ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পেনাল্টি গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি মেনে নাও, মেসি সেরা: রোনালদো নাজারিও কেইনের প্রেরণা এমবাপ্পে-হালান্ড কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাইতির বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিলকে সুখবর দিল ফিফা ওয়ালটন পিসিবিএ'র রপ্তানি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খেল আইভরি কোস্ট, কানাডার ভিসা পেলেন না ওয়াহি মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা পরীমনির প্রেমে জড়িয়ে চাকরি গেল সাকলায়েনের এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী কুড়িগ্রামে ১২ ঘণ্টা পর রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান মানিকগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ, নিহত ২ সিলেটে ৩৬ ঘণ্টায় ১২২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

দোস্ত যখন দুশমন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৫, ০৮:৩৭ এএম
দোস্ত যখন দুশমন
ইরান ও ইসরায়েলের মানচিত্র

ইসরায়েলের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এখন প্রকাশ্যে জড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তেহরানে থাকা ইসরায়েলি গুপ্তচর রুভেন মেরহাভের দূরদর্শিতা স্মরণ করা জরুরি। তিনি সবকিছু আগাম আঁচ করেছিলেন।

১৯৭০-এর দশকের শেষে তেহরানে মোসাদের স্টেশনপ্রধান রুভেন মেরহাভ পশ্চিমাপন্থি শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসনামলে ইসরায়েল-ইরান গোয়েন্দা সম্পর্ক রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ওই সময় দুই দেশের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ১৯৪৮ সালে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কিন্তু ১৯৭৮ সালের মার্চে পারস্য উপসাগরীয় দ্বীপ কিশে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত উরি লুবরানির সঙ্গে সফরে গিয়ে মেরহাভ বুঝতে পারেন শাহের রাজত্ব ভেঙে পড়ছে। কৌশলগত এ অংশীদারত্ব হুমকির মুখে। অসন্তোষ ও বিক্ষোভ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা একজন রাজা ও গোয়েন্দা এজেন্টদের মুখোমুখি হন, যারা আত্মতুষ্ট ছিলেন।

মেরহাভ ও লুবরানি মোসাদ এবং ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাদের ভবিষ্যদ্বাণী জানান। কিন্তু তারা সন্দেহ ও অবিশ্বাসের মুখোমুখি হন। একই প্রতিক্রিয়া দেখা যায় ওয়াশিংটনের সিআইএতেও। কয়েক সপ্তাহ পর মেরহাভ তেহরান ছাড়ার সময় উত্তরসূরিকে সতর্ক করে লেখেন, ‘আমি চিন্তিত যে আমাদের এ বন্ধু শিগগিরই শত্রু হয়ে উঠবে। আমি তোমাকে ইরানকে একটি টাইম ফিউজ দিচ্ছি।’

এটি ছিল ভৌতিক এক পূর্বাভাস। কয়েক মাসের মধ্যেই ইরানে বিপ্লবী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ক্ষমতার ভিত্তি ভেঙে পড়ায় শাহ ১৯৭৯ সালের জানুয়ারিতে পরিবার নিয়ে দেশ ছাড়েন। কয়েক সপ্তাহ পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি প্যারিস থেকে ফিরে ক্ষমতা দখল করেন। তিনি ইরানকে ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত করেন ও ইসরায়েলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেন। বিপ্লবীরা ইসরায়েলি দূতাবাসে হামলা চালালে কূটনীতিকরা পালিয়ে যান।

এভাবেই একসময়ের মিত্র দুই দেশের মধ্যে শত্রুতা শুরু হয়। যাদের কোনো সাধারণ সীমান্ত নেই, আঞ্চলিক দ্বন্দ্বও নেই। এখন তারা প্রকাশ্য যুদ্ধে জড়িয়েছে। গত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন তার দেশ ইরানের ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইস্ফাহানে তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতে জড়ানোর পর মেরহাভের ভবিষ্যদ্বাণী আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।

তিন দশক পর জার্মানির হামবুর্গ থেকে প্রাগ যাওয়ার ট্রেনে মেরহাভের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। বার্লিনে ট্রেনে ওঠার পর আমি আমার বগিতে ঢুকলে বিপরীতে বসা বৃদ্ধ আমার বইটি দেখে জিজ্ঞাসা করেন আমি কি আরবি পড়ছি? আমি বলি ফার্সি পড়ছি, ইরানে ফিরে যাওয়ার আশায়। আমি কয়েক বছর আগে তেহরানে দ্য গার্ডিয়ানের সংবাদদাতা ছিলাম। কিন্তু ২০০৭ সালে কর্তৃপক্ষ আমার আবাসিক অনুমতি নবায়ন না করায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হই।

লোকটি বলেন, তিনি ফার্সি বলতে পারেন। আমরা সে ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করি। কিন্তু সীমিত সাফল্যের পর ইংরেজিতে ফিরে আসি। তিনি নিজেকে রুভেন বলে পরিচয় দেন। বলেন বিপ্লবের আগে তেহরানের দূতাবাসে কাজ করতেন। আমি তখন চমকে উঠি। কয়েক মাস আগেই রোনেন বার্গম্যানের বইতে মেরহাভের সতর্কবার্তা ও তেহরান থেকে ইসরায়েলিদের সরিয়ে নেওয়ার কথা পড়েছিলাম।
মেরহাভ মোসাদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন কি না জিজ্ঞেস করলে প্রশ্নটি এড়িয়ে যান। শুধু বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য কাজ করতেন। তবে বার্গম্যান ও তার কাজ জানেন বলে স্বীকার করেন। পরে নিশ্চিত হই তিনিই মেরহাভ।

২০০৫ সালে ইরানে আসার পর বসন্ত ও গ্রীষ্মের প্রায় প্রতি রাতেই উত্তর তেহরানের বাড়ির বারান্দা থেকে ‘মার্গ বার ইসরায়েল’ ও ‘মার্গ বার আমরিকা’ স্লোগান শুনতাম। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের স্বেচ্ছাসেবক মিলিশিয়া বাসিজের প্রশিক্ষণ শিবির থেকে এসব স্লোগান ভেসে আসত। এগুলো ইরানের বিপ্লবী ভূদৃশ্যের অংশ হয়ে উঠেছিল। ভবনগুলোতে খোদাই করা থাকত। ইস্ফাহানের নাকশ-ই জাহান স্কয়ারে ‘ইসরায়েলের মৃত্যু’ লেখা ছিল।

২০০৫ সালে ইরানে আসার সময় ইসরায়েল ও ইরান ছায়াযুদ্ধে লিপ্ত ছিল। তেহরানকে আর্জেন্টিনায় ইসরায়েলি ও ইহুদি স্থাপনায় হামলা ও লেবাননে হিজবুল্লাহকে সমর্থনের জন্য সন্দেহ করা হতো। কিন্তু জুনে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর উত্তেজনা বাড়ে।

অক্টোবরে তেহরানে এক সম্মেলনে আহমাদিনেজাদ ইসরায়েলকে ‘মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার’ আহ্বান করেন। তিনি হলোকাস্টকে ‘একটি মিথ’ বলে অভিহিত করেন। পরের বছর ইরানের সংবাদপত্র হামশাহরি হলোকাস্টের সমালোচনায় কার্টুন প্রতিযোগিতার ফল প্রকাশ করে। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সম্মেলনের আয়োজন করে যেখানে দাবি করা হয় ৬০ লাখ ইহুদির হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। এ অনুষ্ঠানে হলোকাস্ট অস্বীকারকারী ও ইহুদিবিদ্বেষীদের সমাবেশ ঘটে। তাদের মধ্যে ছিলেন ডেভিড ডিউক, কু ক্লাক্স ক্ল্যানের সাবেক নেতা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক। তিনি ইরানের ‘বাকস্বাধীনতা’র প্রশংসা করেন ও ইসরায়েলকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ বলেন।
তেল আবিবের রেইচম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানি বিশেষজ্ঞ মীর জাভেদানফার বলেন, ‘আহমাদিনেজাদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া ও হলোকাস্ট অস্বীকার করা বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল। পারস্য উপসাগরকে আরব উপসাগর বললে ইরানিরা ক্ষিপ্ত হয়। কিন্তু হলোকাস্ট মিথ বললে ইসরায়েলিদের কী প্রতিক্রিয়া হয়, তা তারা বুঝতে ব্যর্থ হয়।’

ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে বলে ইসরায়েলিদের সন্দেহ এ উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়। এখন দুই দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছে। মেরহাভের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যে পরিণত হয়েছে।

২০০২ সালে ইরানের গোপন পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য ফাঁস করে বিরোধী দল এমইকে। তারা জানায়, নাতাঞ্জে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের একটি কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। পশ্চিমা চাপের মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি এই কার্যক্রম স্থগিত করেন। তিনি আস্থা তৈরির লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ কার্যক্রম আবার চালু করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এটি ইরানের ‘অধিকার’। এই ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ে। ইসরায়েল এই ঘটনাকে নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করে।

ইরানবিষয়ক বিশ্লেষক মেহদি জাভেদানফার বলেন, ‘একজন নেতা হলোকাস্ট অস্বীকার করছেন, তিনি পারমাণবিক কর্মসূচি চালাচ্ছেন, হিজবুল্লাহকে সমর্থন দিচ্ছেন- ইরান এখন এক নতুন হুমকি।’

ইতিহাসবিদদের মতে, ইরান-ইসরায়েল সম্পর্কে এই উত্তেজনা এক সময়কার মিত্রতার নাটকীয় বিপরীত চিত্র। 

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানি স্টাডিজের পরিচালক আব্বাস মিলানি বলেন, ‘শাহের শাসনের শেষ দশকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ইসরায়েল ছিল অন্যতম প্রধান মিত্র।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেই সময় ইরান, ইসরায়েল ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে পারমাণবিক সহযোগিতার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।’ মিলানির মতে, শাহ ইসরায়েলকে ‘কৌশলগত মিত্র’ হিসেবে দেখতেন। এতে আরব জাতীয়তাবাদের প্রতি তাদের যৌথ সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়। তিনি বলেন, ‘শাহ ছিলেন বাস্তববাদী। তিনি বুঝতেন, ইসরায়েল থাকবে তাদের শত্রুদের নিয়ন্ত্রণ করে।’ এ সময় ইরানের ইহুদি জনগোষ্ঠী তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বোধ করত। মিলানি বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে ইহুদিদের সুসম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তৎকালীন যেকোনো মুসলিম দেশের চেয়ে ইরানে ইহুদিদের সংখ্যা ছিল বেশি। বিপ্লবের সময় সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার।’ কিন্তু ইসলামি বিপ্লব এ বাস্তবতা পাল্টে দেয়। শাহের পতনের পর দেশজুড়ে শুরু হয় ইহুদিবিরোধী মনোভাব। ধীরে ধীরে ইরানি ইহুদিরা দেশত্যাগে বাধ্য হয়। তাদের অনেকেই আশ্রয় নেয় ইসরায়েলে।

১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েল চায় সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে। তারা ইরানি বাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহ করে। কারণ তারা চায় না সাদ্দাম জয়ী হোক। ইরান সেসব অস্ত্র গ্রহণ করে। তবে সম্পর্ক মেরামতের কোনো ইচ্ছা প্রকাশ করে না। 

জাভেদানফার বলেন, ‘আমি অনেক ইসরায়েলির সঙ্গে কথা বলেছি, যারা বিপ্লবের আগে ইরানে কাজ করতেন। তারা শাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে নানা চেষ্টা করেছিলেন। তারা, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও অনুরোধ করেছিল ইরানের সঙ্গে মধ্যস্থতা করতে।’ এই চেষ্টার ফলে ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারির জন্ম হয়। যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে জিম্মি মুক্ত করতে ইসরায়েলের মাধ্যমে ইরানে অস্ত্র পাঠায়।

জাভেদানফার আরও বলেন, ‘তাদের উদ্দেশ্য শুধুই ইরানকে সাহায্য নয়। দুই পক্ষের স্বার্থ এক ছিল। ‘তবে শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, এসব অস্ত্র হিজবুল্লাহর কাছে পৌঁছাচ্ছে যা দিয়ে ইসরায়েলিদেরই মারা হচ্ছে। ইরান কখনো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায়নি। সেটা একেবারেই অসম্ভব ছিল।’

তবুও এমন পরিস্থিতি হয়তো এত তিক্ততায় রূপ নিত না, যদি না খামেনির একগুঁয়েমি থাকত। ১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সর্বোচ্চ নেতা হন। তিনি ইসরায়েলবিরোধিতায় খোমেনির চেয়েও বেশি আগ্রহী ছিলেন। তিনি ইসরায়েলকে বলেন ‘মধ্যপ্রাচ্যের ক্যানসার’।

১৯৯১ সালে মাদ্রিদে শান্তি আলোচনা চলছিল। খামেনি তখন ইসরায়েলের সঙ্গে আপসবিরোধী শক্তির পক্ষে অবস্থান নেন। তার এই অবস্থান ছিল প্রেসিডেন্ট রাফসানজানির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ। এই সময় থেকে ইরান হিজবুল্লাহ ও হামাসের মাধ্যমে ছায়াযুদ্ধ আরও জোরদার করে। হামাস আত্মঘাতী হামলা চালাতে থাকে। এই হামলায় বহু ইসরায়েলি নিহত হয়। এর ফলে ১৯৯৬ সালে নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন অসলো চুক্তিবিরোধী কট্টর নেতা। খামেনির এই ইসরায়েলবিরোধী কৌশলের পেছনে ছিল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক লক্ষ্য।

জাভেদানফার বলেন, ‘সোভিয়েত পতনের পর খামেনি ইসলামি পরাশক্তি গড়ার সুযোগ দেখেছিলেন। এই কৌশল তার মিত্রদের অর্থনৈতিক লাভেও সহায়ক ছিল। ইরানকে বিচ্ছিন্ন রাখলে তারা দেশে একচেটিয়া সুবিধা পেত। টমেটো পিউরি থেকে শুরু করে গাড়ি- সবকিছুতে তারা লাভ করত। পশ্চিমা বিনিয়োগ ঠেকাতে ইসরায়েলবিরোধিতা ছিল একটি কার্যকর উপায়।’

মিলানি বলেন, খামেনির এই মনোভাব ইহুদিবিরোধী ধারণা থেকে এসেছে। তিনি আরও বলেন, ‘সাইয়্যিদ কুতুবের বই ‘ইন দ্য শেড অব দ্য কোরআন’-এর ভাবনা খামেনিকে প্রভাবিত করেছে। এই বই তিনি ফার্সিতে অনুবাদও করেছিলেন। অনেকেই প্রশ্ন করেন, এটা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত? ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান শুধু রাজনৈতিক নয়, এটা একধরনের ইহুদিবিদ্বেষও।’ তিনি বলেন, খামেনি মনে করেন, আজকের ইসরায়েল মদিনার সেই ইহুদিদের চেয়েও খারাপ, যারা নবী মোহাম্মদের বিরোধিতা করেছিল। এমন চিন্তাভাবনা যাদের মাথায় থাকে, তারা কখনো ইসরায়েলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারেন না।’ তবে ইরানে সবাই এই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন না। মিলানি আরও বলেন, ‘এটি একটি সংখ্যালঘু মত। অধিকাংশ ইরানি ইসরায়েলকে অস্তিত্বের হুমকি মনে করেন না। তারা স্বাভাবিক সম্পর্ক মেনে নিতে প্রস্তুত।’

ইসরায়েল যদি ইরানে ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালায়, তবে ইরানিদের মনোভাব বদলে যেতে পারে। নাগরিক হতাহত হলে তিক্ততা আরও বাড়বে। শত্রুতা আরও গভীর হবে। এই পরিস্থিতির জন্য মিলানি খামেনিকেই দায়ী করেন। তিনি বলেন, “তিনি বহু বছর ধরে যুদ্ধবাজ বক্তব্য দিয়ে গেছেন। কিন্তু বাস্তব প্রস্তুতি ছিল না। ইরানের প্রতিটি নীতির সঙ্গে ছিল ‘ইসরায়েলের মৃত্যু’ স্লোগান। কিন্তু যখন যুদ্ধ শুরু হয় তখন প্রস্তুতি ছিল না- এটি মারাত্মক অবহেলা। এতসব কথা বলার পর যখন ইসরায়েল প্রথম হামলা চালায় তখন ইরান ছিল পুরোপুরি অপ্রস্তুত। এটি সত্যিই অভাবনীয়।”

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জরুরি সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) তাদের অংশীদারিত্ব নবায়ন করেছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইইউ অতিরিক্ত ১ দশমিক ৪ কোটি ইউরো অনুদান দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ তথ্য জানায় ইউএনএইচসিআর।

এই অর্থায়নের মাধ্যমে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশি আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে। এর আওতায় দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি হিসেবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটে এখন শুধু জরুরি সহায়তা নয়, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়ের সুযোগ তৈরির দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘এই সহায়তা কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণকে উপকৃত করবে এবং রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াবে, যাতে তারা মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।’

ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, ‘দীর্ঘ ৯ বছর ধরে কঠিন পরিস্থিতিতে থাকা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর জন্য ধারাবাহিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সহযোগিতা তাদের সুরক্ষা, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে সহায়ক হবে।’

২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবসের ঠিক আগে এ সহায়তা ঘোষণা করা হলো। এ দিবসটি সংঘাত ও সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের দৃঢ়তা ও মানবিক সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতি পুনর্ব্যক্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।

এসএন/

নেপালের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি চায় বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
নেপালের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি চায় বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান সেদেশের শিল্প, বাণিজ্য ও সরবরাহ মন্ত্রণালয়ের সচিব কৃষ্ণ বাহাদুর রাউতের সঙ্গে তার কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে অনিষ্পন্ন অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), বিদ্যমান বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত দুই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উভয় পক্ষ উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ভৌগোলিক নৈকট্য এবং সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমাণ এখনো সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম। বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সংযোগ উন্নয়ন এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে অধিকতর সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হন।

তারা আশা প্রকাশ করেন, অব্যাহত প্রচেষ্টা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশ–নেপাল অর্থনৈতিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে।

রবিউল /এসএন

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সংলাপের পরামর্শ জাতিসংঘের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সংলাপের পরামর্শ জাতিসংঘের
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। ছবি: সংগৃহীহ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্তে পুশইন সমস্যা সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক।

বুধবার (১৭ জুন) নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্টিফেন ডুজারিকের কাছে এক সাংবাদিক জানতে চান, বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে শত শত শিশু ও নারীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শিশুরা ক্ষুধায় কাঁদছে। নারীরা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব এই বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

জবাবে জাতিসংঘ মহসচিবের মুখপাত্র বলেন, ‘দেখুন, আমি মনে করি বিষয়টি দুই দেশের সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। এতে মানুষের মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি পূর্ণ সম্মান থাকতে হবে।’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নবনির্বাচিত সভাপতি বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। কয়েক মাস পরই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তিনি। অন্যদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এর আগে শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ পদে তাদের অবস্থানের ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত হবে কি না, এমন প্রশ্নও করা হয় মহাসচিবের মুখপাত্রকে।

জবাবে ডুজারিক বলেন, ‘সাধারণ পরিষদের সভাপতির ভূমিকা হলো সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা। তাই মহাসচিব এবং সাধারণ পরিষদের সভাপতির মধ্যে যে যোগাযোগ হবে, তা সাধারণ পরিষদ-সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করেই হবে। আর রোহিঙ্গাবিষয়ক কাজ চলতে থাকবে।’

এসএন/

আরেক ধাক্কা খেলেন মমতা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
আরেক ধাক্কা খেলেন মমতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই আপাতত বহাল থাকছেন বলে রায় দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিচারপতি কৃষ্ণা রাও তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আবেদনে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেন।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, ‘আবেদনকারীর পক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারির মতো কোনো প্রাথমিক ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন খারিজ করা হলো।’

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিরোধী পক্ষকে তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে। তার জবাব আবেদনকারীকে পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে দাখিল করতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৮ জুলাই। ফলে সেই সময় পর্যন্ত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পালন করবেন।

রায় প্রকাশের পর মুখ খুলেছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক সন্দীপন সাহা। 

তার দাবি, ‘আদালতের এই রায়ে আমাদের নৈতিক জয় হয়েছে। আমাদের বিধায়কের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।’

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃার হওয়ার পরও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। সেই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। 

প্রশ্ন ওঠে, বহিষ্কৃত একজন বিধায়ককে কীভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো?

বুধবার মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট এই বিষয়েই একাধিক প্রশ্ন তোলে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায়ে আদালত জানিয়ে দেয়, ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু দলের বিদ্রোহী শিবির সেই সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকার করে। 

প্রথমে ৫৮ জন এবং পরে ৬৫ জন বিধায়কের সমর্থনের দাবি তুলে তারা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করেন। সেই সংক্রান্ত চিঠি গ্রহণ করেন স্পিকার।

এই প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তোলেন আদালত। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানতে চান, তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রথম চিঠিটিকে কেন গুরুত্ব দেওয়া হলো না এবং কেন পরবর্তী চিঠিটি গ্রহণ করা হলো।

আদালতে জানানো হয়, বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ পেয়েছিলেন স্পিকার। 

বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এমন পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষকে ডেকে শুনানি করা উচিত ছিল। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

বিচারপতি আরও প্রশ্ন তোলেন, শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কি স্পিকার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, নাকি দলীয় অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন? 

তার মন্তব্য, ‘বিধায়কদের স্বাক্ষর জাল কি না, সেই প্রশ্নে আমি যাচ্ছি না। তবে যিনি প্রথম আবেদন করেছিলেন, তাকে শুনানির সুযোগ না দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা সঙ্গত, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি মানা জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগে ৭৮ জন বিধায়কের সমর্থনের দাবি করা হয়েছিল। সেই দাবির সত্যতা কতটা যাচাই করা হয়েছে? যদি স্পিকার ১ জুন বহিষ্কারের চিঠি পেয়ে থাকেন, তাহলে বহিষ্কৃত একজন ব্যক্তিকেই কীভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো?’

বুধবার আদালত রায় সংরক্ষণ করেছিল। বৃহস্পতিবার সেই রায় ঘোষণা করে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদে বহাল থাকবেন। সূত্র: আজতক

কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
মো. ইস্তিনাব মাহী। ছবি: সংগৃহীত

কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের সেন্ট জনস শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ইস্তিনাব মাহী (২৩) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় গত শুক্রবার রাত ১টা ৩২ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাহির বাড়ি চট্টগ্রামে। তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় অবস্থান করছিলেন।

নিহত মাহি চট্টগ্রামের মো. মহিব উল্লাহ ও পারভিন আক্তার দম্পতির সন্তান। ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং ২০২১ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি কানাডার মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফাউন্ডল্যান্ড-এর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয় পুলিশ সংস্থা রয়্যাল নিউফাউন্ডল্যান্ড কনস্ট্যাবুলারি (আরএনসি) জানায়, চার আরোহী নিয়ে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে সড়কের পাশের কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত চারজনকে হাসপাতালে নেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহীকে মৃত ঘোষণা করেন। গাড়িতে থাকা অন্য তিন আরোহী আহত হলেও তারা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত এবং চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এদিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মাহীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় কানাডায় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কমিউনিটি নেতারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন।

অন্তরা/