ফিলিস্তিনের অধিকৃত ওয়েস্ট ব্যাংকে নতুন ২২টি ইহুদি বসতির অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ এই ঘোষণা দেন।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, ‘এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হচ্ছে এই অঞ্চলের উপর ইসরায়েলের দখল মজবুত করা এবং একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে ব্যর্থ করা। সম্ভাব্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ইসরায়েলের জন্য হুমকি।’
এছাড়া ইসরায়েয়েলের অর্থমন্ত্রী স্মোত্রিচ এটিকে এক প্রজন্মের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘পরবর্তী ধাপ—সম্পূর্ণ সার্বভৌমত্ব!’
ইসরায়েলের সেটেলমেন্ট বিরোধী সংগঠন পিস নাউ জানায়, গত তিন দশকের মধ্যে এটিই বসতি সম্প্রসারণের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। তাছাড়া আন্তর্জাতিক আইনে এমন বসতি স্থাপন সম্পুর্ণ অবৈধ।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) ইসরায়েয়েলের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায়।
এদিন এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ, যিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন, তাদের নেতৃত্বের প্রশংসা করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তকে ‘একটি পদক্ষেপ যা এই এলাকার চেহারা বদলে দেবে এবং আগামী বছরগুলিতে বসতির ভবিষ্যৎ গঠন করবে’ বলে অভিহিত করা হয়।
এর আগে এই বসতিগুলো ‘আউটপোস্ট’ হিসেবে বিদ্যমান ছিল, তবে এবার সেগুলোকে ইসরায়েলি আইনের আওতায় বৈধতা দেওয়া হলো । আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ বিবেচিত হলেও ইসরায়েল তা মানে না।
এদিকে,ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ বলে আখ্যা দিয়েছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনা বলেন, ‘এই উগ্র ডানপন্থি সরকার যে কোনও মূল্যে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে।‘
এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, অনুমোদিত নতুন বসতিগুলোর মধ্যে রয়েছে উত্তর সামারিয়ার হোমেশ ও সা-নুর। ২০০৫ সালে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময় এই দুটি বসতি ছেড়ে দিয়েছিল ইসরায়েল।
এরপর ২০২২ সালে হোমেশে একটি ইহুদি ধর্মীয় স্কুল ও অননুমোদিত আউটপোস্ট গড়ে তোলে বসতির পক্ষে কাজ করা একটি গোষ্ঠী, যেটি এখন বৈধতা পাচ্ছে। আরেকটি বসতি গড়ে তোলা হবে নাবলুসের কাছে এবল পাহাড়ে।
পিস নাউ-এর পরিচালক লিওর আমিহাই বলেন, ইসরায়েলি সরকার এখন আর ছলচাতুরি করছে না। এবার বসতি সম্প্রসারণ ও দখলদারিত্বই তাদের মূল লক্ষ্য।
এদিকে রাজনীতি বিশ্লেষকেরা এই ঘোষণাকে দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক শান্তি সমাধানের প্রচেষ্টার ওপর বড় আঘাত বলে মনে করছেন ।
জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত আইসিজে গত বছর জানায়, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের উপস্থিতি অবৈধ। ইসরায়েলের সব বসতি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে গড়ে তোলা হয়েছে এবং এসব যত অনতিবিলম্বে সরিয়ে নিতে হবে।
তবে তখনই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু একে ‘মিথ্যার রায়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তার ভাষায়, ‘ইহুদি জাতি তাদের নিজভূমিতে দখলদার নয়।’
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এবং রয়টার্স
সুলতানা দিনা/