মিশর ও ইরান ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে সিয়াটলে অনুষ্ঠিতব্য নিজেদের ম্যাচকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত এলজিবিটিকিউ+ প্রাইড উদযাপন বন্ধে ফিফার হস্তক্ষেপ চেয়েছে। স্থানীয় আয়োজকদের উদ্যোগে ২৬ জুনের ওই ম্যাচটিকে “প্রাইড ম্যাচ” হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা সিয়াটলের প্রাইড উইকেন্ডের সঙ্গে মিল রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) ফিফাকে চিঠি পাঠিয়ে ম্যাচ চলাকালে প্রাইড–সম্পর্কিত কোনো উদযাপন বা প্রদর্শনী না করার অনুরোধ জানায়। ইএফএ জানায়, এমন আয়োজন অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
চিঠিতে ফিফার মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রমকে জানানো হয়, ফিফার সংবিধানের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক ও সামাজিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কথা বলা আছে। সে অনুযায়ী মাঠের ভেতরে ও বাইরে এমন কোনো কার্যক্রম হওয়া উচিত নয়, যা বিতর্ক বা উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ জানিয়েছেন, প্রাইড–উদযাপনকে “অযৌক্তিক ও পক্ষপাতমূলক উদ্যোগ” হিসেবে দেখছে তেহরান ও কায়রো। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফায় আপিল করবে।
স্থানীয় কমিটি জানিয়েছে, প্রাইড–সংক্রান্ত উদযাপন তাদের নিজস্ব উদ্যোগ; ফিফা এতে সরাসরি যুক্ত নয়। ফিফা এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, মিশর ও ইরান উভয় দেশেই এলজিবিটিকিউ+ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। কাতার বিশ্বকাপে “ওয়ানলাভ” আর্মব্যান্ড বিতর্কের পর এবারও বিষয়টি বিশ্বকাপের আগে বড় আলোচনায় এসেছে।
উল্লেখ্য, LGBTQ+ হল একটি সংক্ষিপ্ত রূপ যার অর্থ হল: লেসবিয়ান (Lesbian), গে (Gay), বাইসেক্সুয়াল (Bisexual), ট্রান্সজেন্ডার (Transgender), কুইয়ার (Queer), অথবা কোয়েশ্চনিং (Questioning), এবং আরও অনেকে।
"প্লাস" (Plus/+) অন্যান্য যৌন পরিচয়গুলিকে প্রতিনিধিত্ব করে, যেমন প্যানসেক্সুয়াল (pansexual), টু-স্পিরিট (Two-Spirit) এবং ইন্টারসেক্সুয়াল (intersexual)।
এই সংক্ষিপ্ত রূপটির প্রথম চারটি অক্ষর (LGBT) সাধারণত ১৯৯০-এর দশক থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে, সম্প্রতি, আরও ভালো অন্তর্ভুক্তি তৈরির জন্য অন্যান্য যৌন পরিচয়গুলিকে যুক্ত করা হয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মেহেদী/