মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ার উপকূলে সমুদ্রতল থেকে ২ হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো এক ডুবে যাওয়া শহরের অংশবিশেষ উদ্ধার করেছে প্রত্নতত্ত্ববিদরা।
গত বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) ডুবুরিরা এসব নিদর্শন উদ্ধার করার পর বিশাল ক্রেন দিয়ে তা পানির ওপরে তোলা হয়।
উদ্ধার হওয়া নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে প্রাচীন স্থাপনা, মন্দিরসদৃশ ভবন, বসতবাড়ি, শিল্প-কারখানার কাঠামো, এমনকি একটি প্রাচীন নৌঘাট।
আরও রয়েছে চুনাপাথরের তৈরি ধর্মীয় ও আবাসিক স্থাপনা, পানি সংরক্ষণের জন্য পুকুর, এমনকি মাছ চাষের জন্য প্রাচীন জলাধার। এ ছাড়া প্রি-রোমান যুগের রাজকীয় মূর্তি ও স্ফিংক্সও পাওয়া গেছে- এর মধ্যে একটি আংশিক সংরক্ষিত স্ফিংক্সে রামেসিস দ্বিতীয়-এর নামলিপি পাওয়া গেছে।
এ ছাড়াও ১২৫ মিটার দীর্ঘ এক ঘাট থেকে একটি বণিক জাহাজ, প্রস্তর নোঙর, এবং প্রাচীন হারবার ক্রেন পাওয়া গেছে- যা টলেমীয় ও রোমান যুগে ছোট নৌকার জন্য ব্যবহৃত হতো এবং বাইজান্টাইন যুগ পর্যন্ত সক্রিয় ছিল।
তবে বেশিরভাগ মূর্তিই ক্ষতিগ্রস্ত। কোথাও মাথা নেই, কোথাও আবার অর্ধেক অংশ ভেঙে গেছে। টলেমীয় যুগের এক গ্রানাইট মূর্তির মাথা ভাঙা অবস্থায় মিলেছে। রোমান যুগের এক অভিজাতের মার্বেল ভাস্কর্যটিও কেবল নিচের অংশটুকু অক্ষত আছে।
মিসরের কর্তৃপক্ষ জানায়, আবু কির উপসাগরের পানির নিচে পাওয়া এ নিদর্শনগুলো প্রাচীন নগরী ক্যানোপাসের সম্প্রসারণ অংশ হতে পারে। ক্যানোপাস ছিল টলেমীয় রাজবংশের (প্রায় ৩০০ বছর শাসনকাল) এবং পরবর্তী রোমান সাম্রাজ্যের (প্রায় ৬০০ বছর শাসনকাল) একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সময়ের সঙ্গে ভূমিকম্প ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে শহরটি এবং কাছের বন্দর হেরাক্লিওন সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যায়।
প্রত্নসম্পদমন্ত্রী শেরিফ ফাতিহি বলেন, “সমুদ্রতলে এখনো অসংখ্য নিদর্শন রয়ে গেছে। তবে আমরা কেবল নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী কিছু বেছে তুলে আনছি। বাকিগুলো পানির নিচেই আমাদের ডুবে থাকা ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে রয়ে যাবে।”
আলেকজান্দ্রিয়া আজও অসংখ্য প্রাচীন নিদর্শনের আধার হলেও শহরটি ক্রমশ জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকির মুখে পড়ছে। প্রতি বছর শহরটি প্রায় ৩ মিলিমিটার করে ডুবে যাচ্ছে। এমনকি জাতিসংঘের সর্বোত্তম পূর্বাভাসও বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে আলেকজান্দ্রিয়ার এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাবে বা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মেহেদী/