বাংলাদেশের পর্যটক কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীরা। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার এই ব্যস্ততম এলাকায় ছিল বেশির ভাগ বাংলাদেশি পর্যটকের বিচরণ। এখানে তুলনামূলক কম খরচে থাকা-খাওয়ার হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ কোনাকাটা করার জন্য দোকানপাট রয়েছে, যেগুলো প্রধানত বাংলাদেশি পর্যটকনির্ভর।
গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশি ক্রেতা না পেয়ে এই এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক ধস নামে। গত আট মাসে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার প্রায় ৩০ ভাগ ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে।
কলকাতার নিউ মার্কেটের প্রায় এক বর্গকিলোমিটার এলাকায় মাঝেমধ্যে বাংলাদেশিদের দেখা মেলে, যারা সেখানে চিকিৎসা করাতে গেছেন। অথচ ৫ আগস্টের আগে সারা বছরই কলকাতার এই এলাকার অধিকাংশ রাস্তা, আবাসিক হোটেল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছিল বাংলাদেশিদের ভিড়। এখন এই এলাকায় অল্প কিছু ভারতীয়র দেখা মিললেও বাংলাদেশিদের দেখা পাওয়া যায় না বললেই চলে।
কলকাতার মারকুইস স্ট্রিটের ইমিটেশন গহনার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে এখানকার ব্যবসায় মন্দা শুরু হয়ে এখন পরিস্থিতি আরও খারাপ। বাংলাদেশি না আসায় এখন ব্যবসা শূন্যের কোঠায়। ৫ আগস্টের আগে তার প্রতিদিন ৭-৮ হাজার টাকার বিক্রি ছিল। বিক্রি না হওয়ায় কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
মারকুইস এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী সাব্বির সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, এভাবে চললে অনেককে ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে।
নিউ মার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সেখানকার ফুটপাতের রমরমা ব্যবসার সেই আগের অবস্থা আর নেই। প্রায় অর্ধেক ফুটপাতের ব্যবসায়ী পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার প্রধান ক্রেতা ছিলেন বাংলাদেশিরা। তাই বাংলাদেশিদের ভিসা বন্ধ হওয়ার পর থেকে এখানকার ব্যবসা কমতে থাকে। আর এখন খরচ পুষিয়ে উঠতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিন লোকসান দিয়ে আর কুলিয়ে উঠতে না পেরে অনেকেই ব্যবসা পরিবর্তন করছেন।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কবে ভালো হবে বা বাংলাদেশে কবে নির্বাচন হবে, সেদিকে তাকিয়ে আছেন কলকাতার ব্যবসায়ীদের অনেকেই।