পাহালগামে ভয়াবহ হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে এখন চূড়ান্ত উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিভিন্ পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত।এরপর ভারতের এসব পদক্ষেপকে একতরফা, অন্যায়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মারাত্মক দায়িত্বহীন এবং আইনি যোগ্যতা বিবর্জিত বলে অভিহিত করে পাকিস্তানও এক গুচ্ছ পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে।
পাল্টাপাল্টি এসব পদক্ষেপে দেশ দুটির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
পাকিস্তান সবচেয়ে জোরালো যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা হলো, ১৯৭২ সালের শিমলা চুক্তি স্থগিত। একই সঙ্গে ওয়াগা সীমান্ত বন্ধ করে তারা জানায় , এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। ভারত থেকে সব এই রুট দিয়ে সব ট্রানজিট স্থগিত থাকবে, ব্যতিক্রম ছাড়া। যারা বৈধ অনুমোদন নিয়ে ওই সীমান্ত অতিক্রম করেছেন তাদেরকে আগামী ৩০শে এপ্রিলের মধ্যে ফিরে যেতে ডেডলাইন বেধে দেয়া হয়।
এছাড়া সিন্ধু নদের পানি চুক্তি স্থগিত রাখার ভারতীয় ঘোষণাকে পাকিস্তান জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করে উল্লেখ করে, এই চুক্তিতে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা আছে। এটা একতরফাভাবে স্থগিত করার কোনো বিধান নেই। এই পানি হলো পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এটা দেশের ২৪ কোটি মানুষের প্রাণ। যেকোনো মূল্যে এই অধিকার সুরক্ষিত রাখা হবে।
এই নদীর পানি প্রবাহকে বন্ধ করার বা ভিন্ন পথে প্রবাহিত করা এবং ভাটিতে থাকা মানুষদের অধিকার হরণের যেকোনো চেষ্টাকে অ্যাক্ট অব ওয়ার বা যুদ্ধ বলে গণ্য করা হবে। তাই এর জবাবে পাকিস্তান সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতেও দ্বিধা করবে না।
এছাড়া সার্কের অধীনে ভারতের নাগরিকদের সার্ক ভিসা এক্সেমশন স্কিমের (এসভিইএস) সব ভিসা স্থগিত করেছে পাকিস্তান। শিখ ধর্মাবলম্বী বাদে অন্যদের ক্ষেত্রে এই স্থগিতাদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এ সম্পর্কিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, এসভিইএসের অধীনে যেসব ভারতীয় বর্তমানে পাকিস্তানে রয়েছেন তাদেরকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পাকিস্তান ত্যাগ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শুধু শিখরা এর বাইরে থাকবেন। ইসলামাবাদে ভারতের প্রতিরক্ষা, নৌ ও আকাশ বিষয়ক উপদেষ্টাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। তাদেরকে ৩০শে এপ্রিলের ভেতর পাকিস্তান ত্যাগ করতে বলা হয়। এসব উপদেষ্টার যেসব সাপোর্ট স্টাফ আছেন, তাদেরকেও ভারতে ফিরে যেতে বলা হয়।
একই সঙ্গে বলা হয়, ইসলামাবাদে ভারতীয় হাই কমিশনে কূটনীতিক এবং স্টাফ সংখ্যা ৩০ এপ্রিল থেকে ৩০ এ নামিয়ে আনতে হবে। আবার ভারত মালিকানাধীন অথবা ভারত পরিচালনা করে এমন এয়ারলাইন্সের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
আরও জোর দিয়ে বলা হয়, যেকোনো মিসঅ্যাডভেঞ্চারের বিরুদ্ধে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষায় পাকিস্তান ও তার সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি সক্ষম এবং প্রস্তুত রয়েছে।
দিনা