আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে অভিবাসন প্রত্যাশীদের অবস্থান করা একটি হোটেলের সামনে আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার জেরে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইরিশ পুলিশ।
বুধবার (২২ অক্টোবর) রাতে সরকারের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় এদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকেই হাজার হাজার আইরিশ বিক্ষোভকারী শহরের কেন্দ্রে জড়ো হন। তারা মিছিল করে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।
আন্দোলনকারীদের হাতে দেখা যায় আয়ারল্যান্ডের জাতীয় পতাকা, সঙ্গে রয়েছে ‘আইরিশ লাইভস ম্যাটার’ ও ‘গেট দেম আউট’ লেখা পোস্টার এবং প্ল্যাকার্ড।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বুধবার বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে বোতল এবং আতশবাজি ছুঁড়ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, একজন পুলিশ কর্মকর্তার মাথায় বোতলের আঘাত লাগে এবং আরেকজনের হাত ও কাঁধে আঘাত লাগে, তাদের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আইরিশ আইনমন্ত্রী জিম ও’ক্যালাহান পুলিশের সাহসী এবং পেশাদার আচরণের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘এই গুন্ডামির সহিংসতার মোকাবিলা তারা সাহসের সঙ্গে করেছে।’
তিনি এক্স-এ লিখেছেন, ‘অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও গ্রেপ্তার হবে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হবে, তাদের নাম প্রকাশ করা হবে এবং আমাদের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা তাদের কঠোরভাবে শাস্তি দেবে।’
এর আগে ডাবলিনের দক্ষিণ-পশ্চিমে সাগার্টের সিটিওয়েস্ট হোটেলের বাইরে সোমবার থেকে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। এই বিক্ষোভ শুরু হয় একজন ২৬ বছর বয়সী ব্যক্তির গ্রেপ্তারের পর, যিনি একটি ১০ বছরের মেয়ের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি একজন বিদেশি নাগরিক। এ বছরের শুরুতে আশ্রয় আবেদন বাতিল হওয়ার পর তাকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবার আইরিশ সংসদে বিরোধী দল সিন ফেইনের নেত্রী মেরি লু ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘দেশের আশ্রয় ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা থাকা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘যদি কারও বিরুদ্ধে দেশত্যাগের নির্দেশ থাকে এবং তারপরেনও তিনি যদি দেশে থেকে যান, তা জনগণের জন্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক।’
অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের তুলনায় আয়ারল্যান্ডে চরম ডানপন্থি রাজনীতি খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসীদের আগমন রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে যাওয়ায় জনগণের মধ্যে অভিবাসনের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব বেড়েছে।
গত বছর আইরিশ টাইমস/ইপসস বি অ্যান্ড এ স্ন্যাপশট জনমত জরিপে ৫৯ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা আরও কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে।
২০২৩ সালে, একজন আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত আইরিশ নাগরিক একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরে তিন শিশু এবং একজন স্কুল কর্মীকে ছুরি দিয়ে আহত করার পর ডাবলিনে অভিবাসনবিরোধী দাঙ্গা শুরু হয়েছিল।
সুমন/