গ্রামকে উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগমুক্ত করতে এবং শৌচাগার ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করতে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন ভারতের রাজস্থান প্রদেশের বারমের জেলার জেলা প্রশাসক সুধীর শর্মা। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, যারা খোলা জায়গায় মলত্যাগ না করে শৌচাগার ব্যবহার করবেন, তাদের প্রতি মাসে ২৫০০ রুপি করে টাকা দেওয়া হবে।
জেলার প্রশাসকের এই উদ্ভাবনী পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা এবং গ্রামীণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
স্থানীয় প্রশাসনের মতে, এই আর্থিক প্রণোদনা মানুষকে শৌচাগার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করবে এবং যা উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগ প্রথা ধীরে ধীরে নির্মূল করবে।
মূলত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বচ্ছ ভারত অভিযানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জেলা প্রশাসক সুধীর শর্মা নিশ্চিত করেছেন যে তিনি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। তিনি জানান, খোলা স্থানে মলত্যাগের অভ্যাস বন্ধ করা এবং শৌচাগার ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, প্রকল্পটির উদ্বোধনী দিনে আটটি পরিবারকে ২,৫০০ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিটি কেয়ার্ন ইন্ডিয়া, গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থা ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে।
এ ছাড়া, এই প্রকল্পের জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে, যারা আর্থিক সহায়তা পাওয়া পরিবারের ওপর নজরদারি করবে। যাতে নিশ্চিত হওয়া যায়, টয়লেট নির্মাণের পর তারা তা ব্যবহার করছে কি না।
জেলা প্রশাসক সুধীর শর্মা নিশ্চিত করেছেন যে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫০০-র বেশি পরিবার উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগ সফল হলে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতেও প্রকল্পটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।
চলতি মাসের শুরুতে মথুরার সংসদ সদস্য ও অভিনেত্রী থেকে রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত হেমা মালিনী রাওয়াল গ্রামে পাঁচটি আধুনিক শৌচাগারের উদ্বোধন করেছেন। পৌরাণিক রাধার জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত এ গ্রামটিকে তিনি উন্নয়নের জন্য দত্তক নিয়েছেন।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো- প্রত্যেক গ্রামবাসীর দোরগোড়ায় শৌচাগার পৌঁছে দেওয়া, যাতে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন নিশ্চিত করা যায়। সূত্র: inuth.com/india
সুমন বিশ্বাস/