পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের বিমস্টেক (BIMSTEC) জোটে যোগ দিতে ইন্দোনেশিয়াকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। ভারত চায় ইন্দোনেশিয়া তাদের নেতৃত্বাধীন মাল্টি-ট্রিলিয়ন ডলারের জোট বিমস্টেকের অংশ হোক, কারণ তারা জাকার্তার সঙ্গে বাণিজ্য দ্বিগুণ করতে আগ্রহী।
দিল্লির নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের এই জোটের পুরো নাম হলো বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন। এই গোষ্ঠীটি বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী দেশগুলোকে একত্রিত করে। বঙ্গোপসাগর হলো উত্তর-পূর্ব ভারত মহাসাগরে অবস্থিত একটি বিশাল উপসাগর। এর সীমা ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের উত্তর প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত।
ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলোর মতো, বিমস্টেকও বাণিজ্য এবং অন্যান্য ধরনের সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর জোর দেয়। এই জোটে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ড অন্তর্ভুক্ত, যাদের সম্মিলিত মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ইন্দোনেশিয়ায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সন্দীপ চক্রবর্তী গত সোমবার বলেছেন যে, নয়াদিল্লি চায় জাকার্তা এই ক্লাবের অষ্টম সদস্য হোক, কারণ অন্যান্য আসিয়ান দেশগুলো ইতোমধ্যেই এতে যোগ দিয়েছে।
জাকার্তায় একটি সম্মেলনে চক্রবর্তী বলেন, ইন্দোনেশিয়ার উচিত বিমস্টেক-এর সদস্য হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা। গোষ্ঠীটি সম্প্রতি তাদের সনদ পরিবর্তন করেছে এবং এখন নতুন সদস্যদের যোগদানের অনুমতি দিচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য ২০২৩ সালের ২৭ বিলিয়ন ডলার থেকে পরের বছর ২৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ইন্দোনেশিয়ার বার্ষিক রপ্তানি প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে স্থির ছিল। ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য মাত্র ১৩.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের জানুয়ারি-জুলাই মাসে রেকর্ড করা ১৫.৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় অনেকটাই কম। চক্রবর্তী স্বীকার করেছেন যে উভয় পক্ষের জন্য তাদের ৫০ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে এবং এই লক্ষ্যকে আরও বাস্তবসম্মত করা যেতে পারে।
ভারত বিমস্টেকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনীতি এবং ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। এরপরই রয়েছে থাইল্যান্ড। তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এই দুটি দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশের মধ্যে ১৭.৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়েছে।
থাইল্যান্ড এবং ভুটান উভয়ই একটি আন্তঃ-বিমস্টেক মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে।
জাকার্তা গ্লোব এই বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহদ নাবিল এ মুলাচেলার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, বিশেষ করে এই জোটে ইন্দোনেশিয়ার আগ্রহ এবং সদস্যপদের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে কি না, তা জানতে। সূত্র: জাকার্তা গ্লোব
মাহফুজ/