ইসরায়েলের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এখন প্রকাশ্যে জড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তেহরানে থাকা ইসরায়েলি গুপ্তচর রুভেন মেরহাভের দূরদর্শিতা স্মরণ করা জরুরি। তিনি সবকিছু আগাম আঁচ করেছিলেন।
১৯৭০-এর দশকের শেষে তেহরানে মোসাদের স্টেশনপ্রধান রুভেন মেরহাভ পশ্চিমাপন্থি শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসনামলে ইসরায়েল-ইরান গোয়েন্দা সম্পর্ক রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ওই সময় দুই দেশের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ১৯৪৮ সালে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কিন্তু ১৯৭৮ সালের মার্চে পারস্য উপসাগরীয় দ্বীপ কিশে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত উরি লুবরানির সঙ্গে সফরে গিয়ে মেরহাভ বুঝতে পারেন শাহের রাজত্ব ভেঙে পড়ছে। কৌশলগত এ অংশীদারত্ব হুমকির মুখে। অসন্তোষ ও বিক্ষোভ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা একজন রাজা ও গোয়েন্দা এজেন্টদের মুখোমুখি হন, যারা আত্মতুষ্ট ছিলেন।
মেরহাভ ও লুবরানি মোসাদ এবং ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাদের ভবিষ্যদ্বাণী জানান। কিন্তু তারা সন্দেহ ও অবিশ্বাসের মুখোমুখি হন। একই প্রতিক্রিয়া দেখা যায় ওয়াশিংটনের সিআইএতেও। কয়েক সপ্তাহ পর মেরহাভ তেহরান ছাড়ার সময় উত্তরসূরিকে সতর্ক করে লেখেন, ‘আমি চিন্তিত যে আমাদের এ বন্ধু শিগগিরই শত্রু হয়ে উঠবে। আমি তোমাকে ইরানকে একটি টাইম ফিউজ দিচ্ছি।’
এটি ছিল ভৌতিক এক পূর্বাভাস। কয়েক মাসের মধ্যেই ইরানে বিপ্লবী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ক্ষমতার ভিত্তি ভেঙে পড়ায় শাহ ১৯৭৯ সালের জানুয়ারিতে পরিবার নিয়ে দেশ ছাড়েন। কয়েক সপ্তাহ পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি প্যারিস থেকে ফিরে ক্ষমতা দখল করেন। তিনি ইরানকে ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত করেন ও ইসরায়েলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেন। বিপ্লবীরা ইসরায়েলি দূতাবাসে হামলা চালালে কূটনীতিকরা পালিয়ে যান।
এভাবেই একসময়ের মিত্র দুই দেশের মধ্যে শত্রুতা শুরু হয়। যাদের কোনো সাধারণ সীমান্ত নেই, আঞ্চলিক দ্বন্দ্বও নেই। এখন তারা প্রকাশ্য যুদ্ধে জড়িয়েছে। গত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন তার দেশ ইরানের ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইস্ফাহানে তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতে জড়ানোর পর মেরহাভের ভবিষ্যদ্বাণী আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
তিন দশক পর জার্মানির হামবুর্গ থেকে প্রাগ যাওয়ার ট্রেনে মেরহাভের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। বার্লিনে ট্রেনে ওঠার পর আমি আমার বগিতে ঢুকলে বিপরীতে বসা বৃদ্ধ আমার বইটি দেখে জিজ্ঞাসা করেন আমি কি আরবি পড়ছি? আমি বলি ফার্সি পড়ছি, ইরানে ফিরে যাওয়ার আশায়। আমি কয়েক বছর আগে তেহরানে দ্য গার্ডিয়ানের সংবাদদাতা ছিলাম। কিন্তু ২০০৭ সালে কর্তৃপক্ষ আমার আবাসিক অনুমতি নবায়ন না করায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হই।
লোকটি বলেন, তিনি ফার্সি বলতে পারেন। আমরা সে ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করি। কিন্তু সীমিত সাফল্যের পর ইংরেজিতে ফিরে আসি। তিনি নিজেকে রুভেন বলে পরিচয় দেন। বলেন বিপ্লবের আগে তেহরানের দূতাবাসে কাজ করতেন। আমি তখন চমকে উঠি। কয়েক মাস আগেই রোনেন বার্গম্যানের বইতে মেরহাভের সতর্কবার্তা ও তেহরান থেকে ইসরায়েলিদের সরিয়ে নেওয়ার কথা পড়েছিলাম।
মেরহাভ মোসাদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন কি না জিজ্ঞেস করলে প্রশ্নটি এড়িয়ে যান। শুধু বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য কাজ করতেন। তবে বার্গম্যান ও তার কাজ জানেন বলে স্বীকার করেন। পরে নিশ্চিত হই তিনিই মেরহাভ।
২০০৫ সালে ইরানে আসার পর বসন্ত ও গ্রীষ্মের প্রায় প্রতি রাতেই উত্তর তেহরানের বাড়ির বারান্দা থেকে ‘মার্গ বার ইসরায়েল’ ও ‘মার্গ বার আমরিকা’ স্লোগান শুনতাম। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের স্বেচ্ছাসেবক মিলিশিয়া বাসিজের প্রশিক্ষণ শিবির থেকে এসব স্লোগান ভেসে আসত। এগুলো ইরানের বিপ্লবী ভূদৃশ্যের অংশ হয়ে উঠেছিল। ভবনগুলোতে খোদাই করা থাকত। ইস্ফাহানের নাকশ-ই জাহান স্কয়ারে ‘ইসরায়েলের মৃত্যু’ লেখা ছিল।
২০০৫ সালে ইরানে আসার সময় ইসরায়েল ও ইরান ছায়াযুদ্ধে লিপ্ত ছিল। তেহরানকে আর্জেন্টিনায় ইসরায়েলি ও ইহুদি স্থাপনায় হামলা ও লেবাননে হিজবুল্লাহকে সমর্থনের জন্য সন্দেহ করা হতো। কিন্তু জুনে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর উত্তেজনা বাড়ে।
অক্টোবরে তেহরানে এক সম্মেলনে আহমাদিনেজাদ ইসরায়েলকে ‘মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার’ আহ্বান করেন। তিনি হলোকাস্টকে ‘একটি মিথ’ বলে অভিহিত করেন। পরের বছর ইরানের সংবাদপত্র হামশাহরি হলোকাস্টের সমালোচনায় কার্টুন প্রতিযোগিতার ফল প্রকাশ করে। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সম্মেলনের আয়োজন করে যেখানে দাবি করা হয় ৬০ লাখ ইহুদির হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। এ অনুষ্ঠানে হলোকাস্ট অস্বীকারকারী ও ইহুদিবিদ্বেষীদের সমাবেশ ঘটে। তাদের মধ্যে ছিলেন ডেভিড ডিউক, কু ক্লাক্স ক্ল্যানের সাবেক নেতা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক। তিনি ইরানের ‘বাকস্বাধীনতা’র প্রশংসা করেন ও ইসরায়েলকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ বলেন।
তেল আবিবের রেইচম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানি বিশেষজ্ঞ মীর জাভেদানফার বলেন, ‘আহমাদিনেজাদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া ও হলোকাস্ট অস্বীকার করা বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল। পারস্য উপসাগরকে আরব উপসাগর বললে ইরানিরা ক্ষিপ্ত হয়। কিন্তু হলোকাস্ট মিথ বললে ইসরায়েলিদের কী প্রতিক্রিয়া হয়, তা তারা বুঝতে ব্যর্থ হয়।’
ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে বলে ইসরায়েলিদের সন্দেহ এ উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়। এখন দুই দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছে। মেরহাভের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যে পরিণত হয়েছে।
২০০২ সালে ইরানের গোপন পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য ফাঁস করে বিরোধী দল এমইকে। তারা জানায়, নাতাঞ্জে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের একটি কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। পশ্চিমা চাপের মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি এই কার্যক্রম স্থগিত করেন। তিনি আস্থা তৈরির লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ কার্যক্রম আবার চালু করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এটি ইরানের ‘অধিকার’। এই ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ে। ইসরায়েল এই ঘটনাকে নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করে।
ইরানবিষয়ক বিশ্লেষক মেহদি জাভেদানফার বলেন, ‘একজন নেতা হলোকাস্ট অস্বীকার করছেন, তিনি পারমাণবিক কর্মসূচি চালাচ্ছেন, হিজবুল্লাহকে সমর্থন দিচ্ছেন- ইরান এখন এক নতুন হুমকি।’
ইতিহাসবিদদের মতে, ইরান-ইসরায়েল সম্পর্কে এই উত্তেজনা এক সময়কার মিত্রতার নাটকীয় বিপরীত চিত্র।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানি স্টাডিজের পরিচালক আব্বাস মিলানি বলেন, ‘শাহের শাসনের শেষ দশকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ইসরায়েল ছিল অন্যতম প্রধান মিত্র।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেই সময় ইরান, ইসরায়েল ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে পারমাণবিক সহযোগিতার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।’ মিলানির মতে, শাহ ইসরায়েলকে ‘কৌশলগত মিত্র’ হিসেবে দেখতেন। এতে আরব জাতীয়তাবাদের প্রতি তাদের যৌথ সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়। তিনি বলেন, ‘শাহ ছিলেন বাস্তববাদী। তিনি বুঝতেন, ইসরায়েল থাকবে তাদের শত্রুদের নিয়ন্ত্রণ করে।’ এ সময় ইরানের ইহুদি জনগোষ্ঠী তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বোধ করত। মিলানি বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে ইহুদিদের সুসম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তৎকালীন যেকোনো মুসলিম দেশের চেয়ে ইরানে ইহুদিদের সংখ্যা ছিল বেশি। বিপ্লবের সময় সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার।’ কিন্তু ইসলামি বিপ্লব এ বাস্তবতা পাল্টে দেয়। শাহের পতনের পর দেশজুড়ে শুরু হয় ইহুদিবিরোধী মনোভাব। ধীরে ধীরে ইরানি ইহুদিরা দেশত্যাগে বাধ্য হয়। তাদের অনেকেই আশ্রয় নেয় ইসরায়েলে।
১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েল চায় সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে। তারা ইরানি বাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহ করে। কারণ তারা চায় না সাদ্দাম জয়ী হোক। ইরান সেসব অস্ত্র গ্রহণ করে। তবে সম্পর্ক মেরামতের কোনো ইচ্ছা প্রকাশ করে না।
জাভেদানফার বলেন, ‘আমি অনেক ইসরায়েলির সঙ্গে কথা বলেছি, যারা বিপ্লবের আগে ইরানে কাজ করতেন। তারা শাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে নানা চেষ্টা করেছিলেন। তারা, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও অনুরোধ করেছিল ইরানের সঙ্গে মধ্যস্থতা করতে।’ এই চেষ্টার ফলে ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারির জন্ম হয়। যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে জিম্মি মুক্ত করতে ইসরায়েলের মাধ্যমে ইরানে অস্ত্র পাঠায়।
জাভেদানফার আরও বলেন, ‘তাদের উদ্দেশ্য শুধুই ইরানকে সাহায্য নয়। দুই পক্ষের স্বার্থ এক ছিল। ‘তবে শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, এসব অস্ত্র হিজবুল্লাহর কাছে পৌঁছাচ্ছে যা দিয়ে ইসরায়েলিদেরই মারা হচ্ছে। ইরান কখনো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায়নি। সেটা একেবারেই অসম্ভব ছিল।’
তবুও এমন পরিস্থিতি হয়তো এত তিক্ততায় রূপ নিত না, যদি না খামেনির একগুঁয়েমি থাকত। ১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সর্বোচ্চ নেতা হন। তিনি ইসরায়েলবিরোধিতায় খোমেনির চেয়েও বেশি আগ্রহী ছিলেন। তিনি ইসরায়েলকে বলেন ‘মধ্যপ্রাচ্যের ক্যানসার’।
১৯৯১ সালে মাদ্রিদে শান্তি আলোচনা চলছিল। খামেনি তখন ইসরায়েলের সঙ্গে আপসবিরোধী শক্তির পক্ষে অবস্থান নেন। তার এই অবস্থান ছিল প্রেসিডেন্ট রাফসানজানির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ। এই সময় থেকে ইরান হিজবুল্লাহ ও হামাসের মাধ্যমে ছায়াযুদ্ধ আরও জোরদার করে। হামাস আত্মঘাতী হামলা চালাতে থাকে। এই হামলায় বহু ইসরায়েলি নিহত হয়। এর ফলে ১৯৯৬ সালে নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন অসলো চুক্তিবিরোধী কট্টর নেতা। খামেনির এই ইসরায়েলবিরোধী কৌশলের পেছনে ছিল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক লক্ষ্য।
জাভেদানফার বলেন, ‘সোভিয়েত পতনের পর খামেনি ইসলামি পরাশক্তি গড়ার সুযোগ দেখেছিলেন। এই কৌশল তার মিত্রদের অর্থনৈতিক লাভেও সহায়ক ছিল। ইরানকে বিচ্ছিন্ন রাখলে তারা দেশে একচেটিয়া সুবিধা পেত। টমেটো পিউরি থেকে শুরু করে গাড়ি- সবকিছুতে তারা লাভ করত। পশ্চিমা বিনিয়োগ ঠেকাতে ইসরায়েলবিরোধিতা ছিল একটি কার্যকর উপায়।’
মিলানি বলেন, খামেনির এই মনোভাব ইহুদিবিরোধী ধারণা থেকে এসেছে। তিনি আরও বলেন, ‘সাইয়্যিদ কুতুবের বই ‘ইন দ্য শেড অব দ্য কোরআন’-এর ভাবনা খামেনিকে প্রভাবিত করেছে। এই বই তিনি ফার্সিতে অনুবাদও করেছিলেন। অনেকেই প্রশ্ন করেন, এটা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত? ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান শুধু রাজনৈতিক নয়, এটা একধরনের ইহুদিবিদ্বেষও।’ তিনি বলেন, খামেনি মনে করেন, আজকের ইসরায়েল মদিনার সেই ইহুদিদের চেয়েও খারাপ, যারা নবী মোহাম্মদের বিরোধিতা করেছিল। এমন চিন্তাভাবনা যাদের মাথায় থাকে, তারা কখনো ইসরায়েলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারেন না।’ তবে ইরানে সবাই এই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন না। মিলানি আরও বলেন, ‘এটি একটি সংখ্যালঘু মত। অধিকাংশ ইরানি ইসরায়েলকে অস্তিত্বের হুমকি মনে করেন না। তারা স্বাভাবিক সম্পর্ক মেনে নিতে প্রস্তুত।’
ইসরায়েল যদি ইরানে ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালায়, তবে ইরানিদের মনোভাব বদলে যেতে পারে। নাগরিক হতাহত হলে তিক্ততা আরও বাড়বে। শত্রুতা আরও গভীর হবে। এই পরিস্থিতির জন্য মিলানি খামেনিকেই দায়ী করেন। তিনি বলেন, “তিনি বহু বছর ধরে যুদ্ধবাজ বক্তব্য দিয়ে গেছেন। কিন্তু বাস্তব প্রস্তুতি ছিল না। ইরানের প্রতিটি নীতির সঙ্গে ছিল ‘ইসরায়েলের মৃত্যু’ স্লোগান। কিন্তু যখন যুদ্ধ শুরু হয় তখন প্রস্তুতি ছিল না- এটি মারাত্মক অবহেলা। এতসব কথা বলার পর যখন ইসরায়েল প্রথম হামলা চালায় তখন ইরান ছিল পুরোপুরি অপ্রস্তুত। এটি সত্যিই অভাবনীয়।”