রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা এরোফ্লোটের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোয় সাইবার হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ক্রেমলিন। হামলার ফলে বিমান সংস্থাটির তথ্য ব্যবস্থায় বিপর্যয় সৃষ্টি হয় এবং বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয় সংস্থাটি।
এদিকে ‘সাইলেন্ট ক্রো (Silent Crow)’ নামে একটি প্রো-ইউক্রেনীয় হ্যাকার গোষ্ঠী এক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা জানায়, বেলারুশের সাইবার গোষ্ঠী ‘সাইবার পার্টিজানস’-এর সহযোগিতায় তারা এ হামলা চালিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে প্রকাশিত বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি দাবি করে, “দীর্ঘমেয়াদি ও বৃহৎ পরিসরের অপারেশনের মাধ্যমে আমরা এরোফ্লোটের অভ্যন্তরীণ আইটি অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছি।”
তারা আরও জানায়, সংস্থার ডেটাবেস ও করপোরেট সিস্টেম মুছে ফেলা হয়েছে, এমনকি কর্মীদের ব্যক্তিগত কম্পিউটারেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
হ্যাকার গোষ্ঠীটি হুমকি দিয়ে জানায়, “যেসব রুশ নাগরিক কখনো এরোফ্লোটের ভ্রমণ করেছে—তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দেওয়া হবে।” বিবৃতির শেষাংশে লেখা হয়, “গৌরব ইউক্রেনের! দীর্ঘজীবী হোক বেলারুশ!”
যদিও এই ধরনের হ্যাকার গোষ্ঠীগুলো প্রায়ই তাদের সাফল্য অতিরঞ্জিত করে, এদের দাবির সত্যতা যাচাই করা কঠিন।
তবে রুশ প্রসিকিউটর জেনারেলের দপ্তর নিশ্চিত করেছে, সাইবার হামলার কারণে এরোফ্লোটের আইটি সিস্টেমে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে এবং এ ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে।
রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর যাত্রীদের অন্য বিমান সংস্থার মাধ্যমে পরিবহনের চেষ্টা চলছে। এই বাতিলকৃত ফ্লাইটের মধ্যে বেশিরভাগই অভ্যন্তরীণ হলেও বেলারুশ, আর্মেনিয়া ও তাসখন্দগামী ফ্লাইটগুলোতেও বিঘ্ন ঘটেছে।
রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর ২০২২ সাল থেকে প্রো-রুশ ও প্রো-ইউক্রেনীয় হ্যাকার গোষ্ঠীগুলো সাইবার আক্রমণে সক্রিয় রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই তাদের দাবি কতটা বাস্তবসম্মত তা যাচাই করা কঠিন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই গোষ্ঠীগুলো স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যারা প্রতিপক্ষের মনোবল ভাঙতে এবং সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম তৈরি করতে হামলার গুরুত্ব অতিরঞ্জন করে।
তবে এই হামলাটি তুলনামূলকভাবে ব্যতিক্রম, কারণ এটি একটি প্রধান রুশ কোম্পানির ওপর দৃশ্যমান ও তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেছে, যা দশ-হাজারো সাধারণ মানুষের ভ্রমণব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।
‘সাইলেন্ট ক্রো’ দাবি করেছে, তারা বেলারুশের দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় সাইবার গোষ্ঠী ‘সাইবার পার্টিজানস’-এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে। এই গোষ্ঠীটি ২০২২ সাল থেকে রাশিয়া ও বেলারুশে একাধিক হামলা চালিয়ে আসছে এবং নিজেদের “স্বৈরাচার থেকে বেলারুশ মুক্ত করার লক্ষ্যে সংগঠিত হ্যাকটিভিস্ট” হিসেবে পরিচয় দেয়।
উল্লেখ্য, ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রুশ ভ্রমণব্যবস্থা প্রায়শই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে—বিশেষ করে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণে।
এ মাসের শুরুতেই মস্কোর চারটি প্রধান বিমানবন্দরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পর শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়, যার প্রভাব পড়ে দশ হাজারের বেশি যাত্রীর ওপর। সূত্র: বিবিসি
মাহফুজ/