আরও তিন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিল ফিলিস্তিনের স্বাধীনতকামী গোষ্ঠী হামাস। গতকাল শনিবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে দুই জিম্মিকে এবং গাজা সিটিতে অন্য জিম্মিকে রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী প্রথম ধাপের চতুর্থ পর্যায়ে তাদের মুক্তি দিল হামাস। বিনিময়ে ইসরায়েল পরবর্তী সময়ে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ১৮০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩২ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
মুক্তি পাওয়া ইসরায়েলিরা হলেন- ইয়ারদেন বিবাস (৩৪), মার্কিন-ইসরায়েলি কিথ সিগেল (৬৫) ও ফরাসি-ইসরায়েলি অফার ক্যালদেরন (৫৩)। এর মধ্যে ইয়ারদেন বিবাসের স্ত্রী ও দুই সন্তান এখনো হামাসের হাতে জিম্মি রয়েছেন। ক্যালদেরনের দুই সন্তান এরেজ এবং সাহারকেও ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর বন্দি করা হলেও ওই মাসেই সংঘটিত প্রথম দফার বিনিময় চুক্তিতে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। ক্যালদেরনের মুক্তিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে টুইট করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। তিনি লিখেন, ‘ক্যালদেরন মুক্ত! আমি তার পরিজনদের এই অপরিসীম স্বস্তি এবং আনন্দের দিনে শুভেচ্ছা জানাই।’
প্রতিবারের মতো এবারও খান ইউনিস এবং গাজা উভয় স্থানে শত শত হামাস যোদ্ধাকে লাইনে দাঁড়িয়ে হস্তান্তর প্রক্রিয়া দেখতে ভিড় করা উৎসুক জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা গেছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের পাঁচজন ও তিন ইসরায়েলিসহ মোট আটজনকে মুক্তি দেয় হামাস। এর বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পায় ১১০ ফিলিস্তিনি। যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে (৬ সপ্তাহ) হামাস ৩৩ জন নারী, শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ ও আহত বন্দিকে মুক্তি দেবে। প্রতি বেসামরিক জিম্মির জন্য ইসরায়েল ৩০ জন এবং প্রতি সেনার জন্য ৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে। ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখ যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হওয়ার কথা।
ইসরায়েল যে ১৮৩ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিচ্ছে তাদের মধ্যে ১১১ জনকে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর বন্দি করা হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক হামাস এবং ফিলিস্তিন ইসলামিক জিহাদের কর্মীও আছেন। অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় রেড ক্রস কর্তৃক ফিলিস্তিনিদের হাতে বন্দি হস্তান্তরের সময় তাদের স্বাগত জানাতে ইসরায়েলের বাধা উপেক্ষা করে ব্যাপক মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। ইসরায়েলি পুলিশ এমন পরিস্থিতির আঁচ পেয়ে আগেই সেখানে তৎপরতা শুরু করে। পরে ভিড় সামলাতে না পেরে উপস্থিত জনতার ওপর টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে তারা।
এদিকে গাজায় যুদ্ধাহত ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য রাফা ক্রসিং পার হয়ে মিসরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই প্রক্রিয়া দেখভাল করছে। ইতোমধ্যে ২০ জনের বেশি আহত ব্যক্তি মিসরে প্রবেশ করেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন ক্যানসারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত বেসামরিক ব্যক্তিও রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর টানা ১৫ মাসের হামলার ফলে উপত্যকাটির প্রায় সব হাসপাতাল অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি