রাজনৈতিক কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ক্রমেই অশান্ত ও অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। কারণ রাজনীতিকরা তাদের স্বার্থে ভৌগোলিক, জাতিগত, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সীমানা সৃষ্টি করেছেন। এ কারণে শান্তির লীলাভূমি দক্ষিণ এশিয়া অশান্ত হয়ে উঠেছে। গতকাল শুক্রবার ভারতের রাজস্থান রাজ্যের রাজধানী জয়পুরের এপেক্স ইউনিভার্সিটিতে সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের যৌথ উদ্যোগে ‘দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতায় গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন বক্তারা।
সম্মেলনে সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি রাজু লামা বলেন, ‘আজ আমরা যখন দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি নিয়ে আলোচনা করছি তার কয়েক দিন আগে ভারতের কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলায় নিরীহ পর্যটকরা নিহত হলেন। এসব ঘটনা কাভার করা সাংবাদিকদের জন্য চ্যালেঞ্জের। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিকরা এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন। তারা দক্ষিণ এশিয়ার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেননি।
সম্মেলনে এপেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. প্রফেসর সমদেব সাতাংশু বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সাংঘর্ষিক রাজনীতির কারণে অশান্তি বেড়ে চলেছে। এতে ঐতিহ্যগতভাবে শান্তির বার্তা দেওয়া এই অঞ্চলটি সম্পর্কে বিশ্বে নেতিবাচক ধারণা পৌঁছাচ্ছে। এ অবস্থায় শান্তির লীলাভূমি হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার পূর্ব ঐতিহ্য সাংবাদিকরা তুলে ধরতে পারেন। এ ছাড়া রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তুলতে সাংবাদিকরা ট্র্যাক-টু ডিপ্লোম্যাসির ভূমিকা নিতে পারেন।
সম্মেলনে এপেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. খেমরাজ চৌধুরী বলেন, সার্কের ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এর সুফল মিলছে না। তিনি বলেন, রাজনীতিকদের পাশাপাশি সার্ক দেশগুলোর সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়িকসহ নানা ফ্রন্টে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে এবং এ লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। এতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জনগণ শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাজনীতির বাইরে গিয়ে কাজ করার সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ভারতের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়টি তুলে ধরা যেতে পারে।
সম্মেলনে সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের ভারতীয় অংশের সভাপতি স্মিতা মিশ্রা বলেন, সার্ক দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক যে সীমারেখা গড়ে উঠেছে সেগুলো ভেঙে দিতে হবে এবং সহযোগিতা বাড়াতে হবে। না হলে হাজার বছরের শান্তির বার্তাবাহক দক্ষিণ এশিয়া সমস্যার সমাধান পাবে না।
দুই দিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের শেষ দিনে আজ শনিবার সার্ক ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হবে। সম্মেলনে সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কাসহ অন্যান্য সদস্য দেশ থেকে সাংবাদিকরা অংশ নেন।