মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনকে বর্তমান যুদ্ধরেখায় যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানিয়েছেন। আর তা বাস্তবায়িত হলে মস্কো ইউক্রেনের বিশাল অংশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প বলেন, উভয় পক্ষের এখনই যুদ্ধ বন্ধ করা উচিত এবং ভূখণ্ডসংক্রান্ত বিস্তারিত বিষয়গুলো ভবিষ্যতের আলোচনায় সমাধান করা যেতে পারে। বর্তমানে যুদ্ধরেখা ইউক্রেনের শিল্পাঞ্চল দনবাস দিয়ে অতিক্রম করছে।
ট্রাম্প বলেন, “আমার কথা হলো—তারা এখনই যুদ্ধরেখায় থামুক, ঘরে ফিরে যাক, মানুষ হত্যা বন্ধ করুক এবং এখানেই শেষ হোক।” তিনি আরও জানান, চূড়ান্ত সমাধানের বিস্তারিত বিষয়ে আলোচনা করা কঠিন হবে।
দনবাসের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, “যেভাবে এখন বিভক্ত, সেভাবেই থাকুক। এখন দনবাসের প্রায় ৭৮ শতাংশ এলাকা রাশিয়ার দখলে আছে। আপাতত এভাবেই রেখে দেওয়া হোক, পরে কোনো সময়ে তারা আলোচনা করতে পারে।”
ইউক্রেন পূর্বে থেকেই দাবি করে আসছে যে তারা তাদের সমগ্র ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করবে। ট্রাম্প নিজেও গত মাসে বলেছিলেন, ইউক্রেন সামরিকভাবে জয়লাভ করতে পারে এবং রাশিয়ার দখল করা সব অঞ্চল—যার মধ্যে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ ও পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য এলাকা রয়েছে—ফিরিয়ে নিতে পারে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্প আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হাঙ্গেরিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে আতিথ্য দেন এবং বলেন, “যদি উভয় পক্ষ নমনীয়তা দেখায়, তাহলে দ্রুত যুদ্ধের অবসান ঘটানো সম্ভব।”
রবিবার জেলেনস্কি ট্রাম্পকে আহ্বান জানান পুতিনের ওপর আরও চাপ প্রয়োগ করতে। এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি পুতিনকে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “পুতিন হামাসের মতো, তবে আরও শক্তিশালী।”
গত সপ্তাহে জেলেনস্কি বলেন, গাজায় ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর জন্যও “একটি গতি” তৈরি করেছে।
এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আবারও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দীর্ঘপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছেন। জেলেনস্কির ভাষায়, ট্রাম্প এ অনুরোধে সরাসরি না বলেননি, আবার হ্যাঁ-ও বলেননি।
সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নিজের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রাখা।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সামরিক, বাজেট ও মানবিক সহায়তায় কয়েকশো কোটি ডলার দিয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনকে দেওয়া সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোকে উৎসাহিত করছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনে কিয়েভকে সহায়তা দিতে।
রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান চালায় যা পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়। আক্রমণের হেতু হিসেবে রাশিয়া যুক্তি দেখায়, ন্যাটোর সম্প্রসারণ সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলোর দিকে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রাথমিক আক্রমণের সময় ইউক্রেনীয় বাহিনী কিয়েভ দখলের রুশ প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। তবে যুদ্ধ এখন দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে, যার মূল কেন্দ্রবিন্দু পূর্ব ইউক্রেনের অঞ্চলগুলো। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/