অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের একটি দূরবর্তী সৈকতে সাঁতার কাটতে নেমে হাঙরের হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় একজন যুবককে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে সিডনি থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার উত্তরে ক্রাউডি বে ন্যাশনাল পার্কের কাইলিস বিচে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত নারীর বয়স আনুমানিক ২০-এর কোঠায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। একই বয়সী আহত যুবকের পায়ে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়। উপস্থিত এক দর্শনার্থী দ্রুত তার পায়ে টুর্নিকেট বেঁধে রক্তক্ষরণ কমানোর চেষ্টা করেন। এ সাহসী পদক্ষেপেই যুবকের জীবন রক্ষা সম্ভব হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
নিউ সাউথ ওয়েলস অ্যাম্বুলেন্সের সুপারিনটেনডেন্ট জশ স্মাইথ বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের এমন দ্রুত ও সাহসী উদ্যোগ সত্যিই বিস্ময়কর। এতে আমরা রোগীর কাছে পৌঁছানোর জন্য মূল্যবান সময় পেয়েছি।
অস্ট্রেলিয়ার প্রাইমারি ইন্ডাস্ট্রিজ বিভাগ জানিয়েছে, হামলাকারী হাঙরটি বড় আকৃতির বুল শার্ক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মিঠাপানি ও লবণপানি উভয় পরিবেশে চলাচল করতে সক্ষম বুল শার্ককে মানুষের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতির একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আন্তর্জাতিক শার্ক অ্যাটাক ফাইল অনুযায়ী এটি বিশ্বের তৃতীয় সবচেয়ে প্রাণঘাতী হাঙর।
ঘটনার পর কাইলিস বিচসহ আশপাশের সৈকতগুলো ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এলাকায় “স্মার্ট” ড্রামলাইন বসানো হচ্ছে এবং ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সার্ফ লাইফ সেভিং নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রধান নির্বাহী স্টিভ পিয়ার্স বলেন, এটি সত্যিই ভয়াবহ একটি ঘটনা। নিহত নারী ও আহত যুবকের পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা। আপাতত সবাইকে পানিতে না নামার অনুরোধ করছি এবং লাইফগার্ডদের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।
চলতি বছর এটি অস্ট্রেলিয়ায় পঞ্চম প্রাণঘাতী হাঙর হামলা। তিন মাসেরও কম সময় আগে সিডনির নর্দান বিচ এলাকায় বিরল এক হাঙর হামলায় একজন পুরুষের মৃত্যু হয়।
মেহেদী/