ইসরায়েলের হামলার পরপরই শুক্রবার (১৩ জুন) ভোরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে রাজধানী তেহরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লাভিজান এলাকায় অবস্থিত একটি গোপন বাঙ্কারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খামেনির সঙ্গে আছেন তার পরিবারের সব সদস্য, যার মধ্যে তার ছেলে মোজতবাও রয়েছেন।
দুটি নির্ভরযোগ্য ইরানি সূত্রের বরাতে এমনটাই দাবি করেছে লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল। সূত্রমতে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী অভিযান, ট্রু প্রমিজ ১ এবং ট্রু প্রমিজ ২-এর সময়, সর্বোচ্চ নেতার পরিবারকেও এই বাংকারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আর এই লাভিজান এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সামরিক স্থাপনা ও গোপন গবেষণাগারের কারণে আলোচিত।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনির পরিবারের সব সদস্যও তার সঙ্গে রয়েছেন বাঙ্কারটিতে। এর আগেও গত বছরের এপ্রিল ও অক্টোবরে ইসরায়েলে ইরানের হামলার পর তিনি একই বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ইসরায়েল প্রথম রাতেই খামেনিকে হত্যা করতে পারত, কিন্তু তারা তা না করে তাকে চূড়ান্ত একবারের জন্য সুযোগ দিয়েছে যেন তিনি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ করেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানানো হয়।
ইসরায়েল মনে করছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি তাদের জন্য অস্তিত্বগত হুমকি। খামেনি এই কর্মসূচির মূল পরিকল্পনাকারী ও পৃষ্ঠপোষক। এর আগেও ইসরায়েল ইরানের শীর্ষ সামরিক ও পরমাণু বিজ্ঞানীদের টার্গেট করেছে।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, চলমান ইসরায়েল-ইরান সংঘাত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই আর সীমাবদ্ধ নেই বরং তা ছড়িয়ে পড়ছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপে। খামেনিকে উদ্দেশ্য করে ইসরায়েলের এমন কৌশল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সুলতানা দিনা/