ইসরায়েল ও মিসরের মধ্যে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের গ্যাস চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানানোয় মার্কিন জ্বালানি সচিবের ইসরায়েল সফর বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেন।
গত বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাতে কোহেনের দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য মার্কিন কর্মকর্তারা ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ওপর “তীব্র চাপ” দিচ্ছিলেন। তবে ইসরায়েলি মন্ত্রী জানিয়েছেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত ইসরায়েলের স্বার্থ সুরক্ষিত না হয় এবং স্থানীয় বাজারের জন্য ন্যায্য মূল্য নির্ধারিত না হয়,” ততক্ষণ তিনি এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোহেনের এ সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট তার নির্ধারিত ইসরায়েল সফর বাতিল করেছেন।
কোহেনের চুক্তিতে স্বাক্ষর না করায় ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গ্যাস রপ্তানি চুক্তির অগ্রগতি আপাতত স্থগিত হয়ে গেল। কোহেনের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির মাধ্যমে লেভিয়াথান গ্যাসক্ষেত্র থেকে মিসরে প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি করার কথা ছিল।
লেভিয়াথান গ্যাসক্ষেত্রটি ভূমধ্যসাগরে, উত্তর ইসরায়েলের উপকূল থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার (৮০ মাইল) দূরে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গ্যাস কোম্পানি শেভরন (Chevron) ওই স্থাপনা পরিচালনা করে।
কোহেনের এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও মিসরের সম্পর্ক উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই দুই দেশই ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতির মূল মধ্যস্থতাকারী, যার ফলে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
কোহেনের দপ্তরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও মিসরের মধ্যে “রাজনৈতিক ইস্যুগুলো সমাধানের প্রচেষ্টা চলছে,” তবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্র: অ্যাসোসিয়েইটেড প্রেস (এপি)
মাহফুজ/