গাজার উদ্দেশে ত্রাণ নিয়ে রওনা হওয়া বেসামরিক নৌবহর দ্য গ্লোবাল সুমুড ফ্লোটিলা ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়’ অবস্থান করছে। গতকাল বুধবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফ্লোটিলার অবস্থান ছিল গাজা থেকে ১১৮ নটিক্যাল মাইল দূরে।
এর আগে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে বারবারই থমকে গেছে ফ্লোটিলার যাত্রা। তবে এবার স্পেন, ইতালি, তুরস্কের মতো দেশগুলো ফ্লোটিলার সুরক্ষায় কাজ করছে। আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে ফ্লোটিলা যাতে নিরাপদে যেতে পারে সে লক্ষ্যে ফ্লোটিলার পাশেই আছে স্পেন ও ইতালির নৌবাহিনীর জাহাজ। এ ছাড়া আকাশপথে ইসরায়েল যাতে হামলা চালাতে না পারে, সে জন্য মাথার ওপরে ড্রোন দিয়ে সুরক্ষা নিশ্চিত করছে তুরস্ক।
জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার ফ্র্যান্সেসকা অ্যালবানিজ ও কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো ফ্লোটিলাকে নিরাপদে যেতে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। গাজার কাছাকাছি চলে যাওয়া ফ্লোটিলা থেকে বর্তমানে লাইভ ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। মূলত নৌযানগুলোতে অবস্থানরত সবাই যাতে নিরাপদে থাকে, সে লক্ষ্যে করা হচ্ছে বিষয়টি।
ইসরায়েল এরই মধ্যে গাজা অভিমুখে যেতে থাকা ফ্লোটিলাকে ঠেকাবে বলে জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুসারে, ফ্লোটিলার মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকরা বৈধ নৌ অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টা করছে।
তবে মানবিক ত্রাণ যেতে দেওয়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন স্পষ্ট। ফ্লোটিলার যেতে কোনো বাধা নেই। গতকালও গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় প্রাণহানি হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৫১ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম ওয়াইনেটের খবর বলছে, ফ্লোটিলাকে ঠেকাতে ৫০০ পুলিশ মোতায়েন করবে ইসরায়েল। তারা আশদদ বন্দরে থাকবে অধিকারকর্মীদের ঠেকানোর জন্য। ওই বন্দরের আশপাশের হাসপাতালগুলোকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অধিকারকর্মীদের আটক করে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর জাহাজে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। পরে সেখান থেকে তাদের ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়ার পর কেটজিওট কারাগারে রাখা হবে। অধিকারকর্মীদের মধ্যে যারা ইসরায়েলের নির্দেশনা মানবে, তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। ফ্লোটিলার কিছু নৌযান তীরে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে, আর বাকিগুলো ডুবিয়ে দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা