কাশ্মীরের পাহালগামে হামলার পর দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত- পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর হামলার আশঙ্কায় পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সব মাদ্রাসা ১০ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষ জানায়, নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে নিরীহ শিক্ষার্থীরা কোনো ধরণের ঝুঁকিতে না পড়ে। কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার পর ভারত থেকে সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওইয়া হয়েছে।
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সরকার বৃহস্পতিবার ( ১ মে) জানায়, অঞ্চলটির সব ধর্মীয় মাদ্রাসা ১০ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ধর্মবিষয়ক দপ্তরের পরিচালক হাফিজ নাজির আহমাদ রয়টার্সকে জানান, নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ভারতীয় বাহিনী মাদ্রাসাগুলোকে জঙ্গি প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে টার্গেট করতে পারে।
রয়টার্সের প্রাপ্ত একটি নোটিশে দেখা যায়, ৩০ এপ্রিলে জারি করা ওই নির্দেশনায় শুধু তাপপ্রবাহের কারণেই মাদ্রাসাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে আহমাদ বলেন, ‘আমরা এখন দুই রকমের উত্তাপের মুখোমুখি— একদিকে আবহাওয়ার, অন্যদিকে (ভারতের প্রধানমন্ত্রী) মোদির চাপ। তাই আতঙ্ক এড়াতে ভারতীয় হামলার আশঙ্কার কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।’
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে অতীতে ভারত কাশ্মীর সীমান্তবর্তী এলাকায় ইসলামপন্থী জঙ্গিদের ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত করে পাকিস্তানের ভেতরে অভিযান চালিয়েছে।
আহমাদ আরও বলেন, গত বুধবার একটি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, নিরীহ শিশুদের ঝুঁকিতে ফেলা যাবে না। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও জানায়, ‘সতর্কতামূলক কারণেই’ মাদ্রাসা বন্ধ রাখা হয়েছে।
ধর্মবিষয়ক দপ্তরের তথ্যমতে, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নিবন্ধিত মাদ্রাসার সংখ্যা ৪৪৫টি, যেখানে ২৬ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
স্থানীয়ভাবে মাদ্রাসা নামে পরিচিত এই ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ধর্মীয় সংগঠন দ্বারা পরিচালিত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মিত স্কুলের তুলনায় সস্তা বা বিনা মূল্যে শিক্ষা দিয়ে থাকে।
পাকিস্তান জানায়, ভারতের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের ‘কড়া’ জবাব দেওয়া হবে, যা পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
হিমালয় অঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীর অঞ্চলটিকে ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশই নিজেদের বলে দাবি করে। বর্তমানে তারা এটিকে ভাগাভাগি করে শাসন করছে। অতীতেও এনিয়ে দুই দেশের মধ্যে একাধিক যুদ্ধ এবং সংঘর্ষ হয়।
অনেক ভারতীয় কাশ্মীরি মুসলমান দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কঠোর দমননীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ। ১৯৮৯ সালে অঞ্চলটিতে মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিদ্রোহ শুরু হয়। এর জবাবে ভারত কাশ্মীরে বিপুল সেনা মোতায়েন করে এবং তারপর থেকে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হন। সূত্র: রয়টার্স
দিনা