ইসরায়েলের জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা অনুসারে, জর্ডান এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের মধ্যে অবস্থিত কিং হুসেইন (অ্যালেনবি) সেতু ক্রসিংয়ে এক হামলাকারী দুই ইসরায়েলি পুরুষকে হত্যা করেছে।
পরিষেবাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত ক্রসিংয়ে প্রায় ২০ এবং ৬০ বছর বয়সী দুই ব্যক্তি আহত হন এবং পরে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলাকারী জর্ডান থেকে একটি মানবিক সহায়তা ট্রাকে করে আসছিলেন এবং গুলি চালাতে শুরু করেন। নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা গুলি চালায় এবং হামলাকারীকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামলাকারী তার বন্দুকের গুলি শেষ হয়ে যাওয়ার পর ছুরি দিয়ে ভুক্তভোগীদের আঘাত করে থাকতে পারে।
এখনো কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলার পর ওই এলাকায় তল্লাশি চালায় এবং পার্শ্ববর্তী পশ্চিম তীরের শহর জেরিকোকে ঘিরে ফেলে।
জর্ডানের সরকারের মুখপাত্র মোহাম্মদ মোমানি বলেছেন, জর্ডানের কর্তৃপক্ষ এই হামলার খবর খতিয়ে দেখছে এবং পরে যেকোনো তথ্য জানানো হবে।
জর্ডানের সরকারি সংবাদ সংস্থা পেট্রা জানিয়েছে, ‘‘অন্য পাশ থেকে বন্ধ করে দেওয়ার পর’’ ক্রসিংয়ে যাত্রী চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
জর্ডান এবং ইসরায়েলের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ক্রসিং হলো কিং হুসেইন (অ্যালেনবি) সেতু। এর আগে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এখানে এক হামলায় জর্ডানের এক বন্দুকধারী ৩ ইসরায়েলি সীমান্ত কর্মীকে হত্যা করেছিল। সে সময় ক্রসিংটি দুই দিনের জন্য বন্ধ ছিল।
এই ক্রসিংটিকে ‘‘অত্যন্ত সুরক্ষিত জায়গা’’ হিসেবে ধরা হয়ে থাকে এবং সাম্প্রতিক হামলাগুলো প্রশ্ন তৈরি করেছে যে কীভাবে একজন সশস্ত্র হামলাকারী অগোচরে সেখানে প্রবেশ করতে পারল।
তিনি আরও বলেন, এই সেতুটিই একমাত্র ক্রসিং যা দিয়ে বেশিরভাগ ফিলিস্তিনি বিদেশে যাতায়াত করতে পারেন, কারণ তারা ইসরায়েলের বেন-গুরিওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারেন না এবং ইসরায়েল তাদের পশ্চিম তীর বা গাজায় কোনো বিমানবন্দর তৈরি করার অনুমতি দেয়নি। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/