দক্ষিণ কোরিয়ার কারাবন্দি সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োলের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। শনিবার (১৯ জুলাই) বিশেষ কৌঁসুলির দফতর এক ব্রিফিংয়ে জানায়, নতুন অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অন্যের অধিকার চর্চায় বাধা সৃষ্টি, নথি মুছে ফেলার নির্দেশ এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে বাধা দেওয়া।
রবিবার (২০ জুলাই) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই খবর জানায়।
বর্তমানে একজন বিশেষ কৌঁসুলি তার ডিসেম্বরের স্বল্পস্থায়ী মার্শাল ল ঘোষণার বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। ইউনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অভিযোগে যে বিচার চলছে, সেখানে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। জুন মাসে বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অভিযোগ আনা হচ্ছে।
এদিকে, ইউন তার বিরুদ্ধে আনা সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নতুন অভিযোগ সম্পর্কে তার আইনজীবীরা তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেননি।
অভিশংসিত ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক এই নেতা চলতি মাসের শুরু থেকে সিউল ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি রয়েছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে আদালত তাকে মুক্তির আবেদন খারিজ করে দেয়।
গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল সামরিক আইন ঘোষণা করেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি,৩ ডিসেম্বর ইউনের এই পদক্ষেপের ফলে দক্ষিণ কোরিয়া সে সময় রাজনৈতিক সংকটে পড়ে যায়। তখন তিনি বেসামরিক শাসনকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেন। এছাড়া, তিনি সেসময় আইন প্রণেতাদের সামরিক আইনের ঘোষণার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া ঠেকাতে পার্লামেন্টে সেনা পাঠান।
তিনি দেশের প্রথম ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপতি যাকে আটক করা হয়েছিল। তবে বিদ্রোহের অভিযোগে তার বিচার চলা অবস্থাতেও গত মার্চ মাসে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এরপর, মামলার প্রমাণ নষ্ট করতে পারেন এই আশঙ্কায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর গত সপ্তাহে তাকে আবার আটক করা হয় ।
আটকের পর থেকে ইউন জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, কিন্তু গত শুক্রবার আদালতে হাজির হয়ে তার পরোয়ানা বাতিলের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
সুলতানা দিনা/