ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিস (ইসিজে) গতকাল শুক্রবার এক রায়ে জানিয়েছেন, অভিবাসীদের আলবেনিয়ায় পাঠানোর ইতালির পরিকল্পনা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন ইতালির সরকার বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন দুই বাংলাদেশি। এ সময় সাগর থেকে তাদের ইতালির নিরাপত্তারক্ষীরা উদ্ধার করেন। তবে তাদের ইতালিতে না রেখে পাঠানো হয় আলবেনিয়ায়। সেখান থেকেই তাদের আশ্রয়ের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ ও আবেদন বাতিল করা হয়। তবে আবেদন বাতিলের বিরুদ্ধে ইতালির আদালতে মামলা করেন দুই বাংলাদেশি। এরপর তাদের মামলাটি পাঠানো হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ আদালতে।
এ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইইউর সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়ে বলেছেন, ইতালি কোনো অভিবাসনপ্রত্যাশীকে আলবেনিয়ার বন্দিশিবিরে পাঠাতে পারবে না। বাংলাদেশিদের পক্ষে রায় দেওয়ার পর এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন জর্জিয়া মেলোনি। তার এই আলোচিত পরিকল্পনার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশ আলবেনিয়ায় অভিবাসীদের জন্য একটি বন্দিশিবির পরিচালনার কথা ছিল। এর মাধ্যমে অভিবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা এবং আশ্রয় প্রার্থনায় ব্যর্থদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর লক্ষ্য ছিল। তবে এ পরিকল্পনাটি বহুদিন ধরেই আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে এবং কার্যত স্থগিত রয়েছে।
ইতালির বিচারকরা ইউরোপিয়ান কোর্টের একটি পুরোনো সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে- কোনো একটি দেশকে সম্পূর্ণভাবে ‘নিরাপদ দেশ’ হিসেবে ঘোষণা করা যাবে না, যদি সে দেশের কিছু অঞ্চলে নিরাপত্তার অভাব থাকে।
শুক্রবার প্রকাশিত রায়ে ইউরোপীয় কোর্ট জানিয়েছে, কোনো দেশকে ‘নিরাপদ দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে হলে পুরো দেশজুড়ে জনগণের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত থাকতে হবে।
তারা আরও বলেছে, এ ধরনের ঘোষণার ভিত্তি হিসেবে যেসব তথ্য ব্যবহার করা হয়, তা যেন আদালত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সহজে দেখতে পান, সেটিও বাধ্যতামূলক।
রায়ে বলা হয়, যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিককে আলবেনিয়ায় পাঠানো হয়েছিল, তাদের এই নিরাপত্তা-সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
বর্তমানে ইতালির ‘নিরাপদ দেশ’ তালিকায় রয়েছে মিশর, বাংলাদেশ ও তিউনিশিয়া- যেখানে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
২০২৩ সালের নভেম্বরে ইতালি ও আলবেনিয়ার মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইতালি অর্থায়ন করবে এবং আলবেনিয়ায় অভিবাসী কেন্দ্র পরিচালনা করবে।
২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে কিছু অভিবাসী সেখানে পাঠানো হয়েছিল, তবে ইতালির আদালত তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আদেশ দেন। কারণ, এই আটকাদেশ আইনসংগত ছিল না।
পরবর্তী সময়ে ইতালি ‘নিরাপদ দেশ’ তালিকা পরিবর্তন করে আবারও অভিবাসীদের পাঠায়, কিন্তু আদালত আবারও তা অবৈধ ঘোষণা করে এবং বিষয়টি ইউরোপীয় কোর্টে পাঠানো হয়।
তবে ইউরোপীয় কোর্ট জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুন থেকে এ বিষয়ে কিছু পরিবর্তন আসবে, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু ‘পরিচিত ঝুঁকিপূর্ণ’ শ্রেণির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হবে।
এদিকে মেলোনির কট্টর-ডানপন্থি সরকার আদালতের এ রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করেছে।