শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা বাবা গুরু নানক দেব জির জন্মবার্ষিকী উদযাপনে অংশ নেওয়ার জন্য পাকিস্তান হাই কমিশন ২,১০০টিরও বেশি ভারতীয় শিখ তীর্থযাত্রীকে ভিসা দিয়েছে।
আগামী ৪ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত পাকিস্তানে এই ধর্মীয় উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
পাকিস্তান এবং ভারতের মধ্যে সামরিক সংঘাত ও উত্তেজনা সত্ত্বেও এই বিপুল সংখ্যক ভিসা প্রদানকে দুই পরমাণু-সশস্ত্র প্রতিবেশীর মধ্যে সহযোগিতার একটি বিরল নিদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সফরের বিস্তারিত:
ভিসা প্রদান: নয়াদিল্লিতে অবস্থিত পাকিস্তান হাই কমিশন সূত্রে জানা গেছে, 'Religious Shrines, 1974' (ধর্মীয় তীর্থস্থান পরিদর্শন সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক প্রোটোকল, ১৯৭৪) কাঠামোর অধীনে এই ভিসাগুলো ইস্যু করা হয়েছে।
তীর্থস্থান পরিদর্শন: এই সফরে তীর্থযাত্রীরা গুরু নানক দেব জির জন্মস্থান গুরুদ্বারা নানকানা সাহেব, গুরুদ্বারা পাঞ্জা সাহেব এবং গুরুদ্বারা কর্তারপুর সাহেব সহ পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের অন্যান্য পবিত্র গুরুদ্বারা পরিদর্শন করবেন।
কর্তারপুর করিডোর: উল্লেখ্য, ভারত থেকে শিখ তীর্থযাত্রীরা প্রতি বছর ভিসা-মুক্ত কর্তারপুর করিডোর ব্যবহার করেও পাকিস্তানের ঐতিহাসিক গুরুদ্বারা দর্শন করেন। এই করিডোরটি দুই দেশের মধ্যে ধর্মীয় আদান-প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
পাকিস্তান হাই কমিশনের বার্তা:
ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তানের চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্স সাদ আহমদ ওয়্যারাইচ এই উপলক্ষে শিখ তীর্থযাত্রীদের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান আন্তঃধর্মীয় ও আন্তঃসাংস্কৃতিক সম্প্রীতি এবং বোঝাপড়াকে উৎসাহিত করার প্রতি তার অটল প্রতিশ্রুতি মেনে পবিত্র তীর্থস্থান পরিদর্শনে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানে দেশভাগের পর শিখ ঐতিহ্যের বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাকিস্তানে রয়ে যায়। গুরু নানক দেব জির সবচেয়ে পবিত্র মন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম কর্তারপুর সাহিব পাকিস্তানের দিকেই পড়ে। দীর্ঘ সাত দশক ধরে শিখ সম্প্রদায়ের দাবির পর ২০১৯ সালে পাকিস্তান এই করিডোর খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়।
মেহেদী/