বিভিন্ন দেশের ওপর একের পর এক শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র যখন বিশ্ব-বাণিজ্যে নেতৃস্থানীয় অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে, বিপরীতে চীন আরও দৃঢ় পদক্ষেপে বিশ্বায়ন ও মুক্তবাণিজ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
দেশটির অর্থনীতিবিদরা জানান, বিশ্বজুড়ে দাপুটে অর্থনীতির বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বেইজিং তাদের অংশীদারত্ব দৃঢ় করছে।
সম্প্রতি চীনা সংবাদমাধ্যম সিএমজি জানায়, ৮ এপ্রিল থেকে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনথাও ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, সৌদি আরব, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আসিয়ানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিওকলে বৈঠক করেন। এসব আলোচনায় দেশগুলো কীভাবে নিজেদের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্যনীতির সঙ্গে সমন্বয় করা যায় এসব নিয়ে ফলপ্রসু কিছু সিদ্ধান্তে আসে।
চীন মনে করছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য যেন শুধু ধনী ও ক্ষমতাধর দেশগুলোর জন্য সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং বিশ্বনেতাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, ছোট-বড় সব দেশ যেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থেকে লাভবান হয়।
সম্প্রতি চায়না একাডেমি অব ম্যাক্রোইকোনমিক রিসার্চের গবেষক চাং ইয়ানশেং চায়না ডেইলিকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে তারা বর্তমান বাণিজ্য ব্যবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেজন্য তারা শুল্কযুদ্ধ শুরু করেছে। তবে এই যুদ্ধ ভবিষ্যতে মুদ্রা, আর্থিক এবং প্রযুক্তি যুদ্ধেও পরিণত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থাকে ভাঙার চেষ্টা করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘জঙ্গলের আইন’ (ল অব দ্য জাঙ্গল) এবং বল প্রয়োগ করে অন্য দেশের কাছ থেকে নিজেদের ঘাটতি পূরণ করতে চাচ্ছে।
অথচ মার্কিন ডলারের আধিপত্যের জন্য এই ঘাটতি প্রয়োজন ছিল মন্তব্য করে চাং বলেন, এটি এমন একটি চক্র তৈরি করেছে যেখানে ডলারের আধিপত্য বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্র একসময় বহুপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার নেতৃত্ব দিত। সেখান থেকে সরে তারা এখন প্রতিরক্ষামূলক এবং আত্মকেন্দ্রিক নীতির দিকে চালিত হচ্ছে।
এই গবেষক মনে করেন, চীনের প্রধান কাজ এখন এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা।
তিনি বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি এবং আরও বেশি উন্মুক্ত নীতিমালার ওপর জোর দিতে হবে। এতে চীন এমন একটি বাজারে পরিণত হবে যেখান থেকে গোটা বিশ্ব নতুন চাহিদা, ক্রয়াদেশ এবং প্রবৃদ্ধির সুযোগ পাবে।
এভাবে বিশ্বব্যাপী একটি ইতিবাচক চক্র সৃষ্টি হবে বলে বিশ্বাস করেন চাং। তিনি মনে করেন, চীনের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর সম্পর্ক যত ঘনিষ্ঠ হবে, বিশ্বও ততো সমৃদ্ধ হবে। অবকাঠামোগত সংযোগ যত মজবুত হবে, ততই সমন্বিত উন্নয়ন সম্ভব হবে।
তবে এক্ষেত্রে চীনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হবে। সূত্র: সিএমজি
দিনা/অমিয়/