যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হঠাৎ করেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত মার্কিন সামরিক বাহিনীর শত শত জেনারেল ও অ্যাডমিরালকে যুক্তরাষ্ট্রে তলব করেছেন। খবর পাওয়া গিয়েছে, এই জেনারেল এবংঅ্যাডমিরাল নিয়ে জরুরিভিত্তিতে ভার্জিনিয়ায় এক জরুরী বৈঠক করছেন হেগসেথ। এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন।
তবে রহস্যময় ওই বৈঠকের উদ্দেশ্য বা এজেন্ডা স্পষ্ট করা হয়নি। তাই এই বৈঠকের উদ্দেশ্য নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ততোধিক গণমাধ্যম এই বৈঠক নিয়ে প্রতিবেদন করেছে।
এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিন বলছে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বিশ্বজুড়ে দায়িত্বে থাকা শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের আগামী সপ্তাহে ভার্জিনিয়ায় এক বৈঠকে ডেকেছেন। বৈঠকের উদ্দেশ্য এবং সময় স্পষ্ট করা হয়নি, এমনকি সেখানে যারা উপস্থিত থাকবেন তাদের কাছেও এসব অজানা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিনকে জানিয়েছেন, এ সপ্তাহের শুরুতে এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে এবং আগামী মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে পেন্টাগনের দক্ষিণে ভার্জিনিয়ার মেরিন কর্পস বেস কোয়ান্টিকোতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ঊর্ধ্বতন এমন সামরিক কর্মকর্তাদের বিশাল সমাবেশ অস্বাভাবিক নয়। ভবিষ্যতের কৌশল এবং নীতিমালা সম্পর্কে আলোচনা করার জন্য বিভিন্ন বাহিনীর শীর্ষ জেনারেলদের একত্রিত করে এরকম সভা আয়োজন করা হয়। চলতি বছরের জুন মাসে ফ্লোরিডার ম্যাকডিল বিমান বাহিনী ঘাঁটিতে বিমান বাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্কের নেতৃত্বে সপ্তাহব্যাপী করোনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কিন্তু বেশিরভাগক্ষেত্রে, এ ধরনের বৈঠক অনেক আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। হেগসেথের ৩০ সেপ্টেম্বরের বৈঠকটি সেভাবে পরিকল্পনা করে করা হচ্ছে না। তাই এটি এই অ্যাডমিরাল এবং জেনারেলদেরও অবাক করেছে এবং তাদের ব্যস্ত সময়সূচী এলোমেলো করে দিয়েছে।
এরকম বিভিন্ন কারণে, বিশ্লেষকরাও মনে করছেন এই সমাবেশ অস্বাভাবিক।
মার্কিন সেনাবাহিনীতে প্রায় ৮০০ জেনারেল ও অ্যাডমিরাল আছেন। তাদের মধ্যে অনেকে হাজার হাজার সেনার দায়িত্বে থাকেন, যাদের অনেকেই সংবেদনশীল বিদেশি ঘাঁটিতে কর্মরত। সাধারণত এসব কর্মকর্তাদের সময়সূচি কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই নির্ধারিত হয়ে থাকে।
এক সামরিক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “এখন সবাই তাদের সময়সূচি বদলাতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং ভাবছেন তাদের সেখানে (ভার্জিনিয়ায় বৈঠকে যোগ দিতে) যাওয়া বাধ্যতামূলক কি না।”
পেন্টাগনের মুখপাত্র পারনেল শুধু বলেন, “আগামী সপ্তাহের শুরুতেই যুদ্ধমন্ত্রী তার জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন।”
এর আগে গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বৈঠককে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার কথা জানান। তিনি বলেন, “আমি এটা ভালোবাসি। আমার কাছে দারুণ মনে হচ্ছে। জেনারেল আর অ্যাডমিরালদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা ভালো।”
গুঞ্জন রয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প ও হেগসেথ প্রতিরক্ষা দপ্তরে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে শুরু করেছেন। এর অংশ হিসেবে যৌথবাহিনী প্রধান জেনারেল সিকিউ ব্রাউনসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা বরখাস্ত হয়েছেন।
গত মে মাসে ট্রাম্প চার-তারকা জেনারেলের সংখ্যা ২০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পুরো সেনাবাহিনীতে জেনারেল ও ফ্ল্যাগ অফিসারের সংখ্যা ১০ শতাংশ হ্রাসেরও ঘোষণা আসে।
চলতি মাসের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক নির্দেশে প্রতিরক্ষা দপ্তরকে ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ বা যুদ্ধ দপ্তর হিসেবে উল্লেখ করার নীতি ঘোষণা করেন। ১৯৪৯ সালের আগে পর্যন্ত এ নামেই পরিচিত ছিল সংস্থাটি। তবে স্থায়ীভাবে নাম পরিবর্তন করতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
এদিকে, পেন্টাগনের মুখপাত্র ৩০ সেপ্টেম্বরের এই বৈঠক সম্পর্কে কোনও বিস্তারিত তথ্য দেননি এবং এই সমাবেশের কোনও অংশ সম্প্রচারিত হবে কিনা বা সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত থাকবে কিনা তাও জানাননি।
সুলতানা দিনা/