ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় আবারও আকাশপথে ত্রাণ সরবরাহের অনুমতি দিতে যাচ্ছে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে। ইতোমধ্যে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী আইডিএফের সমন্বয়ে এ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে জর্ডান, এবং আজকের (২৫ জুলাই, শুক্রবার) মধ্যেই প্রথম এয়ারড্রপ হতে পারে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের কোঅর্ডিনেটর অব গভর্নমেন্ট অ্যাকটিভিটিজ ইন দ্য টেরিটরিজ (COGAT)।
কিন্তু মানবিক সহায়তার এই উদ্যোগ ঘিরে আবারও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, গত বছরও এভাবে আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলার সময় হুড়োহুড়ি করে ছুটে আসা মানুষের ভিড়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন পাঁচজন ফিলিস্তিনি।
সেই দুর্ঘটনার পর এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এখন আবারও তা শুরুর পরিকল্পনা করছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকাশপথে ত্রাণ ফেলার এ ধরনের প্রচেষ্টা দৃশ্যমান চিত্র তৈরিতে কার্যকর হলেও বাস্তবে তা তেমন সহায়ক নয়, বরং বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কারণ, এসব ত্রাণ নির্বিচারে খোলা জায়গায় পড়ে, যা নিয়ে হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। আর এ সুযোগে লুটতরাজও চলে, যা সত্যিকারের ক্ষতিগ্রস্তদের অনেক সময় ত্রাণ থেকে বঞ্চিত করে।
অথচ গাজার স্থলসীমান্তেই বহুদিন ধরে শত শত ত্রাণবাহী ট্রাক আটকে আছে। মানবিক সহায়তা সংগঠনগুলো বারবার আহ্বান জানিয়েও সেগুলো প্রবেশ করাতে পারেনি। মানবিক সহায়তা বিতরণের সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি হলো স্থলপথে, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বিতরণ করা।
কিন্তু স্থলপথে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (GHF) নামক ত্রাণ সংস্থার মাধ্যমে বিতরণ করা ত্রাণ নিতে গিয়ে ত্রাণকেন্দ্রে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে কয়েকগুণ। অর্থাৎ খাবারের অভাবের চেয়ে খাবার নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ত্রাণ দেওয়া যেন গাজাবাসীর সঙ্গে নিদারুণ রসিকতায় পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া ও জাতিসংঘ ইতোমধ্যে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং টেকসই মানবিক সহায়তা প্রবাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। চীনও দুই পক্ষকে সংযত থাকতে এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর তাগিদ দিয়েছে। সূত্র: স্কাই নিউজ, দ্য টাইমস অব ইসরায়েল