চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠেয় সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে চীনে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। গালওয়ান উপত্যকায় চীন-ভারত সংঘর্ষের পর এটি হবে মোদির প্রথম চীন সফর। এর আগে তিনি ২০১৯ সালে সর্বশেষ চীনে গিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনেরও যোগদানের কথা রয়েছে।
এসসিও সম্মেলনে অংশগ্রহণের আগে মোদি ৩০ আগস্ট জাপান সফর করবেন। সেখানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সঙ্গে বার্ষিক ভারত–জাপান শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন তিনি। এরপর সেখান থেকে সরাসরি তিয়ানজিনে এসসিও সম্মেলনে যোগ দেবেন মোদি—এমনটাই জানিয়েছে ভারতের সরকারি সূত্র।
মোদির সফরের আগে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ইতোমধ্যেই চীনে গিয়ে এসসিও সংক্রান্ত বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। পরবর্তী পর্যায়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বেইজিং সফর করে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
মোদির সফরের সময় বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিকস দেশগুলোর রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা এবং ডলারের আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করার কারণে এ জোটের কঠোর সমালোচনা করছেন। এসসিওর সদস্য রাশিয়া তিয়ানজিন সম্মেলনে প্রতিনিধি দল পাঠাবে বলে জানালেও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত নয়।
চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের সময় ট্রাম্প প্রশাসন আমদানি শুল্ক তিন অঙ্কে নিয়ে গেলেও বর্তমানে তা কমে ৩০ শতাংশে এসেছে। এদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের কারণে ভারতকেও ২৫ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং বুধবার (৬ আগস্ট) নতুন করে আরও শুল্ক আরোপ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত জুনে এসসিওর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিতে চীনের ছিংদাও সফর করেছিলেন রাজনাথ সিং। সেখানে একটি যৌথ বিবৃতিতে সই করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি—কারণ, সে নথিতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান এবং পহেলগাম হামলার (যেখানে ২৬ জন নিহত হন) প্রসঙ্গ উপেক্ষিত ছিল। ফলে এসসিও সম্মেলনে যৌথ বিবৃতি জারির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে দেশগুলো।
সূত্র জানায়, চীন এবং তাদের ‘অলওয়েদার ফ্রেন্ড’ পাকিস্তান—নথিটি থেকে সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে পহেলগাম হামলার বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চেয়েছিল। বরং সেখানে বেলুচিস্তানের উল্লেখ ছিল—যেটি ঘুরিয়ে ভারতের বিরুদ্ধেই অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ করার চেষ্টা।
তবে জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র যখন 'দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট'-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে, তখন চীন ওই হামলার নিন্দা জানায়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, ‘চীন সন্ত্রাসবাদের সব ধরনের সহিংসতা ও সন্ত্রাসের বিরোধিতা করে এবং ২২ এপ্রিলের সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সন্ত্রাস দমনে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।’
উল্লেখ্য, বর্তমানে এসসিও'র নয়টি সদস্য দেশ রয়েছে—চীন, ভারত, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, রাশিয়া, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, ইরান ও উজবেকিস্তান। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
মাহফুজ/