লোহিত সাগরে একাধিক গ্রেনেড হামলা এবং গোলাগুলির শিকার সেই পণ্যবাহী জাহাজে আগুন ধরে গেছে। সেটি এখন পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
এবার হুথিরা এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে , এটি ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে করা হয়েছে। যদিও সরকারী প্রতিবেদনে জাহাজটির নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে একজন সামুদ্রিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, এটি লাইবেরিয়ার নিবন্ধিত ম্যাজিক সীস বাল্ক কার্গো জাহাজ।
হুথি নিয়ন্ত্রিত আল আনসার টেলিগ্রাম চ্যানেলে পোস্ট করা এক বার্তায়, হুথিরা আরও জানায়, ম্যাজিক সীস লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া জাহাজগুলো প্রোফাইলের সাথে খাপ খায়। তাদের চারটি নৌ-ড্রোন এই জাহাজে আক্রমণ করেছে, যার ফলে এর পণ্যসম্ভারের ক্ষতি হয়।
কার্গো জাহাজটিতে হুথিরা ড্রোন , রকেট-চালিত গ্রেনেড (RPG) এবং ছোট অস্ত্রের গুলি চালিয়ে আক্রমণ করে। জাহাজটি বর্তমানে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের শিকার হয়ে ডুবে যাচ্ছে।
সোমবার (০৬ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্যের সামরিক কর্তৃপক্ষ। জাহাজটিতে বন্দুক, রকেটচালিত গ্রেনেড (আরপিজি) এবং সম্ভবত ড্রোনবোট দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগেই হামলার ধরন ও মাত্রা দেখে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ওপর সন্দেহ করা হচ্ছিলো। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানায়।
যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এক বিবৃতিতে জানায়, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটিতে আগুন লেগেছে এবং এতে পানি ঢুকে পড়ছে। নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
অ্যামব্রে মেরিটাইম সিকিউরিটি ফার্মের এক সতর্কতা অনুসারে, বাল্ক কার্গো জাহাজটি ইয়েমেনির হোদিদা বন্দর থেকে প্রায় ৫১ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে লোহিত সাগরে উত্তর দিকে যাচ্ছিল, তখন আটটি নৌকা ছোট অস্ত্র এবং আরপিজি দিয়ে এটিতে গুলি চালায়। তখন জাহাজের সশস্ত্র নিরাপত্তা দল (এএসটি) পাল্টা গুলি চালায়।
ইসরায়েল ও গাজার মধ্যে সর্বশেষ যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনিদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে ২০২৩ সালের নভেম্বরে হুথি জাহাজ হামলা শুরু হয় । তারা কিছু জাহাজকে আফ্রিকার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সুয়েজ খাল এড়িয়ে চলতে বাধ্য করেছে, যার ফলে জাহাজ পরিবহন খরচ প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে ।
এর আগে হুথিদের আক্রমণে দুটি জাহাজ ডুবে যায়, চার নাবিকের মৃত্যু হয় এবং একটি জাহাজ জব্দ করার পর অনেককে জিম্মি করা হয়। হুথিদের লোহিত সাগর অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের সঙ্গে তাদের প্রায়ই সামরিক সংঘর্ষও শুরু হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ইয়েমেনে হুথি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা এবং বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজে জঙ্গি গোষ্ঠীর ঘন ঘন ক্ষেপণাস্ত্র, বিমানবাহী ড্রোন এবং ড্রোন নৌকা আক্রমণ প্রতিহত করা।
মার্চ মাসে, মার্কিন জাহাজে হামলার জবাবে আমেরিকা ইয়েমেনে হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে তীব্র বিমান হামলা শুরু করে । পরে একটি যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হয়। সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙ্গে ডিসেম্বরের পর থেকে এই প্রথম লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ করলো হুথি।
এদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইয়েমেনে হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে নতুন আক্রমণ শুরু করেছে, যার মধ্যে রয়েছে গ্যালাক্সি লিডার নামে একটি জাহাজ , যা বিদ্রোহীরা ২০২৩ সালের নভেম্বরে ছিনতাই করেছিল । আইডিএফ দাবি করে, হুথিরা এটিকে জাহাজ চলাচল ট্র্যাক করার জন্য রাডার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করছে।
সুলতানা দিনা/