দেখতাম রাশিয়া আসাদকে কীভাবে পরিত্যাগ করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হতাম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের ক্ষেত্রে ট্রাম্প আবার আগের মেয়াদের নীতি ফেরত নিয়ে আসতে পারেন। চেষ্টা করতে পারেন তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডের লাগাম টানতে।   

উডের মতে, নতুন প্রশাসনের জন্য অনেক কিছুই সহজ হবে, যদি নতুন প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগী হয়, যে মার্কিন সম্পদকে প্রথম মেয়াদে সে রকমভাবে মূল্যায়ন করেননি ট্রাম্প।

এদিকে, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য পুতিন আলোচনায় বসতে রাজি না হলে রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মোটা দাগে ট্রাম্পের কাছ থেকে যেসব আভাস মিলছে, তাতে তিনি পুতিনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই সব মিটিয়ে ফেলার পক্ষে। সূত্র: রয়টার্স 

 

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জরুরি সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) তাদের অংশীদারিত্ব নবায়ন করেছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইইউ অতিরিক্ত ১ দশমিক ৪ কোটি ইউরো অনুদান দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ তথ্য জানায় ইউএনএইচসিআর।

এই অর্থায়নের মাধ্যমে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশি আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে। এর আওতায় দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি হিসেবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটে এখন শুধু জরুরি সহায়তা নয়, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়ের সুযোগ তৈরির দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘এই সহায়তা কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণকে উপকৃত করবে এবং রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াবে, যাতে তারা মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।’

ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, ‘দীর্ঘ ৯ বছর ধরে কঠিন পরিস্থিতিতে থাকা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর জন্য ধারাবাহিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সহযোগিতা তাদের সুরক্ষা, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে সহায়ক হবে।’

২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবসের ঠিক আগে এ সহায়তা ঘোষণা করা হলো। এ দিবসটি সংঘাত ও সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের দৃঢ়তা ও মানবিক সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতি পুনর্ব্যক্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।

এসএন/

নেপালের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি চায় বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
নেপালের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি চায় বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান সেদেশের শিল্প, বাণিজ্য ও সরবরাহ মন্ত্রণালয়ের সচিব কৃষ্ণ বাহাদুর রাউতের সঙ্গে তার কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে অনিষ্পন্ন অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), বিদ্যমান বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত দুই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উভয় পক্ষ উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ভৌগোলিক নৈকট্য এবং সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমাণ এখনো সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম। বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সংযোগ উন্নয়ন এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে অধিকতর সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হন।

তারা আশা প্রকাশ করেন, অব্যাহত প্রচেষ্টা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশ–নেপাল অর্থনৈতিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে।

রবিউল /এসএন

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সংলাপের পরামর্শ জাতিসংঘের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সংলাপের পরামর্শ জাতিসংঘের
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। ছবি: সংগৃহীহ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্তে পুশইন সমস্যা সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক।

বুধবার (১৭ জুন) নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্টিফেন ডুজারিকের কাছে এক সাংবাদিক জানতে চান, বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে শত শত শিশু ও নারীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শিশুরা ক্ষুধায় কাঁদছে। নারীরা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব এই বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

জবাবে জাতিসংঘ মহসচিবের মুখপাত্র বলেন, ‘দেখুন, আমি মনে করি বিষয়টি দুই দেশের সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। এতে মানুষের মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি পূর্ণ সম্মান থাকতে হবে।’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নবনির্বাচিত সভাপতি বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। কয়েক মাস পরই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তিনি। অন্যদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এর আগে শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ পদে তাদের অবস্থানের ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত হবে কি না, এমন প্রশ্নও করা হয় মহাসচিবের মুখপাত্রকে।

জবাবে ডুজারিক বলেন, ‘সাধারণ পরিষদের সভাপতির ভূমিকা হলো সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা। তাই মহাসচিব এবং সাধারণ পরিষদের সভাপতির মধ্যে যে যোগাযোগ হবে, তা সাধারণ পরিষদ-সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করেই হবে। আর রোহিঙ্গাবিষয়ক কাজ চলতে থাকবে।’

এসএন/

আরেক ধাক্কা খেলেন মমতা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
আরেক ধাক্কা খেলেন মমতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই আপাতত বহাল থাকছেন বলে রায় দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিচারপতি কৃষ্ণা রাও তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আবেদনে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেন।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, ‘আবেদনকারীর পক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারির মতো কোনো প্রাথমিক ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন খারিজ করা হলো।’

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিরোধী পক্ষকে তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে। তার জবাব আবেদনকারীকে পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে দাখিল করতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৮ জুলাই। ফলে সেই সময় পর্যন্ত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পালন করবেন।

রায় প্রকাশের পর মুখ খুলেছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক সন্দীপন সাহা। 

তার দাবি, ‘আদালতের এই রায়ে আমাদের নৈতিক জয় হয়েছে। আমাদের বিধায়কের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।’

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃার হওয়ার পরও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। সেই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। 

প্রশ্ন ওঠে, বহিষ্কৃত একজন বিধায়ককে কীভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো?

বুধবার মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট এই বিষয়েই একাধিক প্রশ্ন তোলে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায়ে আদালত জানিয়ে দেয়, ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু দলের বিদ্রোহী শিবির সেই সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকার করে। 

প্রথমে ৫৮ জন এবং পরে ৬৫ জন বিধায়কের সমর্থনের দাবি তুলে তারা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করেন। সেই সংক্রান্ত চিঠি গ্রহণ করেন স্পিকার।

এই প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তোলেন আদালত। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানতে চান, তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রথম চিঠিটিকে কেন গুরুত্ব দেওয়া হলো না এবং কেন পরবর্তী চিঠিটি গ্রহণ করা হলো।

আদালতে জানানো হয়, বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ পেয়েছিলেন স্পিকার। 

বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এমন পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষকে ডেকে শুনানি করা উচিত ছিল। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

বিচারপতি আরও প্রশ্ন তোলেন, শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কি স্পিকার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, নাকি দলীয় অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন? 

তার মন্তব্য, ‘বিধায়কদের স্বাক্ষর জাল কি না, সেই প্রশ্নে আমি যাচ্ছি না। তবে যিনি প্রথম আবেদন করেছিলেন, তাকে শুনানির সুযোগ না দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা সঙ্গত, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি মানা জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগে ৭৮ জন বিধায়কের সমর্থনের দাবি করা হয়েছিল। সেই দাবির সত্যতা কতটা যাচাই করা হয়েছে? যদি স্পিকার ১ জুন বহিষ্কারের চিঠি পেয়ে থাকেন, তাহলে বহিষ্কৃত একজন ব্যক্তিকেই কীভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো?’

বুধবার আদালত রায় সংরক্ষণ করেছিল। বৃহস্পতিবার সেই রায় ঘোষণা করে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদে বহাল থাকবেন। সূত্র: আজতক

কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
মো. ইস্তিনাব মাহী। ছবি: সংগৃহীত

কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের সেন্ট জনস শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ইস্তিনাব মাহী (২৩) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় গত শুক্রবার রাত ১টা ৩২ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাহির বাড়ি চট্টগ্রামে। তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় অবস্থান করছিলেন।

নিহত মাহি চট্টগ্রামের মো. মহিব উল্লাহ ও পারভিন আক্তার দম্পতির সন্তান। ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং ২০২১ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি কানাডার মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফাউন্ডল্যান্ড-এর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয় পুলিশ সংস্থা রয়্যাল নিউফাউন্ডল্যান্ড কনস্ট্যাবুলারি (আরএনসি) জানায়, চার আরোহী নিয়ে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে সড়কের পাশের কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত চারজনকে হাসপাতালে নেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহীকে মৃত ঘোষণা করেন। গাড়িতে থাকা অন্য তিন আরোহী আহত হলেও তারা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত এবং চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এদিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মাহীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় কানাডায় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কমিউনিটি নেতারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন।

অন্তরা/