ডানপন্থী সমর্থক, কর্মী ও বক্তা চার্লি কার্কের ৩৬ বছর বয়সী বিধবা স্ত্রী এরিকা কার্ক জানিয়েছেন, তিনি তার স্বামীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। স্থানীয় সময় রবিবার স্বামীর স্মরণসভায় দেওয়া গভীর ধর্মীয় আবেগঘন বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
“আমার স্বামী চার্লি—তিনি তরুণদের বাঁচাতে চাইতেন, এমনকি সেই তরুণটিকেও, যে তার জীবন নিয়েছে,” বলেন এরিকা। অ্যারিজোনার এক স্টেডিয়ামে ৬০ হাজারের বেশি মানুষের সমাগমে তিনি এ কথা জানান। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও উপস্থিত ছিলেন।
কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে এরিকার, যখন তিনি বলেন, “ওই মানুষটিকে, ওই তরুণটিকে আমি ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি তাকে ক্ষমা করেছি কারণ সেটাই যিশু খ্রিষ্ট যা করেছেন। আর সেটাই চার্লিও করতেন। ঘৃণার জবাব ঘৃণা নয়।”
৩১ বছর বয়সী চার্লি কার্ককে গত ১০ সেপ্টেম্বর উটাহ এর একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক প্রকাশ্য বিতর্ক অনুষ্ঠানে গুলি করে হত্যা করা হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুলসংখ্যক অনুসারী, জনপ্রিয় পডকাস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপস্থিতির মাধ্যমে চার্লি কার্ক ট্রাম্পকে তরুণ ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় করতে কাজ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি জাতীয়তাবাদী ও খ্রিষ্টানভিত্তিক রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রচার করেছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন হামলাকারী ২২ বছর বয়সী টাইলার রবিনসন তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেছেন, চার্লি কার্ক ঘৃণা ছড়াতেন—এই অভিযোগ দেখিয়েই তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটান।
কার্ক প্রায়ই রক্ষণশীল খ্রিষ্টান রাজনৈতিক মূল্যবোধের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে তীব্র বক্তব্য দিতেন, যার মধ্যে ছিলেন ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি, মুসলিম, আফ্রিকান-আমেরিকানসহ অনেকে।
রবিনসনের বিরুদ্ধে হত্যাসহ সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, তারা এ মামলায় মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সূত্র: ফক্স নিউজ
মাহফুজ/