যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে অবাঞ্ছিত সংগঠন ঘোষণা করেছে রাশিয়া। সোমবার রাশিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেলস অফিস এই ঘোষণা দেয়।
সোমবার ( ১৯ মে) বার্তা সংস্থা পলিটিকো এক প্রতিবেদনে এই খবর জানায়।
এক বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেলস অফিস দাবি করে, অ্যামনেস্টি ইউক্রেনের পক্ষাবলম্বন করছে এবং তাদের কার্যক্রম রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। প্রসিকিউটরের দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, লন্ডনভিত্তিক এই সংস্থার অফিস রুশবিরোধী বৈশ্বিক প্রকল্পের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে।
রাশিয়ার অভিযোগ, অ্যামেনেস্টি ইউক্রেনের কথিত অপরাধগুলোকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং রাশিয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। পাশাপাশি সংস্থাটি যুদ্ধে উত্তেজনা বাড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
১৯৬১ সালে লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য কারাবন্দি ব্যক্তিদের ‘বিবেকের বন্দি’ হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে।
রাশিয়ার ‘অবাঞ্ছিত সংগঠন’ আইনের আওতায়, কোনও রুশ নাগরিক যদি এই তালিকাভুক্ত সংগঠনের সঙ্গে কাজ করেন বা তাদের অর্থায়ন করেন, তবে তার পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
রাশিয়ায় আগেও ২০১৫ সাল থেকে মস্কো কয়েক ডজন বিদেশী দাতব্য সংস্থা, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এবং নির্দিষ্ট কিছু মতাদর্শের অধিকারী গোষ্ঠীকে 'অবাঞ্ছিত' ঘোষণা করে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার-নিয়ন্ত্রিত সম্প্রচার সংস্থা রেডিও ফ্রি ইউরোপ/রেডিও লিবার্টি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন গ্রিনপিস।
এছাড়া একটি আইন পাস করে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমালোচক গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার অনুমতি দিয়ে অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন বাড়িয়ে দেয়।
অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অতীতে ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়ার অভ্যন্তরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং বিরোধী রাজনীতিকদের ওপর দমন-পীড়ন নিয়ে একাধিকবার রাশিয়ার সমালোচনা করেছিল।
এ বিষয়ে অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্র: ইউরো নিউজ
সুলতানা দিনা/