সিরিয়ার একটি ঐতিহাসিক মধ্যাঞ্চলীয় শহরে শনিবার সফরের সময় মার্কিন ও সিরীয় বাহিনীর ওপর হামলায় দুইজন মার্কিন সেনা এবং একজন মার্কিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহত বেসামরিক ব্যক্তি একজন দোভাষী হিসেবে কাজ করছিলেন, মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সৈন্যরা যখন একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক’ করছিলেন, তখন এই হামলা ঘটে। এতে আরও তিনজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, “এই মিশনটি ছিল অঞ্চলটিতে চলমান আইএসবিরোধী ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সহায়তায়।” নিহত সেনাদের নাম এবং তাদের ইউনিটসংক্রান্ত পরিচয় তথ্য আত্মীয়স্বজনকে জানানো শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ করা হবে না বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, “হামলাটি বর্তমানে সক্রিয়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।”
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, এই হামলাটি সিরিয়ায় একক আইএস জঙ্গির পরিকল্পিত অতর্কিত হামলার ফল। হামলাকারীর বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং তাকে ঘটনাস্থলেই হত্যা করা হয়েছে।
আইএসবিরোধী আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে শতাধিক সেনা মোতায়েন করে রেখেছে।
গত মাসে সিরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে আইএসবিরোধী আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দেয়। গত বছর বিদ্রোহীদের হাতে রাজধানী দামেস্কের ক্ষমতা হারানোর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দামেস্কের সম্পর্ক উন্নত হতে শুরু করে।
আসাদ শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সিরিয়ার কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল না। তবে প্রায় পাঁচ দশকের আসাদ পরিবারের শাসনের অবসানের পর দুই দেশের সম্পর্ক উষ্ণ হয়েছে। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারা গত মাসে ঐতিহাসিক সফরে ওয়াশিংটন গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন।
২০১৯ সালে সিরিয়ায় আইএস পরাজিত হলেও সংগঠনটির স্লিপার সেল এখনো দেশে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সিরিয়া ও ইরাকে আইএসের ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার যোদ্ধা সক্রিয় রয়েছে।
আইএসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন অঞ্চলে, এর মধ্যে হোমস প্রদেশের আল-তানফ ঘাঁটিসহ, মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি রয়েছে। অতীতেও এসব সেনার ওপর হামলা হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি ঘটে ২০১৯ সালে উত্তরাঞ্চলীয় মানবিজ শহরে, যেখানে টহল চলাকালে এক বিস্ফোরণে দুই মার্কিন সেনা, দুই মার্কিন বেসামরিক নাগরিক এবং সিরিয়ার কয়েকজন নাগরিক নিহত হন। সূত্র: সেন্টকম, সিবিএস নিউজ
মাহফুজ/