তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচারে হামলার কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এটি যদি বর্বরতা না হয়, তাহলে আমি আপনার কাছে জানতে চাই বর্বরতা কোনটি?’
গত শুক্রবার ভোর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় অন্তত ২০ জন মারা গেছেন। অবরুদ্ধ উপত্যকাটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ১৮ মার্চ গাজায় যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর থেকে ১ হাজার ৫৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য আরও বলছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় অন্তত ৫০ হাজার ৯১২ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৮১ জন। গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তরের তথ্য বলছে, গাজায় মৃতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০। ইসরায়েলি হামলায় ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজদেরও তারা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
গাজার পরিস্থিতি ‘পুরোপুরি বিপর্যস্ত’ বলে জানিয়েছে ইউএন অফিস ফর দ্য কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স (ওসিএইচএ)। সংস্থাটির কর্মী ওলগা চেরেভকো সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, শুধু গত তিন সপ্তাহে চার লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ওসিএইচএর দেওয়া তথ্যানুসারে, গাজাজুড়ে ব্যাপক পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পানি সরবরাহ স্থাপনাগুলো ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক স্থানে ধ্বংস হয়ে গেছে। ধ্বংসলীলা এতই বিস্তৃত পরিসরজুড়ে হয়েছে যে ওসিএইচএ সব স্থাপনা ঠিক করে উঠতে পারেনি। বেশ কিছু পানির নলকূপ এমন এলাকায় পড়েছে যেখান থেকে বাসিন্দাদেরই সরে যেতে বলা হয়েছে।
গাজাজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে করে পানি সরবরাহ করার চেষ্টা করছে ওসিএইচএ। অনেক জায়গায় নির্ধারিত পানি বিতরণ পয়েন্টও তৈরি করেছে সংস্থাটি। পানির স্বল্পতার কারণে গাজাবাসীর নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিয়েছে। ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সব বন্ধ এবং রসদ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওসিএইচএ। সূত্র: আল-জাজিরা।