মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইসরায়েলে ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। এতে কমপক্ষে ২৭ জন আহত হয়েছেন।
ইরানের এই প্রতিশোধে তেল আবিবের শহরতলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বোমা হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল তেল আবিবের রামাত আবিব এলাকা, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অ্যাপার্টমেন্টের সম্মুখভাগ ধ্বংস হয়ে গেছে। দেয়ালে বিশাল ফাটল তৈরি হয়েছে।
তেল আবিবের মেয়র রন হুলদাই বলেছেন, এখানকার বাড়িগুলি খুব, খুব খারাপভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌভাগ্যবশত, এগুলোর মধ্যে একটি ভেঙে ফেলা এবং পুনর্গঠনের জন্য নির্ধারিত ছিল তাই ভিতরে কোনো বাসিন্দা ছিল না।
তিনি আরও বলেন, যারা আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন তারা সবাই নিরাপদ এবং ভালো আছেন। ক্ষয়ক্ষতি অনেক, খুব ব্যাপক, কিন্তু মানুষের জীবনের দিক থেকে আমরা ঠিক আছি।
এর আগে রবিবার (২১ জুন) ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। বিমান হামলার পর সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে বিষয়টি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, ইরানের ফোর্দো, নাতাঞ্জ আর ইসফাহানের পারমাণবিক ঘাঁটিতে সফলভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং হামলা শেষে সব বিমান এখন ইরানের আকাশসীমার বাইরে আছে।
এর কিছুক্ষণ পর ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার পোস্ট করেন ‘ফোর্দো ইজ গন’ অর্থাৎ ‘ফোর্দো শেষ’।
এ হামলায় বি-টু বোমারু বিমান ব্যবহার করা হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায় সংবাদসংস্থা রয়টার্স।
এর আগে, মার্কিন বি-টু স্টিলথ বোমারু বিমানগুলোকে মার্কিন দ্বীপপুঞ্জ গুয়ামে স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছিল। যার ফলে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয় যে, বিমানগুলো ইরানে মার্কিন হামলায় জড়িত থাকতে পারে।
এদিকে, আনুষ্ঠানিকভাবে ফোর্দো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহানের হামলার কথা স্বীকার করেছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা গণমাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন।
সংবাদসংস্থা তাসনিম জানায়, কোম প্রদেশের ক্রাইসিস ম্যানেজম্যান্টের মুখপাত্র মোর্তোজা হায়দারি বলেন, ‘ফোর্দো পারমাণবিক কেন্দ্রের একটি অংশ বিমান হামলার শিকার হয়েছে।’
ইসফাহানের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উপ-গভর্নর আকবর সালেহি বলেন, ‘নাতাঞ্জ এবং ইসফাহানে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আমরা ইসফাহান ও নাতাঞ্জের পারমাণবিক স্থাপনার কাছে হামলা দেখেছি।’
অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেসব পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা করার কথা দাবি করেছেন সেই তিনটি স্থানেই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানের কর্মকর্তারা।
এই হামলাকে ১৯৮০-১৯৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের পর এটা ইরানের ভূখণ্ডের ওপর চালানো সব চাইতে বড় হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি
অমিয়/