মেক্সিকো, কানাডা ও চীনের ওপর ব্যাপকহারে শুল্ক আরোপ করার ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধ সৃষ্টি হতে পারে। যে কারণে আমেরিকানরা কিছুটা ‘অসস্তি’ বোধ করতে পারেন বলে মন্তব্য করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এসব শুল্কারোপ বাণিজ্য বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতি আবার আগের মতো বাড়িয়ে দিতে পারে বলে ট্রাম্প জানান।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়।
রবিবার দিনের শুরুতে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একাধিক বার্তায় লিখেছেন, আমেরিকানরা তার শুল্কের কারণে, অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা ‘অসস্তি’ বোধ করতে পারেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য এটি হবে ‘উপযুক্ত মূল্য’।
ট্রুথ সোশ্যালে তিনি আরও লিখেছেন, ‘কিছু কষ্ট হবে কি? হ্যাঁ, হতে পারে (আর নাও হতে পারে!)। কিন্তু আমরা আমেরিকাকে আবারও মহান করে তুলব এবং এর জন্য উপযুক্ত মূল্য দিতে হবে, যা অবশ্যই দিতে হবে।’
বিশ্লেষকরা আশা করছেন, বাণিজ্য যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমিয়ে দিতে পারে এবং স্বল্পমেয়াদে ভোক্তামূল্য বৃদ্ধি করতে পারে। শুল্ক আরোপের ফলে মার্কিন ভোক্তাদের ব্যয় বাড়তে পারে। ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়ের অন্যতম কারণ ছিল।
এদিকে রবিবার সন্ধ্যায় ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটনে ফিরে আসার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ট্রাম্প জানান, এসব শুল্কারোপ করা প্রয়োজন। কারণ অভিবাসন এবং মাদক পাচার রোধ করতে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্পকে বাঁচাতে তার এটা করা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো কিছু স্বল্পমেয়াদি যন্ত্রণা অনুভব করবো, তবে মানুষ সেটা বুঝতে পারবে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় প্রতিটি দেশ দ্বারা ঠকেছে,’ তিনি বলেন।
এদিকে ট্রাম্পের শুল্কারোপের কারণে চীনের ইউয়ান, কানাডিয়ান ডলার এবং মেক্সিকান পেসোর দর বিশ্ব বাজারে ডলারের বিপরীতে নিচে নেমেছে। কানাডা ও মেক্সিকো মার্কিন তেলের শীর্ষ আমদানিকারক। তাদের ওপর শুল্কারোপের পর মার্কিন তেলের দাম এক ডলার বেশি বেড়েছে।
উত্তর আমেরিকার কোম্পানিগুলো নতুন শুল্কের কারণে ভীত, যা অটোমোবাইল, ভোক্তা পণ্য এবং জ্বালানি ক্ষেত্রের মতো শিল্পগুলোকে বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ‘এই ধরণের বাণিজ্যযুদ্ধ সব দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’ তারা আরও বলেন, এসব শুল্ক কানাডা ও মেক্সিকোকে মন্দা, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, স্থবির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উচ্চ বেকারত্বের দিকে ঠেলে দিতে পারে। সূত্র: রয়টার্স
তাওফিক/