সম্প্রতি কোল্ডপ্লে কনসার্টে ধারণকৃত সহকর্মীকে আলিঙ্গনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার সেই মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা ‘অ্যাস্ট্রোনমারের’ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরপরই কোম্পানিটির পক্ষ থেকে এ নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্ত ছুটিতে থাকবেন। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কোল্ডপ্লে কনসার্টের একটি ভাইরাল ভিডিওটিতে বড় স্ক্রিনে এক যুগলকে আলিঙ্গনরত অবস্থায় দেখা যায়। তারা একটি প্রযুক্তি সংস্থার দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এই ঘটনা অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বুধবার (১৬ জুলাই) রাতে বোস্টনে কোল্ডপ্লে-এর কনসার্টের বিশাল স্ক্রিনে যখন দর্শক সারির মধ্যে থেকে এক যুগলকে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে দুলতে দেখা যায়, তখন তাদের মুখাবয়ব হাজার হাজার দর্শকের সামনে চলে আসে। নিজেদের চেহারা উন্মোচিত হতে দেখে ওই যুগল দ্রুত ক্যামেরা থেকে মুখ লুকিয়ে ফেলেন। এই দৃশ্যটি তাৎক্ষণিকভাবে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করে।
এছাড়া, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পেছনে কোল্ডপ্লে-এর প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিনের মন্তব্য বড় ভূমিকা রেখেছে। এসময় এই যুগলকে লুকিয়ে যেতে দেখে মার্টিন জনতাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘হয় তারা পরকীয়ায় লিপ্ত, অথবা খুবই লাজুক!’
ক্রিস মার্টিনের এই মন্তব্য অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এটিই ওই যুগলের মধ্যে ‘পরকীয়া’র গুজব উসকে দেয়। প্রাথমিকভাবে টিকটকে পোস্ট করা ভিডিওটি লাখ লাখ ভিউ পায় এবং পরবর্তীতে অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও ছড়িয়ে পড়ে। এটি নিয়ে এরই মধ্যে অসংখ্য মিম তৈরি হয়েছে। টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও চলছে রসিকতা।
ইন্টারনেটে এই আলিঙ্গন নিয়ে তোলপাড় শুরু হওয়ার দুই দিন পর, শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাতে, অ্যাস্ট্রোনমার তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, তাদের সিইও অ্যান্ডি বাইরনকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।
অ্যাস্ট্রোনমার-এর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অ্যাস্ট্রোনমার প্রতিষ্ঠার পর থেকে যে মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি আমাদের পথ দেখিয়েছে, আমরা তার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাদের নেতাদের কাছ থেকে আচরণ ও জবাবদিহির সর্বোচ্চ মান আশা করা হয়। পরিচালনা পর্ষদ এই বিষয়টি নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে এবং খুব শিগগিরই আমরা বিস্তারিত তথ্য জানাব।’
তদন্ত চলাকালীন, সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পণ্য কর্মকর্তা (সিপিও) পিট ডিজয়কে অন্তর্বর্তীকালীন সিইও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ভিডিওর নারীটিকে সংস্থার প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা (সিপিও) ক্রিস্টিন ক্যাবট বলে অনলাইনে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে অ্যাস্ট্রোনমারে কাজ করছেন।
অ্যাস্ট্রোনমার বিবৃতিতে আরও জানান, অ্যান্ডি বাইরন কোনো ব্যক্তিগত বিবৃতি দেননি এবং এ বিষয়ে প্রকাশিত যেকোনো প্রতিবেদন ভুল। সংস্থাটি আরও নিশ্চিত করেছে, ভিডিওতে অন্য কোনো কর্মকর্তা ছিলেন না। গত বৃহস্পতিবার অ্যান্ডি বাইরনের নামে ভুয়া বিবৃতিও অনলাইনে ভাইরাল হয়েছিল।
এই ঘটনাটি করপোরেট জগতে ব্যক্তিগত আচরণ এবং পেশাদারির সীমারেখা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সুলতানা দিনা/