থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে সীমান্ত এলাকায় ‘ভূতের মতো ভয়াবহ শব্দ’ বাজিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলেছে কম্বোডিয়া। দেশটির মানবাধিকার কমিশন বলছে, এটি মানসিক যুদ্ধের (সাইকোলজিকাল ওয়ারফেয়ার) অংশ।
চলতি বছরের জুলাইয়ে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও নতুন এই বিতর্কের মাধ্যমে আবার উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান সিনেট সভাপতি হুন সেন ফেসবুকে এক পোস্টে জানান, মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের কাছে অভিযোগ পাঠিয়েছে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ড সীমান্ত এলাকায় ‘উচ্চস্বরে, ভৌতিক ও তীক্ষ্ণ শব্দ’ বাজিয়ে মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন করেছে।
কম্বোডিয়ার মানবাধিকার কমিশনের দাবি, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী থাই সেনারা রাতে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে ‘ভূতের মতো আর্তনাদ’ ও বিমানের ইঞ্জিনের আওয়াজ বাজাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এসব শব্দ স্থানীয়দের ঘুম নষ্ট করছে, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এবং শারীরিক অস্বস্তি সৃষ্টি করছে।
কমিশন সতর্ক করে বলেছে, এমন কর্মকাণ্ড দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। তবে, এখন পর্যন্ত থাই সরকার এই অভিযোগ সম্পর্কে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
হুন সেন জানান, কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। মালয়েশিয়া গত জুলাইয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করাতে মধ্যস্থতা করেছিল।
এদিকে, থাইল্যান্ড অভিযোগ করেছে, কম্বোডিয়া সীমান্ত এলাকায় নতুন করে স্থলমাইন বসাচ্ছে। জুলাই থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ছয় থাই সেনা স্থলমাইনের বিস্ফোরণে আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
তবে কম্বোডিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, থাই সেনারা দেশটির পুরোনো গৃহযুদ্ধ চলাকালে নিজেদের পোঁতা স্থলমাইনের ওপর পা রেখেই আহত হয়েছেন।
সুলতানা দিনা/