ভারতীয় বিমান বাহিনীর ইতিহাসের অন্যতম পুরোনো যুদ্ধবিমান মিগ-২১ প্রায় ৬২ বছর পর স্থায়ীভাবে অবসরে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, আগামী সেপ্টেম্বরে যুদ্ধবিমানের এই বহরকে অবসরে পাঠাচ্ছে দেশটি।
এর দুই সপ্তাহ আগেই, তাইওয়ান তাদের ভিয়েতনাম-যুগের F-5 যুদ্ধবিমানগুলোকে অবসরে পাঠানোর ঘোষণা দেয়। চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে ক্রমবর্ধমান হুমকির সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য তাইওয়ান তার মনুষ্যবাহী এবং মনুষ্যবিহীন দুই ধরণের আকাশযানের সংগ্রহ উন্নত করছে। এর মধ্যে রয়েছে সর্বশেষ প্রজন্মের ৬৬টি F-16V যুদ্ধবিমান কেনা এবং বর্তমানে সংগ্রহে থাকা বিমানগুলোকে আধুনিক স্পেসিফিকেশনে আপগ্রেড করা।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তিগত দিক থেকে পিছিয়ে পড়া সুপারসনিক এসব যুদ্ধবিমান অবসর নেওয়ার পর এগুলোর ভবিষ্যত কি হবে তা নিয়ে অনেকের মনে কৌতুহল রয়েছে। আসুন এ সম্পর্কে একটু জেনে নেই।
যখন কোনো যুদ্ধবিমান অবসর গ্রহণ করে, তারা সাধারণত বেশ কয়েক রকম পরিণতির মধ্য দিয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে, অনেক বিমানকে দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণের জন্য ‘বোনইয়ার্ডে’ পাঠানো হয়। আবার কিছুক্ষেত্রে এভিওনিক্স এবং অন্যান্য ব্যবহারযোগ্য খুচরা যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়া হয়। এরপর কাঁচামালের জন্য এগুলো স্ক্র্যাপ করা হয়।
এখানে এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হল:
স্টোরেজ (মথবলিং):
কিছু যুদ্ধ বিমান থেকে সব তরল পদার্থ নিষ্কাশন করে সেটি এমনভাবে সংরক্ষণ করা হয় যাতে ভবিষ্যতে এটিকে আবার সক্রিয় করা যায়। অ্যারিজোনাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর এমন একটি ঘাঁটি রয়েছে। এটি এভাবে যুদ্ধবিমান সংরক্ষণের জন্য একটি সুপরিচিত স্থান। জায়গাটি ‘বিমানের কবরস্থান‘ নামেও পরিচিত।
যন্ত্রাংশ পুনরুদ্ধার:
অনেক অবসরপ্রাপ্ত যুদ্ধ বিমান থেকে মূল্যবান উপাদান যেমন-এভিওনিক্স ( রাডার, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা, ককপিট ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদি) খুলে নেয়া হয়। পরে সেগুলো আবার অন্যান্য সক্রিয় বিমানে ব্যবহার করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অন্যান্য খুচরা যন্ত্রাংশও উদ্ধার করা হয়।
স্ক্র্যাপিং:
যখন যন্ত্রাংশ আর ব্যবহারযোগ্য থাকে না তখন প্রায়শই এর কাঁচামালের জন্য এটি স্ক্র্যাপ করা হয়।
অন্যান্য ব্যবহার:
কিছু ক্ষেত্রে, অবসরপ্রাপ্ত যুদ্ধ বিমানের যন্ত্রাংশগুলো অন্যান্য ক্ষেত্রে আবার ব্যবহার করা হয়। যেমন- পুরানো জেট ইঞ্জিনগুলো ভূ-তাপীয় শক্তি কেন্দ্রগুলোতে ব্যবহার করা হয়।
আবার, কিছু অবসরপ্রাপ্ত বিমান জাদুঘরে দান করা হয় অথবা জনসাধারণের প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে, অবসরপ্রাপ্ত বিমান বা তাদের যন্ত্রাংশ খুচরা যন্ত্রাংশের উৎস হিসেবে অন্যান্য দেশে বিক্রিও করা হয়।
সুলতানা দিনা/