রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর পর আসন্ন ডিসেম্বর মাসে ভারতকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বাড়াচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদক দেশগুলো—সৌদি আরব, ইরাক ও কুয়েত। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ভারতের চারটি শোধনাগারের সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা কঠোর হওয়ায় অনেক ভারতীয় রিফাইনারি সাময়িকভাবে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ রেখেছে। এর ফলে তেলের চাহিদা আবারও মধ্যপ্রাচ্যমুখী হচ্ছে, যা ওপেকভুক্ত দেশগুলোকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেলভোক্তা ও আমদানিকারক দেশ ভারতে তাদের বাজারশেয়ার পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিচ্ছে।
গত মাসে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার শীর্ষ তেল উৎপাদক প্রতিষ্ঠান রসনেফট ও লুকওয়েলের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে করে ভারত ও চীনের ক্রেতারা আশঙ্কায় রাশিয়ান তেল কেনা কমিয়ে দেয়, ফলে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যে তাৎক্ষণিক বিঘ্ন ঘটে।
ভারতের রিফাইনারিগুলো জানিয়েছে, ওপেকের দুটি প্রধান উৎপাদক সৌদি আরব ও ইরাক তাদের অনুরোধ অনুযায়ী ডিসেম্বর মাসে পূর্ণ বরাদ্দ দিয়েছে। একাধিক সূত্র জানায়, অন্তত একটি ভারতীয় শোধনাগার আগের মাসের তুলনায় ইরাক থেকে আরও বেশি সরবরাহ পাচ্ছে।
আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরামকোও এক ভারতীয় রিফাইনারির জন্য তেলের সরবরাহ বাড়িয়েছে। তবে আরামকো এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ইরাকের রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন সংস্থা সোমো (SOMO) থেকেও কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
দুইটি পৃথক সূত্র জানিয়েছে, কুয়েত পেট্রোলিয়াম নভেম্বর ও ডিসেম্বর—দুই মাসেই ভারতীয় শোধনাগারগুলোতে তেল সরবরাহ বাড়াচ্ছে। এক রিফাইনারি কর্মকর্তা বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহকারীরা বর্তমানে পর্যাপ্ত তেল মজুত রেখেছে এবং তারা ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য সেটি সহজলভ্য করছে।”
সৌদি আরামকো ও সোমো সম্প্রতি তাদের সরকারি বিক্রয়মূল্য কমানোর পর ভারতীয় শোধনাগারগুলো তেলের সরবরাহ বাড়াতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকে ভারতীয় তেল ক্রেতারা মধ্যপ্রাচ্য, ইরাক এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্পট মার্কেট থেকে ব্যাপকভাবে অপরিশোধিত তেল কিনছে। সূত্র: রয়টার্স
মাহফুজ/