তীব্র গরমের মধ্যেও ইরানের সব শহরের রাস্তায় দলে দলে নেমেছেন সাধারণ মানুষ। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানাতে এবং নিজেদের দেশের পক্ষে সমর্থন জানাতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে বিক্ষোভ করছেন। শুক্রবার (২০ জুন) ইসরায়েলের হামলার পর প্রথম জুমায় কাফনের কাপড় পরে অংশ নিতে দেখা যায় বিভিন্ন শহরের মুসল্লি ও ইমামদের।
ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে ইরানী জনগণের মধ্যে বিভক্তি তৈরী করে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটিয়ে সেক্যুলার, ইসরায়েল ও পশ্চিমাপন্থী সরকার ক্ষমতায় বসাতে সোচ্চার নেতানিয়াহু। এই ক্যাম্পেইনে যোগ দিতে ভুল করেনি পশ্চিমা সকল প্রভাবশালী গণমাধ্যম। জোরেশোরেই প্রচারণা চালাচ্চে তারা। প্রকাশ করছে ইরানের বর্তমান শাসনবিরোধী আর্টিকেল ও ম্যাগাজিন।
ইরানের পতাকা গায়ে জড়িয়ে রাস্তায় নামেন এক বৃদ্ধ। ছবি: সংগৃহীত
কিন্তু এসবে কোনো ফল হয় নি। মানুষ রাস্তায় নেমেছে ঠিকই কিন্তু ইরানের বর্তমান শাসনের পক্ষেই। ধর্ম, শ্রেণি, রাজনীতি বা জাতিগত বিভেদ ভুলে সবাই এক কণ্ঠে ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রতিবাদ করছেন। ইরানিদের এই জাতীয় ঐক্যের পেছনে, ব্যঙ্গ করে হলেও অনেকে বলছেন- ‘ধন্যবাদ নেতানিয়াহু’।
যুদ্ধ বিধ্বস্ত তেহরানের মেট্রো স্টেশনগুলো আজ ভরে গিয়েছিল জনসমাগমে। উদ্দেশ্য, দলে দলে জুমার নামাজ ও ইসরায়েলবিরোধী র্যালিতে অংশগ্রহণ করা। এসময় তাদের মুখে ফিলিস্তিনের স্লোগানও শোনা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রাস্তায় ইরানিদের ঢল। ছবি: সংগৃহীত
বিক্ষোভ ও নামাজে ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি-এজেই, আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জাফারি, কয়েকজন মন্ত্রী এবং পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে জানানো হয়, তেহরানের পাশাপাশি দেশটির অন্যান্য শহর যেমন মাশহাদ, ইসফাহান, তাবরিজ, কুম, শিরাজ, কাজভিন, ইয়াজদ ও গিলানেও ইরানি সেনাবাহিনীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে একই ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে।
ইরানি পরিবারগুলো একত্রে রাস্তায় ইসরায়েল ও আমেরিকার পতাকা মাড়িয়ে জুমার নামাজে অংশগ্রহণ করে। আজকের জুমা এবং জাতীয় সংহতি প্রকাশ ও ইসরায়েল বিরোধী র্যালিতে অংশগ্রহণ করেছে নারী, পুরুষ, শিশু নির্বিশেষে ইরানের সর্বস্তরের জনগণ।
ইসরায়েলিদের প্রতি কড়া বার্তা দিলেন ইরানী নারীরাও। তেল আবিবের বাসিন্দাদের প্রতি ইরানী নারীদের বার্তা হলো, ‘হে তেল আবিবের অধিবাসীরা, তোমরা তোমাদের কফিন তৈরী করে রাখো, তোমরা নিজ হাতে তোমাদের খবর খুঁড়েছ।’
ইরানের বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে সর্বশেষ সবচেয়ে বড় ও আলোচিত বিক্ষোভ হয়েছিল ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে, যা মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হয়। ২২ বছর বয়সী কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনিকে ‘ইসলামি পোশাকবিধি (হিজাব)’ না মানার অভিযোগে পুলিশের হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনার পর ইরানের প্রায় সব বড় শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তবে ইসরালের সাম্প্রতিক হামলা ইরানিদের মধ্যে ঐক্য এনে দিয়েছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। একেই বলে বুমেরাং প্রভাব।
মাহফুজ/