ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
১৯ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ট্রাম্পের এক প্রকার আত্মসমর্পণ চুক্তির পরও অমীমাংসিত ইস্যু ১৯ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সিয়াটলে স্বাগতিকদের সামনে অস্ট্রেলিয়া চ্যালেঞ্জ ট্রাম্পের ধন্যবাদ পুতিন-শিকে তবু হাইতিকে নিয়ে সতর্ক ব্রাজিল কেমন গেল বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড ১৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি স্কটিশদের হিসাব মেলানোর রাত পুলিসিচকে ঘিরে উদ্বেগ লাল কার্ডের পর বসনিয়ার জালে সুইজারল্যান্ডের গোল উৎসব অসুস্থ মেসির বাবা, গুজব ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরিবার গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া অবশেষে কাটল ভিসা জটিলতা, কানাডায় খেলতে পারবেন ওয়াহি বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই: ডগলাস সান্তোস বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জন্য ভিন্ন নিয়ম পেনাল্টি গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি মেনে নাও, মেসি সেরা: রোনালদো নাজারিও কেইনের প্রেরণা এমবাপ্পে-হালান্ড কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই

পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলা: ইরানের জবাব

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৫, ০৯:২৫ এএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৫, ০৩:১৬ পিএম
পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলা: ইরানের জবাব
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফিকস

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানের রাজধানী তেহরানে পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাকে মূল লক্ষ্যবস্তু করে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

ইরানের স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৩ জুন) ভোর ৪টার দিকে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। 

ইসরায়েলের ২০০ যুদ্ধবিমান ইরানের ১০০ লক্ষ্যবস্তুতে (স্থাপনা) হামলা চালায়। হামলায় ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। 

অন্যদিকে ইরানও শুক্রবার পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে ও জেরুজালেমে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে জবাব দিয়েছে ইরান। 

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও অন্যান্য সামরিক ঘাঁটি। তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের কাছে এত বেশি পরিমাণে পরমাণু উপাদান মজুত রয়েছে, যা দিয়ে তারা কয়েক দিনের মধ্যেই পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে পারত।’

ইসরায়েলের হামলার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি বলেছেন, এই হামলা ইসরায়েলের ‘বর্বর স্বভাবের প্রমাণ’। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল নিজেই নিজের জন্য একটি করুণ পরিণতির পথ তৈরি করেছে, যার ফলাফল তারা নিশ্চিতভাবেই ভোগ করবে।’ সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, ইসরায়েলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম থেকে সেই হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। হামলার ফলে সেখানে ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে দেখা গেছে। ইরানের একজন সিনিয়র মন্ত্রী বলেছেন, ‘বিশ্বের কোথাও ইসরায়েলিরা নিরাপদ থাকবে না। আমাদের প্রতিশোধ হবে বেদনাদায়ক। আমাদের কমান্ডার, পরমাণু বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষ হত্যার জন্য তাদের চড়া মূল্য দিতেই হবে।’ 

ইরানি গণমাধ্যম দাবি করছে, ইরানের রাজধানী তেহরানের আবাসিক এলাকাগুলোতে বিস্ফোরণ হয়েছে এবং নিহতদের মধ্যে সাধারণ মানুষও রয়েছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরজুড়ে বিস্ফোরণের চিহ্ন, ধ্বংসস্তূপ আর আতঙ্কের চিত্র ফুটে ওঠে। 

হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি, রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডার হোসেইন সালামিসহ ২০ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও অন্তত ছয়জন পরমাণু বিজ্ঞানীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইরান।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির কেন্দ্রে আঘাত হানা হয়েছে।’ রাজধানী তেহরান থেকে ২২৫ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর নাতাঞ্জ এলাকায় পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা জানান তিনি। এটিকে পরমাণু সমৃদ্ধকরণের মূল এলাকা হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইরানি বোমা বানানোর সঙ্গে জড়িত’ বিজ্ঞানীরা তাদের নিশানায় রয়েছেন। যতদিন প্রয়োজন, ততদিন এ হামলা অব্যাহত থাকবে। 

ইরানি সংবাদমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটির প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নাতাঞ্জসহ কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণ ঘটেছে। 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নুর নিউজ বলছে, ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ৭৮ জন নিহত ও ৩২৯ জন আহত হয়েছেন। ইরানে হামলার পর পরই ‘পাল্টা হামলার শঙ্কায়’ নিজ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে ইসরায়েলি সরকার। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডিফ্রিন জানিয়েছেন, ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে ১০০টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান। সব ইরানি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। 

সংবাদদাতারা বলছেন, এর আগে ইরান ও ইসরায়েলের মাঝে পাল্টাপাল্টি হামলা দেখা গেলেও ইরানের মাটিতে এমন সরাসরি সামরিক অভিযান ইরান-ইরাক যুদ্ধের পর এবারই প্রথম ঘটল।

এদিকে ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। না হলে আরও ‘ভয়াবহ হামলার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

তেল আবিব বলছে, তেহরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে একটি দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের শুরু হিসেবে এই হামলা চালাল তাদের সামরিক বাহিনী।

হামলা শুরুর কিছুক্ষণ পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “আমরা ইসরায়েলের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি। কিছুক্ষণ আগে শুরু হয়েছে ইসরায়েলের ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’। আমাদের এই সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ইরানি হুমকি প্রতিরোধ করা। যতদিন না এই হুমকি বন্ধ হচ্ছে, ততদিন এ অভিযান চলবে।”

২০ সামরিক কর্মকর্তা ও ৬ পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত 

ইসরায়েলের হামলায় ইরানে ২০ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও ৬ পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন। যাদের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিতভাবে পাওয়া গেছে তারা হলেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার হোসেইন সালামি, খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের কমান্ডার। ১৯৮০ সালে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডে যোগ দিয়েছিলেন বাঘেরি। পর্যায়ক্রমে তিনি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নেতা হয়ে ওঠেন।

পরমাণু বিজ্ঞানীদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত নাম ফেরেয়দুন আব্বাসি। তিনি ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা এইওআইয়ের সাবেক প্রধান ছিলেন। আরও নিহত হয়েছেন মোহাম্মদ মাহদি তেহরানচি। তিনি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তেহরানের ইসলামিক আজাদ ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নিহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন আব্দোলহামিদ মিনৌচেহর, আহমাদ রেজা জোলফাঘারি ও আমিরহোসেইন ফেকহি। তারা সবাই তেহরানের শহিদ বেহেশতি ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ছিলেন। নিহত ষষ্ঠ জনের পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি। শুধু তার পদবি ‘মোতাল্লেবিজাদেহ’ উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের ১০০ ড্রোন নিক্ষেপ

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডিফ্রিন জানিয়েছেন, ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে ১০০টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান। তারা সেগুলো প্রতিহত করেছেন। ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী, রেভল্যুশনারি গার্ড এবং ইমার্জেন্সি কমান্ডের কমান্ডার নিহত হওয়ার কথাও জানান তিনি। ওই হামলার পর পরই পাল্টা হামলার শঙ্কায় নিজ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে ইসরায়েলি সরকার।

পরমাণু আলোচনা স্থগিত করল ইরান

সামরিক এবং পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা স্থগিত করেছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও ওমান নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন টাইমস অব ওমান।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ এসলামি বলেছেন, ইসরায়েলের হামলায় কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, যা ইরানি কূটনীতিকদের সঙ্গে আমেরিকানদের মধ্যে চলমান ছিল। এসলামি আরও বলেন, বর্তমানে ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় ফেরার কোনো সিদ্ধান্ত নেই, কারণ ইরান মনে করে এই হামলা আমেরিকার সহায়তায় সংঘটিত হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের দূতাবাস বন্ধ

ইরানে হামলার পর ইসরায়েল বিশ্বব্যাপী তাদের সব দূতাবাস বন্ধ করে দিচ্ছে। নাগরিকদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং জনসমাগম এলাকায় কোনো ইহুদি বা ইসরায়েলি প্রতীক প্রদর্শন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের দূতাবাসের ওয়েবসাইটে শুক্রবার পোস্ট করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ইসরায়েল তাদের বৈদেশিক সব মিশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিচ্ছে এবং কনস্যুলার সেবাও আপাতত দেওয়া হবে না। ইসরায়েলি নাগরিকরা বৈরী কোনো তৎপরতার মুখোমুখি হলে তারা যেন স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা নেই: রুবিও

ইরানে ইসরায়েলের হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ইসরায়েলে সম্পূর্ণ নিজস্ব সিদ্ধান্তে এই হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে যেন হামলা না করা হয়, সে জন্য ইরানকে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি। 

গতকাল এক বিবৃতিতে রুবিও বলেছেন, ‘আমরা ইরানে হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নই এবং আমাদের প্রধান মনোযোগের বিষয় হলো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে অবস্থানরত সেনাদের নিরাপত্তা। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও সেনাদের আঘাত করা একেবারেই উচিত হবে না ইরানের জন্য।

চার দেশের আকাশসীমা বন্ধ 

ইরানের ওপর হামলার পর পরই ইসরায়েল, ইরান, জর্ডান ও ইরাক- চার দেশই তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং সব ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর ওয়েবসাইটে এই দেশগুলোর আকাশ পুরোপুরি ফাঁকা দেখা গেছে। একটি ফ্লাইটও চলাচল করছে না। এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তেল আবিবে আসা-যাওয়ার সব ফ্লাইট বন্ধ থাকবে।

খাদ্য ও পানি মজুত করছে ইসরায়েলিরা

তেহরানে হামলার জবাবে ইরানও ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালাতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকে জেরুজালেমের সুপারশপগুলোয় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে খাদ্য ও পানি। মজুত করার জন্য মানুষ এখন এগুলো হুমড়ি খেয়ে কিনছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে সাইরেনের শব্দ ও মোবাইলের সতর্কবার্তায় ঘুম ভাঙে ইসরায়েলের জনগণের। দেশটির সরকারের তরফ থেকে মানুষকে জানানো হয়, তাদের সামনে একটি ‘গুরুতর হুমকি’ রয়েছে। তাই সবাই যেন আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি স্থানে অবস্থান করে।

ইসরায়েলের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, সারা দেশে রক্ত সংগ্রহের কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে এবং যেসব রোগী বাড়ি ফিরে যাওয়ার মতো কিছুটা সুস্থ, তাদের ছেড়ে দিচ্ছে ইসরায়েলের হাসপাতালগুলো।

ট্রাম্পের একপ্রকার আত্মসমর্পণ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:২১ এএম
ট্রাম্পের একপ্রকার আত্মসমর্পণ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে ইরানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের কথা জানানো হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘বড় জয়’ বলে দাবি করেছেন। তবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার জন্য এই চুক্তিতে ইরানকে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও আর্থিক ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা এটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের একপ্রকার আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখছেন।

কয়েক দিন আগেও ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নতুন করে আক্রমণের হুমকি দিচ্ছিলেন। তবে গত বুধবার তার বক্তব্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর দেখা গেছে। তিনি বলেন, বেসামরিক ব্যবহারের জন্য ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মৌলিক অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কোনো চাপ দেবে না। ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের অবরুদ্ধ সম্পদ এখন ফেরত দিতে হবে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এবং চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে ইসরায়েল এবং রিপাবলিকান পার্টির কট্টরপন্থিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হতে পারে। কট্টরপন্থিরা ট্রাম্পকে তেহরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি না করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। অন্যদিকে লেবাননের হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম এই চুক্তিকে একটি ‘মহাবিজয়’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।

বুধবার তেহরান থেকে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আজ শুক্রবার জেনেভায় একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই চুক্তি নিয়ে ভিন্ন মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এই চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার একটি দলিল। মানুষ এটি দেখবে ও বিচার করবে।

নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তার মতো কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর আগে ইরানের প্রতি এত কঠোর হননি। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, এই চুক্তি না হলে বিশ্বব্যাপী এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা তৈরি হতো। তার মতে, চুক্তি না হলে হরমুজ প্রণালি কখনোই উন্মুক্ত হতো না। তিনি বলেন, মাথার ওপর যখন রকেট ওড়ে এবং চারদিকে মাইন ছড়ানো থাকে, তখন কেউ শত কোটি ডলারের জাহাজ সেখানে ভাসাতে চায় না।

মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চুক্তি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখবে। ইরান তাদের ৪৪০ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমিয়ে ফেলার বিষয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়েছে। এই ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব ছিল। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে ইরানের ভেতরেই এই মজুত কমিয়ে ফেলার বিষয়ে তিনি সম্মত আছেন।

জি-সেভেন সম্মেলনের শেষে ট্রাম্প যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন মার্কিন কর্মকর্তারা এই ১৪ দফা পরিকল্পনার কথা বিস্তারিত জানান। এটি মূলত একটি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি। আরও স্থায়ী শান্তি ও পারমাণবিক আলোচনার পথ তৈরি করতে মার্কিন প্রশাসন প্রথমে এই চুক্তির মূল পাঠ প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব করেছিল।

এই চুক্তির ফলে ইরান বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা পাবে। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে। এ ছাড়া ইরান যাতে বিদেশে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করতে পারে, সেজন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর থেকে সব আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ও অবরুদ্ধ সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থায়নে ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও এই চুক্তিতে রয়েছে।

তবে এই তহবিলে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অর্থ দেবে না বলে ট্রাম্প রাগান্বিতভাবে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর এই অর্থায়ন ইরানের ভালো আচরণের ওপর নির্ভর করবে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘যে কেউ চাইলে বিনিয়োগ করতে পারে। আমি কি বলব যে কেউ বিনিয়োগ করতে পারবে না? তবে আমরা কোনো বিনিয়োগ করছি না। আমরা ১০ সেন্টও দিচ্ছি না।’

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ছিল ইরানের একটি অন্যতম প্রধান দাবি। এর ফলে ইসরায়েল লেবাননে কোনো সামরিক অভিযান চালাতে পারবে না। চুক্তিতে লেবাননের ‘আঞ্চলিক অখণ্ডতা’ বজায় রাখার একটি ধারা রয়েছে। তবে এর ফলে ইসরায়েল লেবাননে তৈরি করা তাদের ‘বাফার জোন’ বা অন্তর্বর্তী অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে কি না, তা মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেননি।

এর বিনিময়ে ইরান লেবাননের হিজবুল্লাহসহ তার আঞ্চলিক মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্মত হয়েছে। ইরান পুনরায় নিশ্চিত করেছে, তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না। চুক্তির অধীনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আগামী ৬০ দিন বিনা টোলে বা বিনা মূল্যে জাহাজ চলাচল করতে পারবে। তবে ইরানের আলোচক গালিবাফ জানিয়েছেন, ৬০ দিন পার হওয়ার পর ইরান এই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ফি আদায় করবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গালিবাফ বলেন, হরমুজ প্রণালি আর যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতিতে ফিরে যাবে না। হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে ও সেবামূলক কাজের জন্য আমরা অবশ্যই ফি নেব।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ফরেন পলিসি প্রোগ্রামের ভাইস প্রেসিডেন্ট সুজান ম্যালোনি এই চুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই প্রশাসনের পক্ষে এত কম সময়ে পারমাণবিক বিষয়ের মতো জটিল ও বিস্তারিত চুক্তি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব। তিনি মন্তব্য করেন, এই চুক্তিতে ইরান শুরুতেই অনেক বেশি সুবিধা পেয়ে যাচ্ছে। তারা নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই তেল রপ্তানি করতে পারবে, যা এই মুহূর্তে অবাস্তব মনে হচ্ছে। এর ফলে ইরান খুব দ্রুত প্রচুর অর্থ উপার্জন করবে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ট্রাম্পের ধন্যবাদ পুতিন-শিকে

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:১১ এএম
ট্রাম্পের ধন্যবাদ পুতিন-শিকে
ছবি: খবরের কাগজ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‘সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ’ ছিলেন। তারা তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার মার্কিন প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করেননি। গতকাল বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ খবর নিশ্চিত করেছে।

ফ্রান্সের পর্যটন শহর এভিয়ান-লে-বেঁতে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের সংবাদ সম্মেলনে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ট্রাম্প বলেন, সংঘাতে সরাসরি জড়িত না হওয়ায় তিনি শি ও পুতিনের প্রতি কৃতজ্ঞ।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চীন, প্রেসিডেন্ট শিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিলেন, আমি এর প্রশংসা করি। আর ভ্লাদিমির পুতিনকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনিও খুব নিরপেক্ষ ছিলেন। তারা চাইলে আমাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলতে পারতেন।’

জাপান ও ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করার বিপরীতে ট্রাম্পের এই মন্তব্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী। তিনি অভিযোগ করেন, সামরিক অভিযান কিংবা ইরানের অবরোধের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালির নৌপথ সচল করার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা পর্যাপ্ত সহায়তা দেয়নি।

মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে তেহরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রাশিয়া আগে সতর্ক করে বলেছিল, এ যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। চীন ওয়াশিংটনের হামলাকে ইরানের সার্বভৌমত্বের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বেইজিং তেহরানকে সম্ভাব্য সামরিক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে এমন কিছু পণ্য সরবরাহ করেছে। চীনের স্বাধীন তেল শোধনাগারগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সংঘাত চলাকালে ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা ছিল।

তবে ট্রাম্পের দাবি, সংঘাত নিরসনে শি জিনপিং সহায়ক ভূমিকা পালন করেছেন এবং চীন ‘বড় ধরনের অস্ত্র’ বা কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ থেকে বিরত থেকেছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা চাইলে ছয়টি যুদ্ধ জাহাজের নিরাপত্তায় তেলবাহী জাহাজ পাঠাতে পারত। তারা তা করেনি। প্রেসিডেন্ট শি আমাকে সাহায্য করেছেন। তিনি সমাধানের চেষ্টা করেছেন এবং সম্ভবত তা সফল হতেও সহায়তা করেছেন।’

ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসে র এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, বেইজিংয়ের অবস্থান সবসময় একই ছিল। তারা ‘যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন।’ ওয়াশিংটনে রাশিয়ার দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সূত্র: রয়টার্স

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জরুরি সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) তাদের অংশীদারিত্ব নবায়ন করেছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইইউ অতিরিক্ত ১ দশমিক ৪ কোটি ইউরো অনুদান দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ তথ্য জানায় ইউএনএইচসিআর।

এই অর্থায়নের মাধ্যমে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশি আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে। এর আওতায় দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি হিসেবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটে এখন শুধু জরুরি সহায়তা নয়, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়ের সুযোগ তৈরির দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘এই সহায়তা কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণকে উপকৃত করবে এবং রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াবে, যাতে তারা মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।’

ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, ‘দীর্ঘ ৯ বছর ধরে কঠিন পরিস্থিতিতে থাকা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর জন্য ধারাবাহিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সহযোগিতা তাদের সুরক্ষা, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে সহায়ক হবে।’

২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবসের ঠিক আগে এ সহায়তা ঘোষণা করা হলো। এ দিবসটি সংঘাত ও সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের দৃঢ়তা ও মানবিক সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতি পুনর্ব্যক্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।

এসএন/

নেপালের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি চায় বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
নেপালের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি চায় বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান সেদেশের শিল্প, বাণিজ্য ও সরবরাহ মন্ত্রণালয়ের সচিব কৃষ্ণ বাহাদুর রাউতের সঙ্গে তার কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে অনিষ্পন্ন অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), বিদ্যমান বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত দুই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উভয় পক্ষ উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ভৌগোলিক নৈকট্য এবং সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমাণ এখনো সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম। বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সংযোগ উন্নয়ন এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে অধিকতর সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হন।

তারা আশা প্রকাশ করেন, অব্যাহত প্রচেষ্টা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশ–নেপাল অর্থনৈতিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে।

রবিউল /এসএন

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সংলাপের পরামর্শ জাতিসংঘের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সংলাপের পরামর্শ জাতিসংঘের
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। ছবি: সংগৃহীহ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্তে পুশইন সমস্যা সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক।

বুধবার (১৭ জুন) নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্টিফেন ডুজারিকের কাছে এক সাংবাদিক জানতে চান, বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে শত শত শিশু ও নারীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শিশুরা ক্ষুধায় কাঁদছে। নারীরা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব এই বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

জবাবে জাতিসংঘ মহসচিবের মুখপাত্র বলেন, ‘দেখুন, আমি মনে করি বিষয়টি দুই দেশের সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। এতে মানুষের মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি পূর্ণ সম্মান থাকতে হবে।’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নবনির্বাচিত সভাপতি বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। কয়েক মাস পরই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তিনি। অন্যদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এর আগে শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ পদে তাদের অবস্থানের ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত হবে কি না, এমন প্রশ্নও করা হয় মহাসচিবের মুখপাত্রকে।

জবাবে ডুজারিক বলেন, ‘সাধারণ পরিষদের সভাপতির ভূমিকা হলো সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা। তাই মহাসচিব এবং সাধারণ পরিষদের সভাপতির মধ্যে যে যোগাযোগ হবে, তা সাধারণ পরিষদ-সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করেই হবে। আর রোহিঙ্গাবিষয়ক কাজ চলতে থাকবে।’

এসএন/