যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সরকারি শাটডাউনের কারণে দেশজুড়ে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে যাচ্ছে। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ৪০টি প্রধান বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে, ফলে প্রতিদিন তিন হাজার ৫০০ থেকে চার হাজার ফ্লাইট বাতিল হতে পারে।
এই সিদ্ধান্ত মূলত নেওয়া হয়েছে ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) বিমান নিয়ন্ত্রণকারীদের চরম ক্লান্তি ও কর্মীসংকটের কারণে। প্রায় ১৪ লাখ ফেডারেল কর্মী বেতন ছাড়াই কাজ করছেন বা বাধ্যতামূলক ছুটিতে রয়েছেন, কারণ কংগ্রেস এখনো বাজেট পাস করতে পারেনি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শাটডাউন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফ্লাইট হ্রাস ধাপে ধাপে কার্যকর হবে—আজ শুক্রবার থেকে ৪ শতাংশ কমানো শুরু হয়ে ১৪ নভেম্বরের মধ্যে তা ১০ শতাংশে পৌঁছাবে। এর প্রভাব পড়বে আটলান্টা, নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোতে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এ সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে না।
এফএএ প্রধান ব্রায়ান বেডফোর্ড বলেছেন, “এটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। আমাদের নিয়ন্ত্রণকারীরা এক মাস ধরে বেতন না পেয়ে কাজ করছেন—এটিও অস্বাভাবিক।” ডাফি বলেন, “নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, তথ্য ও ঝুঁকি বিশ্লেষণের ফল।”
বেশ কয়েকটি শ্রমিক ইউনিয়ন জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রণকারীদের মধ্যে অনেকে মানসিক চাপে অসুস্থ হচ্ছেন বা টিকে থাকার জন্য দ্বিতীয় চাকরি নিচ্ছেন। কেউ কেউ খাবার সরবরাহকারী সার্ভিসে কাজ করছেন, কেউ আবার কাজে যাওয়ার মতো টাকাও পাচ্ছেন না।
এয়ারলাইনগুলো যাত্রীদের সতর্ক করেছে সম্ভাব্য বিলম্ব বা বাতিলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে। আমেরিকান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তারা এফএএ-এর কাছ থেকে আরও নির্দেশনার অপেক্ষায় আছে। ডেল্টা এয়ারলাইনস বলেছে, তাদের বেশিরভাগ ফ্লাইট নির্ধারিত সময়েই চলবে এবং গ্রাহকেরা জরিমানা ছাড়াই ফ্লাইট পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারবেন।
সরকারি বাজেট অনুমোদন না হওয়ায় ‘অপ্রয়োজনীয়’ সংস্থাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ এবং ‘অত্যাবশ্যক’ কর্মীদের বেতন ছাড়াই কাজ করতে হচ্ছে। এতে বিমান চলাচলসহ নানা খাতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ডাফি সতর্ক করেছেন, অবস্থা চলতে থাকলে নিরাপত্তা ও ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় আরও বড় সংকট দেখা দিতে পারে। সূত্র: বিবিসি
মাহফুজ/