সবুজ উপত্যকা, বরফে আচ্ছাদিত পর্বতমালা এবং শান্ত হ্রদের জন্য পৃথিবী বিখ্যাত ভূস্বর্গ কাশ্মীর। মনোমুগ্ধকর উপত্যকা এবং পর্বতমালা ছাড়াও এখানকার হ্রদের মনোরম দৃশ্যের জন্যও সারা বছরই জায়গাটি ভ্রমণকারীদের জন্য একটি আকর্ষনীয় স্থান হয়ে উঠেছে।
এবার প্রায় তিন দশক পর কাশ্মীরের উলার হ্রদ আবারও পদ্ম ফুলে ছেয়ে গেছে। নয়নাভিরাম এই প্রাকৃতিক পদ্ম বাগান যেন কাশ্মীরের এই নামকরণকে একেবারে স্বার্থক করে তুলেছে।
এদিকে, আবার নতুন করে এই পদ্মভূমির জেগে ওঠাকে আশেপাশের প্রায় ৫০ গ্রামের পরিবারগুলোর জন্যও একটি আশার আলো হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই হ্রদের উপরই এই ৫০ গ্রামের মানুষের জীবিকা নির্ভর করে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে দুই কেজি পদ্ম কাণ্ডের একটি প্যাকেট মানের উপর নির্ভর করে ২৫০ থেকে ৩৫০ রুপিতে বিক্রি হয়।
স্থানীয় ভাষায় পদ্ম ফুলের কাণ্ডকে ‘নাদ্রু’ বলা হয়। এটি একটি সুস্বাদু সবজি এবং পরিচিত নিরামিষ খাবার। প্রায় কয়েক দশকের বন্যায় প্রচুর পরিমাণে পলি জমা হয়ে হ্রদের পদ্ম কাণ্ডগুলো চাপা পড়ে গিয়েছিল। তাই এতদিন এই নাদ্রু সংগ্রহ করা বন্ধ ছিল। যার ফলে এই পরিবারগুলোকে এত দিন বিকল্প উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়েছে।
এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির এই হ্রদটি বারামুল্লা এবং বান্দিপোরা জেলা জুড়ে বিস্তৃত। হ্রদটি রামসার সাইট হিসাবে মনোনীত ভারতের ৪২টি জলাভূমির মধ্যে একটি। যার অর্থ এটি একটি আন্তর্জাতিক মানের হ্রদ।
উত্তর কাশ্মীরের অবস্থিত এই অগভীর হ্রদটি সর্বোচ্চ ৫.৮ মিটার গভীর এবং ১৩০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত, যা এই উপত্যকার মাছ উৎপাদনের ৬০ শতাংশ সরবরাহ করে থাকে। গত ছয় বছরে হ্রদের প্রাকৃতিক অবস্থা সংরক্ষণে ৩০০ কোটি রুপিরও বেশি ব্যয় করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন , এবার তারই ফলাফল মিলেছে।
হ্রদ সংরক্ষণ প্রকল্পের উদ্যোগে, হ্রদের ৫ বর্গ কিলোমিটারেরও বেশি ইতোমধ্যেই খনন করা হয়েছে। আরও ২২ বর্গ কিলোমিটার পলিযুক্ত এলাকাও পরিষ্কার করার উদ্যোগ চলমান রয়েছে।
সুলতানা দিনা/