যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া গতকাল বুধবার প্রকাশ্যেই বাগযুদ্ধে জড়িয়েছে। এমন একটি সময় দুই দেশের এ বিবাদ সামনে এল, যখন ইউক্রেনজুড়ে হামলা হচ্ছে। কোনো অগ্রগতি নেই যুদ্ধবিরতির আলোচনা নিয়েও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগুন নিয়ে খেলছেন।
তবে মস্কো এসব কথায় খুব একটা কান দিচ্ছে না। তারা ইউক্রেনের এক অঞ্চলের কাছে ৫০ হাজার সেনা জড়ো করেছে। ইউক্রেন ও রাশিয়া একে অপরকে লক্ষ্য করে হামলার মাত্রাও বাড়িয়েছে। দুই পাশ থেকেই ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে।
ট্রাম্প গতকাল বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, পুতিন আগুন নিয়ে খেলছেন এবং রাশিয়ার সঙ্গে অনেক খারাপ কিছু হয়ে যেত, যদি না ট্রাম্প থাকতেন। এদিকে রাশিয়ার শীর্ষ সুরক্ষা কর্মকর্তা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ট্রাম্পের সমালোচনাকে খারিজ করে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মেদভেদেভ লিখেছেন, ‘পুতিনের আগুন নিয়ে খেলা ও রাশিয়ার খারাপ কিছু হওয়া নিয়ে ট্রাম্প যা বলেছেন, সে বিষয়ে বলতে চাই যে একটিই খারাপ কিছু হওয়ারই আছে, আর তা হলো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। আশা করি, ট্রাম্প তা বোঝেন।’
ট্রাম্পের দূত কিথ কেলগ গতকাল মেদভেদেভের পোস্টটিকে বেপোরোয়া বলে অভিহিত করেন। কেলগ এক্সে বলেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয় দেখানো দুর্ভাগ্যজনক ও বেপরোয়া মন্তব্য এবং একটি বিশ্ব শক্তির এমন করা মানায় না।
১৯ মে ট্রাম্পের সঙ্গে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় আলাপ করেছিলেন পুতিন। সে সময় তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে রাজি হন, যা শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকে নিয়ে যাবে দুই পক্ষকে। এমনকি যুদ্ধবিরতির সময় নির্ধারণের কথাও হয়েছিল তাদের মধ্যে।
কেলগ বলেছেন, রাশিয়ার কাছ থেকে ওই সমঝোতার খসড়া পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে ওয়াশিংটন। এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার বিষয়ে শিগগিরই ঘোষণা দেবেন তারা।
ড্রোন হামলা
এদিকে ইউক্রেন ও রাশিয়া একে অন্যকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানান, তারা ২৯৮টি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছেন। অন্যদিকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাশিয়া ৮৮ বার ড্রোন ও পাঁচবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
ইউক্রেনের বাহিনীকে রাশিয়ার কারস্ক অঞ্চল থেকে পিছু হটিয়ে দেওয়ার পর রুশ বাহিনী সুমি অঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রাম দখলে নিয়েছে। সেখানে এখনো তাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া উত্তরের সুমি অঞ্চলের কাছে ৫০ হাজার সেনা জড়ো করেছে। তবে কিয়েভ মস্কোকে বড় হামলা চালানো থেকে বিরত রাখতে পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পুতিন এর আগে একাধিকবার বলেছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া সীমান্তে বাফার অঞ্চল চান তিনি।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলুস্লভ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সামরিক জোট ইউক্রেন সংকটের দোহাই দিয়ে পুরো পূর্ব ইউরোপ ও বাল্টিকজুড়ে নিজেদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে। তবে রাশিয়া ইউক্রেনের সব ফ্রন্টে অগ্রসর হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর একটি শর্ত হিসেবে ন্যাটোর সম্প্রসারণ বন্ধ চান। পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর থেকে বেশ কিছু উঠিয়ে নেওয়ারও শর্ত রয়েছে তার। বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত এক সূত্র এ তথ্য জানায়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, তিনি এ সংঘাতের অবসান চান। বেশ কয়েকবার দুই পক্ষকে চাপ দেওয়ারও চেষ্টা করেছেন তিনি। তবে দিন শেষে তার কোনো পন্থাই সে রকম প্রভাব ফেলতে পারছে না। পুতিন কথা শুনছেন না। সূত্র: রয়টার্স